নরসিংদীতে রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের শিকার দুই এমপিসহ ১২ নেতা; ঝিমিয়ে আছে বিচার কার্যক্রম
মো: শাহাদাৎ হোসেন রাজু, বিনিয়োগবার্তা, নরসিংদী : নরসিংদী জেলার কোনো না কোনো এলাকায় প্রতিনিয়তই খুনের ঘটনা ঘটছে। এ খুন থেকে রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, সাধারন লোক, ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবীসহ সব শ্রেনী পেশার লোক থাকলেও রাজনৈতিক হত্যাকান্ডই বেশী। এসব হত্যাকান্ডের কারনে রাত ৯ টার পর থেকে শহরে ও গ্রামে চলাচল করতে মানুষের মাঝে ভয় ও আতষ্ক বিরাজ করছে। এ জেলায় জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধি হত্যা কোনো নতুন ঘটনা নয়। বলা চলে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই এটা শুরু হয়েছে। ১৯৭৪ সালে মনোহরদীর আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী ফজলুর রহমান ভুঁইয়াকে দিয়ে শুরু হওয়া হত্যার মিছিলের সর্বশেষ সংযোজন হয় রায়পুরা উপজেলার ৬ বারের নির্বাচিত জনপ্রিয় ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল হক। তবে গত কয়েক বছর যাবৎ জনপ্রতিনিধি আর রাজনীতিবিদ হত্যা বেড়েছে চলছে। এই তালিকায় রয়েছেন মেয়র, চেয়ারম্যানসহ রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। তবে বেশিরভাগ হত্যাকান্ড সংঘটিত হয় জমি সংক্রান্ত বিরোধ, মাদক ব্যবসা, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে । এছাড়া অনেক সময় অন্য এলাকা থেকে এসে লাশ ফেলা হয় এখানে। অনেক হত্যাকান্ডের কোনো ক্লু পাওয়া যায় না। কেউ হত্যা মামলায় সাক্ষ্যও দিতে চায় না। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকায় খুন সংঘটিত হচ্ছে। আর এ সব হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলা হলেও কোনো একটিরও সুষ্ঠু বিচার হয়নি এখনো। কোনোটি রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলা প্রত্যাহার করা হয়। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত আসামী গ্রেফতারের সংখ্যা নগণ্য। তবে একমাত্র এমপি কিরন হত্যাকান্ডে ২ জনের ফাঁসি ও চারজনের যাবজ্জীবন সাজা হয়। পরে আসামিরা জামিনে বের হয়ে আসেন।
জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তি হত্যার মধ্যে রয়েছেন, ১৯৭৪ সালের ১৬ মার্চ কথিত সর্বহারা পাটির হাতে মনোহরদীতে খুন হন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী ফজলুর রহমান ভুঁইয়া। এরপর ১৯৮৬ সালের ২৮ এপ্রিল শিবপুরে খুন হন আওয়ামী লীগের আরেক সংসদ সদস্য রবিউল আউয়াল খান কিরণ। সর্বশেষ হত্যার শিকার হয়েছেন রায়পুরা উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও বাঁশগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ৬ বারের নির্বাচিত জনপ্রিয় ইউপি চেয়ারম্যার সিরাজুল হক।
তাছাড়া আরো রয়েছেন, নরসিংদী পৌর মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন, কেন্দ্রীয় তাঁতিদলের সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, বাঘাব ইউপি চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও আলোকবালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল রাজ্জাক সরকার, নরসিংদী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস বিল্লাল হোসেন রনি, সদর উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, শীলমান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আব্দুল হান্নান, নরসিংদী পৌরসভার কমিশনার মানিক মিয়া, চরদীঘলদী ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জমির আলী, পাইকারচর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাসেম, আলোকবালী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক রাজা মিয়া, শিবপুরের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি দুলাল ভান্ডারী, পুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আরিফুল ইসলাম পাঠান,পলাশের গজারিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক লিমন মৃধা ও নরসিংদী পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর শাহজাহান মিয়া।
গাজী ফজলুর রহমান : ১৯৭৪ সালে মনোহরদীর আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী ফজলুর রহমান ভুঁইয়া তথাকথিত সর্বহারা পার্টির হাতে খুন হন তিনি। মনোহরদী উপজেলার হাজী ছাদত আলী মডেল হাই স্কুলের সভাপতি ছিলেন তিনি। স্কুলের গর্ভনিং বডির সভা চলাকালে তথাকথিত সর্বহারা পার্টির লোকজন রুমের ভিতরে ঢুকে প্রকাশ্যে তাকে গুলি করে হত্যা করে। ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার পর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সাথে সাথে এ মামলা আর কোন সুরাহা হয়নি।
রবিউল আউয়াল খান কিরন: স্বাধীনতার ১৫ বছর পর নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা রবিউল আউয়াল খান কিরন নির্বাচনী প্রচারনা শেষে বাড়ী ফিরার পথে ১৯৮৬ সালের ২৮ এপ্রিল তাকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের খড়কমারা ব্রীজের উপর গুলি করে হত্যা করা হয়। তার ভাই বর্তমানে শিবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুন অর রশিদ খান বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে মামলার বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব চার্জশীট থেকে নাম বাদ পড়েন। পর দীর্ঘ শুনানী শেষে আদালত ২ জনের ফাঁসির আদেশ, ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দেন।
মানিক কমিশনার : ১৯৯৯ সালে খুন হন নরসিংদী পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের কমিশনার মানিক মিয়া। এ মামলার এখনো কোন বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি। উচ্চ আদালত বিচার কার্যক্রম স্থগিতাদেশ দেয়ার কারণে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছেনা এখনো।
চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন সরকার : বাঘাব ইউপি চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন সরকারকে ২০০৪ সালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কুন্দারপাড়া নামকস্থানে প্রকাশ্য দিবালোকে ৪/৫ জন মাইক্রোবাস আরোহী কুপিয়ে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। মামলার জটিলতার কারণে এখন পর্যন্ত এর বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি।
চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম হত্যাকান্ড: নরসিংদী সদর উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের সাইফুল ইসলামকে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর প্রকাশ্যে দিনের বেলায় গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নরসিংদী মডেল থানায় হাজীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউসুফ খান পিন্টু ও তাঁর সহযোগীসহ ঘাতকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে অভিযোগপত্রও দেয়। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মামলাটি রাজনৈতিক মামলা হিসেবে প্রত্যাহার করে নেয়।
মনিরুজ্জামান মনির হত্যা : কেন্দ্রীয় তাঁতিদলের সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মনিরকে ২০০৫ সালের ২৯ মার্চ নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর ছোট ভাই বাচ্চু মিয়া বাদি হয়ে ১৪ জনের বিরুদ্ধে রায়পুরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০০৯ সালে সিআইডি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
নিহত মনিরুজ্জামানের ছেলে আশরাফুজ্জামান রনি বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণেই আমার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। সিআইডি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলেও এখনো চার্জ গঠন করা হয়নি। আসামি ১৮ জনের মধ্যে ইতিমধ্যে ১৪ জন উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে গেছে। বর্তমানে মামলাটি উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ববা হচ্ছে না।
জিএস বিল্লাল হোসেন রনি হত্যা: বন্ধুদের হাত ধরে ছাত্রদলের রাজনীতিতে ঢোকেন বিল্লাল হোসেন রনি। অল্প সময়েই নেতৃত্বগুণে সবার মন জয় করেন তিনি। জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর রনি ২০১০ সালের ২৬ মে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন নরসিংদী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে।
গত ১৫ মার্চ সকালে কলেজ ছাত্র সংসদ ভবনের নিজ কার্যালয়ে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করে রনিকে। নিজের রক্তে ভাসতে থাকে রনির দেহ। এ ঘটনায় বিল্লাল হোসেন রনির বড় ভাই আবুল ফজল বাদী হয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানায় ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের নেতাসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এ পর্যন্ত রনি হত্যারও কোন বিচার হয়নি।
মেয়র লোকমান হত্যা : ২০১১ সালের ১ নভেম্বর নরসিংদী পৌরসভার মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লোকমানকে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় তার ভাই কামরুজ্জামান তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদের ছোটভাই সালাহউদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ প্রায় আট মাস তদন্ত করে ২০১২ সালের ২৪ জুন সালাহউদ্দিনসহ এজাহারভুক্ত ১১ আসামিকে বাদ দিয়ে ও এজাহারভুক্ত তিন নম্বর আসামি শহর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মোবারক হোসেন ওরফে মোবা, এজাহারভুক্ত দুই নম্বর আসামি নরসিংদী পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি আবদুল মতিন সরকার, তার ছোটভাই শহর যুবলীগের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম সরকারসহ ১২ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেয়। কিন্তু এই অভিযোগপত্রের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে ২০১২ সালের ২৪ জুলাই নরসিংদীর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে নারাজি আবেদন করেন কামরুজ্জামান। এর পর হাইকোর্টে যান মামলার বাদী। দীর্ঘদিন মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকায় লোকমান হোসেন হত্যার বিচার প্রক্রিয়া থমকে ছিল। দীর্ঘ ছয় বছর পর সেই উচ্চ আদালতের (হাইর্কোটের) নির্দেশেই আলোচিত এই মামলার জুডিশিয়াল তদন্ত শুরু হয়েছে।
নিহত লোকমানের স্ত্রী তামান্না নুসরাত বুবলী বলেন, ‘মেয়র লোকমান হত্যার বিচার না হলে মানুষ রাজনীতির প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলবে।
আব্দুর রাজ্জাক চেয়ারম্যান : ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল নরসিংদী বাজারে আলোকবালী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাককে গুলি করে হত্যা করা হয়। এঘটনায় আব্দুর রাজ্জাকের মেজো ছেলে দেলোয়ার হোসেন দীপু বাদী হয়ে একটি হত্যামামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ ৬ বছরের মাথায় মামলাটির চার্চ গঠন করা হয়েছে বলে জানান তার বড় ছেলে ইসমাইল হোসেন বাবুল।
আঃ হান্নান চেয়ারম্যান : ২০১৩ সালে শিলমান্দী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আঃ হান্নান কে গুলি করে হত্যা করা হলেও আজও এ মামলা রায় হয়নি।
মো: শাহ জাহান : ২০১৫ সালের ২ অক্টোবর নরসিংদী পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের কমিশনার মো: শাহ জাহান মিয়াকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়।
সিরাজুল হক চেয়ারম্যান : রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সর্বশেষ শিকার হন গত ৩ মে রায়পুরা উপজেলার বাঁশগাড়ী ৬ বার নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল হক। তাকে সন্ত্রাসীরা দিনের বেলায় গুলি করে হত্যা করে। গত শুক্রবার রায়পুরা থানায় তার ছেলে আশরাফুল হক সরকার বাদী হয়ে ৩০ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ২জন আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও খুনের সঠিক কারণ এখনো বের করতে পারেনি পুলিশ।
নরসিংদী পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন বলেন, কোন হত্যাকান্ডই পরিমাপ করার কিছু নেই। প্রত্যেকটিই নিরবিচ্ছিন্ন ঘটনা। বাংলাদেশের প্রতিটি এলাকায়ই এ ধরনের খুনের ঘটনা ঘটছে। তবে নরসিংদী জেলা এখন শান্ত ও আইন শৃংখলা পরিস্থি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।
নরসিংদী জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও মনোহরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. ফজলুল হক এসব হত্যাকান্ড বিষয়ে বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী দল তাদের ছত্র ছায়ায় বিভিন্ন অপশক্তিকে লালন পালন করে সরকারকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে এসব হত্যাকান্ড চালায়। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ৭১’র পরাজিত শক্তিরাই ক্ষমতার অংশিদারিত্ব নেয় এবং স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করার লক্ষ্যে এসব খুন খারাপী চালায়। তবে বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি অন্যান্য সময়েচের চেয়ে অনেক ভাল।
(এসএইচআর/এসএএম/ ১৩ মে ২০১৮)



