রায়পুরায় দপ্তরি নিয়োগে অনিয়ম: এমপি, ডিসিসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা
নরসিংদী প্রতিনিধি, বিনিয়োগবার্তা: রায়পুরায় এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় এমপি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নিয়োগ বোর্ডে সভাপতি, নিয়োগ বোর্ডের সকল সদস্যসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত ২৯ জুলাই নরসিংদীর আদালত পাড়ায় রায়পুরা সিনিয়ির সহকারী জজ আদালতে উপস্থিত হয়ে আবদুল মান্নান নামে এক ব্যাক্তি রায়পুরা উপজেলার ১০৩ নং সমিবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরি নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করেন। আদালত তার অভিযোগ নথিভুক্ত করে। পরবর্তীতে বিজ্ঞ বিচারক তা আমলে নিয়ে বিবাদীগণকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন।
মামলার বিবরনে জানা যায়, ২০১৭ সালের জুন মাসে সরকারী বিধি মোতাবেক রায়পুরা উপজেলা প্রশাসন ৫৩টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরি নিয়োগে দরখাস্ত আহবন করলে রায়পুরা উপজেলাধীন ১০৩ নং সমিবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওই পদের উপজেলার চরমধূয়া ইউনিয়নের সমিবাদ গ্রামের আবদুল মান্নান একজন প্রার্থী হয়ে আবেদন করেন। পক্ষান্তরে একই পদে ওই গ্রামের নূর মোহাম্মদ (কালা মেম্বার) এর পুত্র আবুল হোসেন আবেদন করে। সরকারী চাকুরীর বয়স সীমা ২৮ বছর হলে আবেদনকারী আবুল হোসেনের বয়স জাতীয় পরিচয় পত্র হিসেবে ৪৫ বছর। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা নিয়োগ বোর্ড ব্যাক্তিগত স্বার্থ হাসিলের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভুত ভাবে আবুল হোসেনকে নিয়োগ প্রদান করে। যার জাতীয় পরিচয় পত্র নং ১৯৭৩৬৮১৬৪৩৩০০০০০২ জন্ম তারিখ ২ জানুয়ারী ১৯৭৩ ইং। আবুল হোসেনের সরকারী চাকুরীর বয়স সীমা অনেক আগেই অতিক্রম করায় নিয়ম অনুযায়ী অপর আবেদনকারী আবদুল মান্নান নিয়োগ প্রাপ্ত হয়। কিন্তু উপজেলা নিয়োগ বোর্ড তা পাশ কাটিয়ে ৪৫ বছর বয়স্ক আবুল হোসেনকে নিয়োগ প্রদান করলে আবদুল মান্নান এ নিয়োগ অবৈধ দাবী করে গত ৭ মে ২০১৮ তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করে। দীর্ঘ দিন অতিক্রান্ত হলেও তার কোন উত্তর না পেয়ে পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক বরাবর আরো একটি অভিযোগ দাখিল করে আশানুরূপ ফল না পেয়ে আদালতের শরনাপন্ন হয়। জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দাখিলের গত ১৭ জুলাই সমকালসহ বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিক ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদটি প্রকাশ হয়। ১৭ জুলাই সমকাল পত্রিকায় সংবাদটি প্রকাশিত হলে পুরো রায়পুরায় হৈ চৈ পড়ে যায়। এলাকাবাসী সমকাল পত্রিকাটি ক্রয় করতে হকার ও এজেন্টদের কাছে গিয়ে চাহিদা মাফিক তা না পেয়ে বিভিন্ন ফটোস্ট্যাট দোকান থেকে সংবাদটির ফটোকপি ক্রয় করেছে বলে জানা গেছে।
রায়পুরা সিনিয়র সহকারী জজ আদালত গত ২৯ জুলাই বাদী আবদুল মান্নান’র অভিযোগ গ্রহন করে তা নথিভুক্ত করা হয়। যা দেওয়ানী মামলা নং ১০৬/২০১৮ইং। মামলায় যাদের নাম উল্লেখ পূর্বক বিবাদী করা হয়েছে। তারা হলেন, নিয়োাগপ্রাপ্ত দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরী আবুল হোসেন, নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিব ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, আব্দুস সাদেক চেয়ারম্যান রাধানগর ইউডি ও সদস্য নিয়োগ বোর্ড, সভাপতি ১০৩ নং সমিবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সদস্য নিয়োগ বোর্ড, প্রধান শিক্ষক ১০৩ নং সমিবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সদস্য নিয়োগ বোর্ড, নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক নরসিংদী, চেয়ারম্যান রায়পুরা উপজেলা পরিষদ, জেলা প্রাথমিক কর্মকর্তা, মেয়র রায়পুরা পৌরসভা, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং চেয়ারম্যান চরমধূয়া ইউপি। আদালত বাদীর অভিযোগ আমলে শুনানীর দিন ধার্য্য করে। শুনানীর দিন বাদী পক্ষের আইনজীবি নিয়োগ বাতিলের আবেদন করে। শুনানী শেষে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক কেন নিয়োগ অবৈধ হবে না এ মর্মে ১৩ জন বিবাদীকে নোটিশ প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে কারন দর্শাতে বলেন।
আসামী পক্ষের আইনজীবি কাজী নজরুল ইসলাম’র সাথে যোগাযোগ করলে তিনি সমকালকে জানান, মামলার প্রথম শুনানীর দিন আমরা নিয়োগ বাতিলের জন্য আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচার বিবাদীগণকে প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে কারন দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন অন্যথায় আদালত একতরফা ভাবে নিয়োগ বাতিলের রায় প্রদান করবে।
(এসএইচআর/ এসএএম/ ০৬ আগস্ট ২০১৮)



