‘পুঁজিবাজারের বিকাশে দক্ষ বিনিয়োগকারী তৈরীতে অধিক গুরুত্ব দিন’
নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা: পুঁজিবাজারের বিকাশে দক্ষ বিনিয়োগকারী তৈরীতে অধিক গুরুত্বারোপের পরামর্শ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি) এফেয়ার্সের প্রধান সমন্বয়ক মো: আবুল কালাম আজাদ।
তিনি বলেন, সরকারেএখনো পুঁজিবাজারের ফুল পটেনশিয়াল ব্যবহার করতে পারে নাই। তবে সামনে হবে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে অনুরোধ থাকবে, যে কাজ করলে পুঁজিবাজার বিকশিত হবে সে বিষয় নিয়ে আপনারা বসবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগবান্ধব। আগামীতে পুঁজিবাজারের পুরো শক্তি ব্যবহার করবে সরকার। আর এ বাজারের উন্নয়নে দক্ষ বিনিয়োগকারী তৈরী অতীব জরুরী। তাই এ বিষয়টিতে আপনার গুরুত্ব দিন।
সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর রজতজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘ কর্পোরেট গভর্ন্যান্স’ বিষয়ক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় বিএসইসি চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন, কমিশনার ড. স্বপন কুমার বালা, খোন্দকার কামালুজ্জামানসহ বিএসইসি’র অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম মাজেদুর রহমান, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার, সিডিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শুভ্র কান্তি চৌধুরী, বিভিন্ন কোম্পানির নির্বাহীগণ ছাড়াও বাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সিকিউরিটিজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যের মো: আবুল কালাম আজাদ আরো বলেন, পুঁজিবাজারের সকল ক্ষেত্রে কর্পোরেট গভর্ন্যান্স পরিপালন হচ্ছে।এখন প্রাইভেট সেক্টরের মতো সরকারি সেক্টরেও কর্পোরেট গভর্ন্যান্স পরিপালন শুরু হয়েছে। প্রাইভেট ও পাবলিক সেক্টর সমানতালে না চললে দেশে টেকসই উন্নয়ন হবে না। অর্থনৈতিক সকল প্যারামিটার বিবেচনায় বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। ২০০৬ সালে যেখানে মাথাপিছু আয় ৪৫০ ডলার ছিলো; সেখানে বর্তমানে ১৮০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যেসকল বিষয় বিবেচনায় কোনো দেশকে এলডিসি থেকে উন্নীত করা হয় সেকল বিষয়ের সবগুলোই বাংলাদেশ পরিপালন করেছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ চূড়ান্তভাবে এলডিসি থেকে বেরিয়ে আসবে বলে জানান আবুল কালাম আজাদ।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম খায়রুল হোসেন বলেন, কর্পোরেট গভর্ন্যান্স কোড একটি প্রক্রিয়া যার উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন নিশ্চিত করা। যেহেতু কর্পোরেট সেক্টর বড় হচ্ছে, লিস্টেড কোম্পানির সংখ্যা বাড়ছে তাই এই খাতে বিশৃঙ্খলা দূর করতে কর্পোরেট গভর্ন্যান্স কোড প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশের ইকোনমি ৮ শতাংশ হারে বাড়ছে। এই ইকোনমিতে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য পুঁজিবাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে প্রতিটি কোম্পানিতেই এই কর্পোরেট গভর্ন্যান্স কোড পরিপালন করতে হবে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে কর্পোরেট গভর্ন্যান্স বিষয়ে প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক হাসান মাহমুদ চৌধুরী।
বিএসইসির কমিশনার ড. স্বপন কুমার বালার সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম মাজেদুর রহমান, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার, সিডিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শুভ্র কান্তি চৌধুরী।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহনকারী স্টেকহোল্ডার/প্রতিনিধিদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তারা।
উল্লেখ্য, গত ১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সপ্তাহব্যাপী রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকে বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি সভা সেমিনারের আয়োজন করে বিএসইসি ও এর স্টেকহোল্ডাররা। সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘কর্পোরেট গভর্ন্যান্স’ বিষয়ক সেমিনারের মাধ্যমে শেষ হলো সপ্তাহব্যাপী এই অনুষ্ঠানমালা।
(এসএএম/ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮)



