নরসিংদী-৪ আসনে প্রধান দুই দলের দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে জাপার নেওয়াজ আলী ভূঁইয়া
মো: শাহাদাৎ হোসেন রাজু, নরসিংদী : আগামীর অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে যে কোনদিন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা হতে পারে। সে হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাশি ও দলগুলোর হাতে সময় বেশী নেই। ইতোমধ্যে প্রধান প্রধান দলগুলোর অনেক মনোনয়ন প্রত্যাশিই জনসংযোগসহ চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী মাঠ। নরসিংদীতেও এর ব্যাত্যয় ঘটেনি। ভোটের হিসেবে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টি অবস্থান তিন। তবে অবস্থানের হিসেবে তিন নাম্বার হলেও অন্য দুটি দল থেকে ভোটের ব্যবধান অনেক। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতে নরসিংদী-৪ (বেলাব-মনোহরদী) নির্বাচনী আসনটিতে এর বিপরীত কিছু ঘটতে পারে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল। এ আসনে ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রধান দুটি দলের প্রার্থীদের দুশ্চিন্তার কারণ হতে পাওে জাপা(এ)’র নেওয়াজ আলী ভূইয়া।
জাতীয় পাটির (এরশাদ) কেন্দ্রীয় নিবাহী কমিটির সদস্য, নরসিংদী জেলা জাপার সহ সভাপতি ও মনোহরদী-বেলাব উপজেলা জাপার সম্বনয়কারী নেওয়াজ আলী ভূঁইয়া রাজনীতিতে একেবারে নতুন মুখ। ইতোমধ্যে তিনি মনোহরদী ও বেলাব দুই উপজেলাই সমান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। তিনি বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ সামাজিক সংগঠনগুলোতে উন্নয়ন কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করে এলাকাবাসীর সুখ-দু:খের অংশীদার হচ্ছে। এলাকাবাসীর বিভিন্ন বিপদ-আপদে সবাত্মক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। এলাকাবাসীও তাদের সুখ-দু:খের বন্ধু হিসেবে তাকে খুব আপন করে নিয়েছে।
রাজনৈতিক ভাবে পূর্ব কোন অভিজ্ঞতা না থাকলেও বিগত বেলাব উপজেলা জাপার সম্মেলন সফল ভাবে সম্পন্ন করে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। উপজেলা যুব সংহতির সম্মেলনও অত্যন্ত জাকজমক ভাবে সম্পন্ন করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে একজন দক্ষ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে প্রমাণ করেছেন। শুধু তাই নয় কেন্দ্রীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার সরব উপস্থিতি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ দলীয় হাই কমান্ডের নজর কাড়তে সমর্থ হয়েছেন। কেন্দ্রের যেকোন কমসূচিতে বিপুল সংখ্যক লোকজন নিয়ে অংশ গ্রহণ করে ইতোমধ্যে হাই কমান্ডের আস্থাশীল হয়ে উঠেছেন।
নেওয়াজ আলী ভূঁইয়া আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) সংসদীয় আসনে প্রাথী হবার ভাষনা নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে দুই উপজেলায় জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ব্যবসায়ীক কাজে ঢাকায় অবস্থান করলেও এই নেতা প্রায়শ: এলাকায় ছুটে আসেন। এলাকাবাসীর খোঁজখবর নেন, সে সাথে এলাকা বিভিন্ন পাড়ায় মহল্লায় ঘুরে ঘুরে তার প্রার্থীতার কথা জানাছেন এবং এলাকাবাসীর কাছ থেকে দোয়া প্রার্থণা করছেন। নিজেদের দু:সময়ে কাছে পাওয়া ব্যাক্তিটিকে বাড়ির দাওয়ায় পেয়ে অনেক এলাকাবাসীই তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং প্রাণ খুলে দোয়া করেন মহান সৃষ্টি কর্তা যেন তার মনোবাসনা পূরন করেন। গ্রামে গ্রামে ঘুরে ইতোমধ্যে এলাকাবাসীর আস্থা অর্জণ করে অতি অল্প সময়ে হয়ে উঠেছেন মনোহরদী-বেলাববাসীর প্রিয় একজন মানুষ, একজন প্রিয় নেতা। বর্তমানে তিনি দুই উপজেলাতেই সমান ভাবে জনপ্রিয়।
দলীয় বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, জাতীয় পাটি আগামী একাদশ সংসদ নিবাচনে ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্ধিতা করার ইচ্ছায় ইতোমধ্যে ২০০ আসনের প্রার্থীতা চুড়াান্ত করে ফেলেছেন। সে তালিকায় নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসনে দলীয় একক প্রার্থী হিসেবে নেওয়াজ আলী ভূঁইয়াকে বাছাই করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদে আসন নং ২০২ নরসিংদী-৪ আসনে বর্তমান সাংসদ এড. নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এবং সাবেক সাংসদ বিএনপির সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল একাধিক বার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে দু’জনেই বিতর্কিত হয়েছে। এ আসনে উভয় দলের অন্তত এক ডজন মনোনয়ন প্রত্যাশি রয়েছে। প্রধান দুটি দল ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে রয়েছে দলীয় কোন্দল ও বিভাজন যা আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর জন্য বিপদ ভয়ে আনতে পারে।
নরসিংদী-৪ সংসদীয় আসনটি বেলাব ও মনোহরদী এ দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত। বেলাবতে বকুলের রয়েছে নিজস্ব ভোট ব্যাংক। এ ভোট ব্যাংকের উপর ভর করে বিগত উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি বিদ্রোহী হলেও তার প্রার্থী জয়লাভ করে। আগামী জাতীয় নির্বাচনেও এ ভোট ব্যাংক বকুলের পক্ষে থাকবে। তবে এর ব্যাপ্তি ঘটবে শুধু মাত্র বেলাব উপজেলার কোন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিলে। সে যে দলেরই হোক তাতে কোন সমস্যা নেই। কেননা দীর্ঘদিন ধরে বেলাববাসী সংসদ সদস্য থেকে বঞ্চিত। যে কোন নির্বাচনে আঞ্চলিকতার প্রভাব প্রার্থীর জয়ের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। নেওয়াজ আলী ভূইয়ার ক্ষেত্রেও তার বিকল্প হবেনা। আগামী নির্বাচনে নেওয়াজ আলী ভূঁইয়াই হতে পারে বেলাব উপজেলার একমাত্র প্রার্থী।
সেক্ষেত্রে তিনি হয়ে উঠতে পারেন বেলাববাসীর আশির্বাদ। যা প্রধান দু’দলের প্রার্থীদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
(এসএইচআর/এসএএম/ ১৫ আগস্ট ২০১৮)



