৬ এপ্রিলের মধ্যেই সব ট্যানারি সড়ানোর নির্দেশ

প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: কোরবানির ঈদ পর্যন্ত রাজধানীর হাজারীবাগে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সময় চেয়ে ট্যানারি কারখানার মালিকদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে সব ট্যানারি সরিয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এ বিষয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষে বুধবার দুপুর ২টার পর বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. সেলিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ খারিজের এ আদেশ দেন।

আদালতে ট্যানারি কারখানার মালিকদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, ব্যারিস্টার মেহেদী হাসান চৌধুরী। রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন বেলার সভাপতি সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী জিনাত হক।

মঙ্গলবার সকালে কোরবানির ঈদ পর্যন্ত রাজধানীর হাজারীবাগে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সময় চেয়ে আবেদন করে ট্যানারি কারখানার মালিকেরা।

গত ৬ মার্চ হাইকোর্টের ওই ডিভিশন বেঞ্চ এক আদেশে হাজারীবাগের ট্যানারিগুলো অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দেন। কারখানাগুলোর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে নির্দেশ দেন আদালত। পাশাপাশি ট্যানারি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে বলা হয়। এর বিরুদ্ধে আপিল করলে গত ১২ মার্চ আপিল বিভাগও তা খারিজ করে দেন। ফলে ট্যানারি কারখানাগুলোর হাজারীবাগে থাকার আর কোনো সুযোগ নেই।

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০১ সালে ট্যানারি শিল্প হাজারীবাগ থেকে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ওই আদেশ বাস্তবায়িত না হওয়ায় ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্প অন্যত্র সরিয়ে নিতে ২০০৯ সালের ২৩ জুন হাইকোর্ট ফের নির্দেশ দেন। সরকারপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরে ওই সময়সীমা কয়েক দফা বাড়িয়ে ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। এরপরও ওই এলাকা থেকে ট্যানারি সরিয়ে নেয়া হয়নি। নতুন করে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, ২৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাজারীবাগ থেকে যেসব ট্যানারি স্থানান্তর করা হবে না, ১ মার্চ থেকে ওই সব ট্যানারির গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে।

 

(ইউএম/ ২৯ মার্চ ২০১৭)


Comment As:

Comment (0)