গজারিয়ায় ছাত্রলীগ নেতার হামলায় ২ সহদর আহত
নরসিংদী প্রতিনিধি, বিনিয়োগবার্তা: নরসিংদীর পলাশ উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নে পোটন বাহিনীর হামলায় মিশু কবিরের ২ সহদর সমর্থক গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের ইছাখালি এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত ২ সহদর হলেন, ইছাখালি গ্রামের মৃত হোসেন আলী পুত্র মো: সাদেক মিয়া (৩৯) ও তার ছোট ভাই মো: অলি উল্লা (৩৫)।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাদেক গজারিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন ইফতির সাথে বিভিন্ন সময় দলীয় কর্মকাণ্ডে উপস্থিত থাকতো। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতা ও দৈনিক সংবাদের সম্পাদক আলতামাশ কবির মিশু এলাকায় এসে নির্বাচর্নী প্রচারণা চালালে একজন সত্য ও নিষ্ঠানবান ব্যাক্তি হিসেবে সাদেক ও তার ভাই মিশু কবিরকে মনে মনে সমর্থন করতে থাকে। ফলে ইফতির ডাকে বিভিন্ন দলীয় কর্মকাণ্ড এবং সর্বশেষ ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খান দীলিপ ও কামরুল আশরাফ খান পোটেনের নির্বাচনী শো-ডাউনে যাওয়া থেকে বিরত থাকে। এতে ছাত্রলীগ সভাপতি ইফতি সাদেকের উপর ক্ষিপ্ত হয় এবং বিভিন্ন সময় তাকে হুমকি-দমকি দিয়ে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতে সাদেক পার্শ্ববর্তী খাসাওয়ালা গ্রামের বাসুর বাড়ীতে পূজা দেখতে গেলে পোটন বাহিনীর গজারিয়ার এলাকার সেনাপতি ইফতির লোকজনের সাথে তার বাক-বিতাণ্ডা শুরু হয়। এসময় ইছাখালি এলাকার কাজল মিয়ার পুত্র তাজুল এবং মৃত ছলিম উদ্দিনের পুত্র হাছান ও হোসেন একপর্যায়ে তাকে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করে। তিন জনে মিলে তাকে বেধকর মারপিটের ফলে সে আহত হয়ে সেখানে পড়ে থাকে। তাকে এ অবস্থায় রেখে তাজুল, হাছান ও হোসেন দ্রুত সাদেকের বাড়ী পৌছে ছোট ভাই অলি উল্লাহকে বাড়ী থেকে ডেকে নিয়ে এসে বাড়ী অদূরে পাকা রাস্তার পাশে একটি কলা ক্ষেত থেকে সোহাগ ও রাকিব নামে অপর দুই সন্ত্রাসী রাম দা, ছুরি, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল হাতে নিয়ে বের হয়ে আসে। সেগুলো তাজুল হাছান ও হোসেনের হাতে দিয়ে অলি উল্লাহকে চেপে ধরেন। পরে তাজুল, হাছান ও হোসেন হাতের অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি তাকে কোপাতে থাকে। এদিকে ছোট ভাইকে বাড়ী থেকে ডেকে মারধোরে খবওে বড় ভাই সাদেক ঘটনা স্থলে ছুটে আসলে সে তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। দুই ভাইয়ের মাথায়, হাতে ও পিঠেসহ বেশ কয়েক জায়গায় কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে তাদেরকে গুরুতর আহত অবস্থায় নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এব্যাপারে নরসিংদী জেলা হাসপাতালের সার্জন ডা. ফারুক হোসেন বলেন, তারা এখনো শঙ্কা মুক্ত নয়। তাদের মাথায় বেশ বড় রকমে আঘাত লেগেছে। যা সারতে একটু সময় নিবে। এদিকে ঘটনার পর পোটন বাহিনীর ভয়ে আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানা মামলা দায়ে করা হয়নি।
(এসএইচআর/এসএএম/ ২০ অক্টোবর ২০১৮)



