স্ট্যাটেজিক ইনভেস্টর ইস্যুতে কালক্ষেপণ নয়

দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) চলতি বছরের শুরু থেকেই টালমাটাল অবস্থায় চলছে। একদিন একটু ভাল থাকলে আরও দুদিন মন্দা-এই অবস্থা হয়ে উঠেছে দেশের শেয়ারবাজারের নিত্য দিনের সঙ্গী।

সাম্প্রতিক এ অবস্থার কারণ হিসাবে বছরের প্রথম দিকে ব্যাংক খাতে অস্বস্থিকর পরিস্থিতি, পরে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মামলায় সাজা এবং এরপর ডিএসইর স্ট্যাটেজিক পার্টনার ইস্যুতে বাজার টালমাটাল বলে মনে করছেন আর্থিক খাতের বিশ্লেষকরা।

কিন্তু প্রশ্ন হলো-এ অবস্থা চলবে আর কতদিন?  সাধারণ মানুষ ও বিনিয়োগকারীদের এ সংশয়ের উত্তর দেওয়ার কী কেউ নেই।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ি, বেশ কয়েক বছর ধরেই দেশের দুই পুঁজিবাজারে কৌশলগত বিনিয়োগকারী (স্ট্যাটেজিক ইনভেস্টর) নেওয়ার বিষয়ে আলাপ আলোচনা চলছে। দীর্ঘ সময় সার্চ দেওয়ার পর বিগত বছরের শেষ দিকে এসে এ বিষয়ে বিভিন্ন দেশের সায় পেতে থাকে ডিএসই ও সিএসই। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে পৃথকভাবে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের আলাপ আলোচনা চলতে থাকে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মতৈক্যে না পৌছাতে পারলেও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ইতোমধ্যে বেশ কিছু প্রস্তাবকে আমলে নিয়েছে। সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দরপ্রস্তাব বিচার বিশ্লেষণ করে চীনের সাংহাই ও সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের সমন্বয়ে গঠিত চীনা কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবকে অধিক লাভজনক ও সঙ্গতিপূর্ণ মনে করছে। আর এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টিতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে অনুমোদনের জন্যেআবেদন করেছে।

কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কমিশন অত্যন্ত ধীরগতিতে কাজ করছে বলে মনে করছেন আর্থিক খাতের বিশ্লেষকরা।

বিএসইসির এই ধীরগতিকে ভারতীয় স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবকে গ্রহন করার অপকৌশল বলেও সমালোচনা করেছে বেসরকারি গবেষণা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারণ্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এ নিয়ে দুই সংস্থার মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিতেও দেখা গেছে। অনেকে আবার এ বিষয়ে টিআইবির হস্তক্ষেপকে আযাচিত বলেও মনে করছে।

বিএসইসি কর্তৃপক্ষের মতে, কৌশলগত বিনিয়োগকারী নিয়ে ডিএসইর দেওয়া চীনা কনসর্টিয়ামের প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে বিএসইসি। এটা রাতারাতি হয়ে যাবে এমনটি ভাবা ঠিক হয়। কৌশলগত বিনিয়োগকারী নেওয়ার বিষয়টাই দীর্ঘ মেয়াদী। আইনের মধ্য থেকে ডিএসইর প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে কমিটি। এখানে অন্য কোনো প্রস্তাব বিএসইসির কাছে নেই। তাই এ নিয়ে আতঙ্কিত বা উদ্বেগের কিছু নেই।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার বিগত দিনের সকল কেলেঙ্কারি ঘুটিয়ে বর্তমানে একটি সম্ভাবনাময় ভীতের উপর দাড়াতে সক্ষম হয়েছে। এটি সম্ভব হয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বলিষ্ঠ পদক্ষেপের কারণেই। এক্ষেত্রে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার ভূমিকা থাকলেও মূল কাজটি করতে হচ্ছে বিএসইসিকেই। বিগত কয়েক বছরে আইনি কাঠামো সংস্কার-জবাবদিহীতা ও স্বচ্ছতার জায়গায় বিএসইসি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে বাজারে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এখন আবারো বাজারের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন বিনিয়োগকারীরা। ঠিক এমনি অবস্থায় কৌশলগত বিনিয়োগকারী ইস্যুতে যেনো আবারো পিছু হটতে না হয়; সে বিষয়ে সর্বদাই খেয়াল রাখা উচিত। সাধারন বা প্রাতিষ্ঠানিক কিংবা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসাবে পরিগণিত হচ্ছে। আর এ জন্যই সম্প্রতি অনেকাংশে পুঁজিবাজার সংকুচিত হয়ে উঠেছে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। কৌশলগত বিনিয়োগকারী সারাজীবনের জন্য দেশের পুঁজিবাজারের অংশীদার হবে; তা ভাবার কোনো কারণ নেই। নির্ধারিত সময় শেষে তারা চলে যাবে, আবার হয়তো নতুন কেউ আসবে। তাই বিষয়টি নিয়ে অতি দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছা উচিত বলে মনে করেন আর্থিক খাতের বুদ্ধারা। আর এ বিষয়ের সুরাহা হলে বাজারে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলেও মনে করছেন তারা।

(বিনিয়োগবার্তা/১৭ মার্চ ২০১৮)


Comment As:

Comment (0)