এডিআর সমন্বয়ে আরও তিনমাস সময় পেল ব্যাংকগুলো

প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) সমন্বয়ের জন্য ব্যাংকগুলোকে আবারও সময় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সময় অনুযায়ী আগামী মার্চের মধ্যে এডিআর সমন্বয় করতে হবে। গত ৩০ জানুয়ারি এডিআর কমানোর পর তা সমন্বয়ের জন্য এ নিয়ে তিনবার সময় বাড়ালো কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গত ১ এপ্রিল ব্যাংক মালিকদের সংগঠন ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (বিএবি) সঙ্গে রাজধানীর প্যানপ্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে গভর্নর ফজলে কবিরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেন। বৈঠকে বিএবির সদস্যরা এডিআর সমন্বয়ের সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জানান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জারিকৃত সার্কুলারে বলা হয়েছে, আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে সব ব্যাংককে এডিআর সমন্বয় করতে হবে। নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বর্তমানে এডিআর বেশি থাকা ব্যাংকগুলোকে আগে কমিটমেন্ট করা কোনো নন-ফান্ডেড দায় ফান্ডেড ঋণে পরিণত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায় সম্পদ ব্যবস্থাপনা (এএলএম) নীতিমালা মেনে করতে হবে।

সার্কুলারে আরও উল্লেখ করা হয় এডিআর নির্ধারিত সীমায় রয়েছে এমন ব্যাংকগুলোকেও নতুন ঋণ মঞ্জুরের ক্ষেত্রে দায়-সম্পদ নীতিমালা মানতে হবে। যাদের এডিআর বেশি রয়েছে সেসব ব্যাংককে আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে নির্ধারিত সময়সীমায় নামিয়ে আনার একটি কার্যপরিকল্পনা অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগে দাখিল করতে হবে। পরে প্রতি মাসের ১০ কার্য দিবসের মধ্যে এডিআর সমন্বয়ের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

উল্লেখ্য ঋণপ্রবৃদ্ধি ব্যাপক হারে বাড়তে থাকায় ব্যাংকগুলোর ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) কমিয়ে গত ৩০ জানুয়ারি একটি সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সার্কুলারে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে এডিআর কমিয়ে প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর জন্য ৮৩ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য ৮৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে বলা হয়। আগে যা ৮৫ ও ৯০ শতাংশ ছিল। এরপর ২০ ফেব্রুয়ারি আরেকটি সার্কুলারের মাধ্যমে সময় বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর করা হয়।

এদিকে তারল্য সঙ্কটের কথা বলে বিভিন্ন দাবিতে সরব হয় বিএবি। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩১ মার্চ এক বৈঠকে সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। এরপর ১ এপ্রিলের বৈঠক শেষে সিআরআর সাড়ে ৬ শতাংশের পরিবর্তে সাড়ে ৫ শতাংশ এবং রেপোর সুদহার বিদ্যমান ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬ শতাংশ পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

(এসএএম/ ১০ এপ্রিল ২০১৮)


Comment As:

Comment (0)