অসামাজিক কাজে প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারে এসপির কাছে মাধবদীবাসীর আবেদন

নরসিংদী প্রতিনিধি, বিনিয়োগবার্তা: নরসিংদীর মাধবদীতে অসামাজিক কাজে বাধা দেওয়ায় ১৭ দিন পর ঘটনার প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে আদালতে ধর্ষনের মামলা দায়ের করেছেন এক দুশ্চরিত্রা মহিলা।  এ মামলায় নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষ্য আসামীদের অব্যাহতি দিতে নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করেছেন এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।

মাধবদী থানাধীন আলগী গ্রামের কাজী মোর্শেদ, মো: হানিফা ও আব্দুর রহিম স্বাক্ষরিত ওই আবেদনটি বুধবার (১ আগস্ট) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে জমা দেন।

আবেদনে বলা হয়, নরসিংদী জেলার মাধবদী থানাধীন আলগী খোছপাড়া এলাকার বাসিন্দা আইয়ুব হোসেনের স্ত্রী হাবীবা বেগম (২২) একজন যৌনকর্মী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। সে তার স্বামীর বাড়ীতে না থেকে ওই এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে অবৈধ যৌন কাজ নির্বিগ্নে চালিয়ে যাচ্ছে। এতে এলাকার যুব সমাজ বিপথগামী এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এলাকাবাসী কয়েকদফা তার অসামাজিক কার্যকলাপে বাধা প্রদান করলেও সে তার অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয় হাবীবার সাথে তারই ননদের জামাই ধর্ষন মামলার ১ নং স্বাক্ষী সদর উপেেজলার নজরপুর গ্রামের (বর্তমানে একই এলাকায় বসবাসরত) সাহাবুদ্দিনের সাথে পরক্রিয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ে। গত ৮ জুলাই রাত আনুমানিক ১২টায় হাবীবার স্বামী আইয়ুব হোসেন তার নিজ কর্ম ক্ষেত্রে চলে গেলে পরক্রিয়া প্রেমিক সাহাবুদ্দিনকে বাড়ীতে ডেকে এনে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়। এসময় আবদুল্লাহ, কালাম, রাসেল ও সাধু  নামে ওই এলাকার  কয়েকজন যুবক তাদেরকে হাতে নাতে ধরে ফেলে। পরক্রিয়া প্রেমিক সাহাবুদ্দিনকে উত্তম-মাধ্যম দিয়ে এলাকাবাসী ছেড়ে দেয়। এসময় তার মোবাইল ফোন সহ কিছু টাকা-পয়সা খোয়া যায়। পরে এলাকার মুরুব্বি শ্রেণির লোকজন খোয়া যাওয়া মালপত্র মাধবদী থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালামের কাছে জমা দেন। এঘটনায় প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে দুশ্চরিত্রা হাবীবা এলাকার ওই যুবকদেরকে সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও তাদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিদা আদায়ের লক্ষ্যে ঘটনার ১৭ দিন পর নরসিংদী কোর্টে হাজির হয়ে আদালতকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে ধর্ষনের একটি মামলা দায়ের করেন। যাতে উল্লেখ করা হয়েছে আসামীগণ তাকে পালাক্রমে ধর্ষন করে। আদালত বাদীনির আবেদন গ্রহণ করে মাধবদী থানাকে এঘটনা এফআইআর হিসেবে লিপিবদ্ধ করে তদন্তের নিদের্শ দেন। মাধবদী থানা পুলিশ আদালতের নির্দেশক্রমে মামলা নথিভুক্ত করেন। মামলা নং ৩৫ তারিখ ২৫-৭-২০১৮ইং। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলার ৩ নং আসামী রাসেলকে ওইদিন রাতে তার বাড়ী থেকে গ্রেফতার করে। এ মিথ্যা মামলার ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যর সৃষ্টি হয়। পরে এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিগন অসামাজিক কাজের প্রতিবাদকারী ও মিথ্যা মামলার স্বীকার নিরীহ ব্যাক্তিদের তদন্তপূর্বক হয়রানী হতে অব্যহতি ও প্রকৃত দোষীদের বিচারের জন্য পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করেন।

(এসএইচআর/এসএএম/ ০১ আগস্ট ২০১৮)

 


Comment As:

Comment (0)