বছরজুড়ে কৃষিঋণের লক্ষ্যমাত্রা ২১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা

প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা:  চলতি (২০১৮-১৯) অর্থবছরে ২১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। কৃষি ও কৃষক বান্ধব নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে টেকসই উন্নয়নের নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে  অর্থবছরের কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা কর্মসূচী প্রণয়ন করা হয়েছে।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান এ নীতিমালা ঘোষণা করেন।

মনিরুজ্জামান বলেন, এখনও বাংলাদেশের ৪০ শতাংশ মানুষ সরাসরি কৃষির সঙ্গে জড়িত। পাশাপাশি ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ মানুষ পরোক্ষভাবে কৃষি ক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ খাতের উন্নয়নের ফলে দেশের দারিদ্র বিমোচন, ক্ষুধা মুক্তি ও সুস্বাস্থ্য অর্জন করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভনর্র বলেন, এনজিও’র মাধ্যমে কৃষি ঋণ বিতরণ বাড়লেও স্বল্প সুদে ঋণ পাচ্ছেন না কৃষক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ বর্গা চাষীদের কাছে পৌঁছাতে পৌঁছাতে সুদের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুন হয়ে যায়।

এই অর্থবছরে নির্ধারিত ঋণের পরিমাণ গত অর্থবছরের তুলনায় ৬.৮ শতাংশ বেশি। বিগত বছরে ব্যাংকগুলোর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। ব্যাংকগুলোর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বাইরে বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড ৯৬১ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ করবে। ব্র্যাক বিতরণ করবে ৬০০ কোটি টাকা।

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে লক্ষ্যমাত্রার ৬০ শতাংশ বিতরণ করতে হবে শস্য খাতে। ন্যূনতম ১০ শতাংশ মৎস্য খাতে এবং প্রাণি সম্পদ খাতে ১০ শতাংশ বিতরণ করতে হবে। এছাড়াও কৃষি যন্ত্রপাতি, দারিদ্র বিমোচন ও অন্যান্য খাতে বাকি অর্থ বিতরণ করতে হবে বলে জানান তিনি।

লক্ষ্যমাত্রার ৫২ শতাংশ বিতরণ করবে বেসরকারি খাতের ব্যাংক। সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক বিতরণ করবে ৩০ শতাংশ, বিশেষায়িত ব্যাংক বিতরণ করবে ১৫ শতাংশ ও বিদেশি ব্যাংক বিতরণ করবে ৩ শতাংশ ঋণ।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক অশোক কুমার দে ও কৃষি ঋণ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মনোজ কান্তি বৈরাগী উপস্থিত ছিলেন।

(এসএএম/ ২৫ জুলাই ২০১৮)


Comment As:

Comment (0)