সরকারি জমিতে প্লট তৈরি করে বিক্রি: শাহ আলী নগর হাউজিং এস্টেটের মালিকসহ ২ জন গ্রেপ্তার

প্রতিবেদক, বিনিয়োবার্তা, ঢাকা: সরকারি জমিতে প্লট তৈরি করে বিক্রির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে শাহ আলী নগর হাউজিং এস্টেট এর কথিত মালিক শমসের আলীসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দুনীর্তি দমন কমিশন (দুদক)।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এর সহকারী পরিচালক মো. আবদুল ওয়াদুদ এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন।

গ্রেপ্তারকৃত অপর ব্যক্তি হলেন জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সাবেক ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. নুরুজ্জামান। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব ভট্টাচার্য্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দুদক সূত্র জানায়, রাজধানীর বিশিল এলাকায় ২৫৮ দশমিক ৫৮ কাঠা জমি ১৯৬০ সালে তৎকালীন গৃহায়ণ অধিদপ্তর অধিগ্রহণ করে। ১৯৮০ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ গেজেট জারি করে। রাজধানীর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদিত নকশা ও সুপার ইম্পোজ নকশা অনুযায়ী এ সম্পত্তিতে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের জমি ও ডুইপ প্রকল্পের বিভিন্ন প্লট রয়েছে। এ সম্পত্তি কাউকে ইজারা কিংবা বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

২০০০ সালের ২০ এপ্রিল বিশিল এলাকার শরাফত আলীর ছেলে শমসের আলী এ সম্পত্তি ইজারা দলিল করে নেন। দলিলে ৯৯ বছরের জন্য ৪ একর জমির সেলামি দেখানো হয় মাত্র ৬৪ হাজার টাকা। অথচ গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ এ সম্পত্তি লিজ বরাদ্দ দেয়নি। গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের পক্ষে সংস্থাটির তৎকালীন অফিস সহকারী কাম ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. নুরুজ্জামান ‘দলিল বাহক’ হিসেবে ওই দলিলে স্বাক্ষর করেন। যদিও দলিল সই করার জন্য গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নুরুজ্জামানকে কোনো ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।

সূত্র আরো জানায়, মিরপুরের সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার মোখলেসুর রহমান ঠাকুর জমির মৌজা মূল্যের চেয়েও কম দেখিয়ে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি করেন। এত বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি কোনো ব্যক্তিকে ইজারা দেওয়ার নিয়ম না থাকলেও তিনি অন্যদের যোগসাজশে তা করিয়েছেন। ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তিনি নিজ বা অন্যের স্বার্থে বিনা যাচাইয়ে ওই সম্পদ জালিয়াতিতে শমসের আলীকে সহায়তা করেন।

পরে একটি চক্র ভুয়া ইজারার বরাদ্দপত্র দেখিয়ে নেয়া ওই সম্পত্তির ওপর ‘শাহ আলী নগর হাউজিং এস্টেট’ সাইনবোর্ড টানিয়ে প্লট বিক্রি করে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। এসব প্লটের ওপর এখন গড়ে উঠেছে উপশহর। অর্ধশত প্লটের ওপর ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে। আর এ এলাকা এখন পরিচিত ‘শাহ আলীনগর হাউজিং এস্টেট’ নামে।

এ অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারিতে ‘শাহ আলী নগর হাউজিং এস্টেট’-এর কথিত মালিক শমসের আলী, নুরুজ্জামান ও মোখলেসুর রহমান ঠাকুরকে আসামী করে দারুস সালাম থানায় মামলা করে দুদক।

(এসএএম/ ০৫ এপ্রিল ২০১৭)


Comment As:

Comment (0)