এবারও চমক দেখিয়েছে নরসিংদীর এন কে এম হাই স্কুল এন্ড হোমস
নরসিংদী প্রতিনিধি, বিনিয়োগবার্তা: এসএসসি পরীক্ষায় ফলাফলে এবারও চমক দেখিয়েছে নরসিংদীর এন কে এম হাই স্কুল এন্ড হোমস্। শত ভাগ পাসসহ দেশের সার্বিক ফলাফলের দিক বিবেচনায় এবারও সারাদেশে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে এ প্রতিষ্ঠানটি।
রবিবার দুপুরে ফলাফল ঘোষণার পর থেকে আনন্দ উৎসবে মেতে উঠে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এস এসসি পরীক্ষায় এ বছর স্কুলটি থেকে ১৩৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে ১৩৭ জন শিক্ষার্থীরাই জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৩৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে ১৩৭ জনই পাশ করে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩৫ জন। ব্যবসায় শিক্ষা থেকে মাত্র ২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২ জনই জিপিএ-৫ পেয়ে সফলতার সাথে পাশ করে। যে দু’জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ প্রাপ্ত থেকে বঞ্চিত হয়েছে তাদের প্রাপ্ত নম্বরের গড় জিপিএ-৪.৮৫।
নরসিংদীতে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের অঙ্গীকার নিয়ে বিশিষ্ট শিল্পপতি থার্মেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাদির মোল্লা ২০০৮ সালে শহরের ভেলানগরে প্রতিষ্ঠা করেন নরসিংদীর এন কে এম হাই স্কুল এন্ড হোমস।
বর্তমানে ৭২ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার সার্বিক তত্ত্বাবধানে কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে স্কুলটি পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১১ সালে শত ভাগ পাসের হার নিয়ে ঢাকা বোর্ডে সেরা বিশের মধ্যে ১৬তম স্থান দখল করেছিল।
এবারও শত ভাগ পাশসহ দেশের সার্বিক ফলাফলের দিক বিবেচনায় সারাদেশে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করে মফস্বল শহরের এই স্কুলটি। তাদের এ সাফল্যে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকেরা হেসে গেয়ে আনন্দ ও উল্লাসে মেতে ওঠে।
গোল্ডেল জিপিএ-৫ পাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া সরকার ইমা বলেন, আমার এ সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। তাঁরা কখনো পিতা-মাতা, কখনো বড় ভাইবোনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে আমাদের পাঠদান করেছেন। আমার এ সাফল্য তাঁদের উৎসর্গ করতে চাই।
বিজ্ঞান বিভাগের আরেক ছাত্র দিবাকর সরকার সাফল্যের কারণ হিসেবে শিক্ষকদের সঠিক দিক নির্দেশনা, নিয়মিত ক্লাস, বিশেষ ক্লাস, হোম ভিজিট, টিউটোরিয়াল ও মাসিক পরীক্ষার কথা জানান। এছাড়া স্কুলের শিক্ষকেরা নিয়মিত বাসায় এসে খোঁজখবর নিতেন। এ কারণে প্রতিনিয়ত লেখাপড়ায় ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। তাই আজ তাদের এ সাফল্য বলে অভিব্যাপ্তি প্রকাশ করেন।
স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল কাদির মোল্লা প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের উচ্ছাসে বলেন, আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি, মফস্বলের খেটে খাওয়া মানুষের সন্তানেরা অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকলেও তাদের পক্ষে ভালো ফল করা সম্ভব। প্রচেষ্টার এখানেই শেষ নয়, আগামী দিনে আরও এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অসীম বাড়ৈ বলেন, এ ফলাফলে আমরা খুবই আনন্দিত। আজকের এ ফলাফল স্কুলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ভবিষৎতে অনুপ্রাণীত করবে। আমি মনে করি কঠোর অধ্যবসায় ও সুশৃঙ্খল ভাবে পাঠদান, কাউন্সেলিং করা ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে শিক্ষা দান করায় এ সাফল্য অর্জনের সম্ভব হয়েছে। এ সাফল্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটি ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফল। তিনি মনে করেন, দু’জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ থেকে বঞ্চিত হয়েছে তারাও খারাপ ছাত্র নয়। তারা দু’জনই জিপিএ-৫ পাওয়ার দাবিদার।
তিনি আরো বলেন,দেশের সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা যদি সৎ ইচ্ছা ও আন্তরিকতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দান করেন, তাহলে সাফল্য অর্জন করা মোটেও কঠিন কিছু না।
(এসএইচআর/এসএএম/ ০৬ মে ২০১৮)



