ব্লগার রাজীব হত্যায় দু’জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল

প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

আসামিদের আপিল খারিজ করে রোববার রায় দিয়েছে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের বেঞ্চ। বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ হওয়ায় দণ্ড ভোগ করতে হবে আসামিদের।

একইসঙ্গে রাজীবের বাবার করা একটি আবেদনও খারিজ করেছে আদালত। কারাদণ্ড পাওয়া আসামিদের শাস্তি বাড়াতে আবেদন করেছিলেন রাজীবের বাবা। তবে তার পক্ষে কোনো আইনজীবী শুনানিতে না থাকায়- সেটি খারিজ হয়ে গেছে।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে গণজাগরণ আন্দোলন শুরু হয় ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। এর ১০ দিনের মাথায় ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুরের কালশীতে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী রাজীবকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর বিচারিক আদালতের দেওয়া রায়ে দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের প্রধান মুফতি জসীমউদ্দীন রাহমানীসহ ৬ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো- নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র রেদোয়ানুল আজাদ রানা ও ফয়সাল বিন নাঈম দীপ। অন্যদের মধ্যে মাকসুদুল হাসান অনিককে যাবজ্জীবন ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা; এহসান রেজা রুম্মান, নাঈম ইরাদ ও নাফিজ ইমতিয়াজকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা; মুফতি মো. জসীমউদ্দিন রাহমানীকে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ২ হাজার টাকা জরিমানা এবং সাদমান ইয়াছির মাহমুদকে ৩ বছরের কারাদণ্ডসহ ২ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছে আদালত।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজনের মধ্যে রেদোয়ানুল আজাদ পলাতক থাকায় আপিল করেননি তিনি। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরেক আসামি ফয়সাল বিন নাঈম দীপসহ সাতজন আপিল করেছিলেন। আসামিদের ডেথরেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিলের ওপর ৯ জানুয়ারি শুনানি শেষ হয়।

 

(ইউএম/ ২ এপ্রিল ২০১৭)


Comment As:

Comment (0)