সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ
নরসিংদী প্রতিনিধি, বিনিয়োগবার্তা: বরাবরের মতো এবারও সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে নরসিংদীর আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ। বৃহস্পতিবার সারাদেশে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলে অত্র কলেজের শিক্ষার্থীরা বাদ ভাঙ্গা জোয়ারের মত উল্লাসে মেতে উঠে। এবছর ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটি থেকে অংশ নেওয়া ৮০৪ জন পরীক্ষার্থীর অংশ নিয়ে সকলেই পাশ করেছে। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৭১ জন শিক্ষার্থী।
কলেজের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ ২০১২ সাল থেকে টানা তিন বছর ঢাকা বোর্ডে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। গত ২০১৫ সাল থেকে সেরাদের তালিকা না হলেও নিজেদের ধারাবাহিকতায় অক্ষুন্ন রেখেছে। গতকাল দুপুর একটায় ফলাফলের খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা কলেজ প্রাঙ্গনে ছুটে আসে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নেচে-গেয়ে, হেসে-কেঁদে আনন্দ উল্লাসে সাফল্য উদযাপন করে। এবছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট ৮০৪ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করে শতভাগ পাশসহ ২৭১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৪৩২ জন অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৯১ জন, ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে ১৯৪ জন অংশ নিয়ে ৪২ জন ও মানবিক শাখা থেকে ১৭৮ জন অংশ নিয়ে ৩৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পাওয়া আরিফা রহমান বলেন, ‘শিক্ষকদের সঠিক দিক-নির্দেশনা, নিয়মিত ক্লাস, বিশেষ ক্লাস, হোম ভিজিট, টিউটেরিয়াল ও মাসিক পরীক্ষার কারণেই এই ভাল ফলাফল হয়েছে।’
বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল আহমেদ বলেন, ‘আমরা হোষ্টেলে থাকি নাই। কলেজের শিক্ষকরা নিয়মিত আমাদের বাসায় এসে খোঁজখবর নিতেন। এ কারনে আমাদেরকে প্রতিনিয়ত লেখাপড়ায় ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে যার কারণে আজ আমাদের এ সাফল্য’।
আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও থার্মেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাদির মোল্লা বলেন, ‘ সারাদেশের সকল নামীদামী কলেজগুলোর ফলাফল যখন বিপর্যয় হয়েছে সে তুলনায় আমাদের তরুণ শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এবং শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতায় এবারও ভাল ফলাফল বয়ে এনে সাফল্য ধরে রাখতে পেরেছে। আমাদের শিকার্থীরা শতভাগ পাশসহ ২৭১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর ধারাবাহিকতা রক্ষায় আমার নিরন্তর চেষ্টা আছে, আগেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে’।
কলেজের অধ্যক্ষ ড. মশিউর রহমান মৃধা বলেন, ‘ এই কলেজের এক ঝাঁক তরুণ মেধাবী শিক্ষক সকাল থেকে শুরু করে মধ্য রাত অবধি তাঁদের নিরন্তর চেষ্টায়ই ধারাবাহিক এই সাফল্য। এ বছর মাধ্যমিক বোর্ড যে ধরনের প্রশ্ন কাঠামোতে পরিক্ষা নিয়েছে তাতে বলা যায় একজন শিক্ষার্থীর মেধা যাচাই হয়েছে। আর আমাদের কলেজের এ সাফল্য শিক্ষকদের মেধা ও শিক্ষার্থীদের মেধার সেতু বন্ধনের ফসল। প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন দিক-নির্দেশক শিক্ষক রয়েছে। ওই শিক্ষক শুধু লেখাপড়া নয়, তাদের খেলাধুলা, স্বাস্থ্য, বিনোদন থেকে শুরু করে সকল ধরনের চাহিদা পূরণে সবসময় শ্রম দিয়ে আসছে’।
(এসএইচআর/এসএএম/ ২১ জুলাই ২০১৮)



