বালুয়াকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় ছাড়ছেন মেধাবীরা; শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের আন্তরিকতায় ঘাটতির অভিযোগ

মো: শাহাদাৎ হোসেন রাজু, নরসিংদী : নরসিংদী: নরসিংদীর শত বছরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানবালুয়াকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে আজও উন্নতি হয়নি শিক্ষার মান। জেলার পুরানো এই বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও সে হিসেবে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।

তাদের অভিযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে আন্তরিক নন এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদ।ফলে বিদ্যালয়ের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে নিজদের সন্তানদের অন্যত্র ভর্তি করাতে বাধ্য হচ্ছেন অভিভাবকরা।

অভিযোগে বলা হয়, ১৯০৬ সালে নরসিংদী জেলাররায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের বালুয়াকান্দি এলাকায় প্রতিষ্ঠা করা হয় বালুয়াকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়। হাটি হাটি পা পা করে শত বছরের গন্ডি পেড়িয়ে এখন ১১৩ বছরে এসে দাড়িয়েছে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সময়কাল। বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেনিতে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৬০০ জন ছাত্র-ছাত্রী অধ্যায়নরত রয়েছে।

শত বছরের পুরাতন এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি থেকে  শিক্ষাগ্রহণ করে গেছেন জেলার অনেক কৃতি সন্তান।অভিভাবকদের অভিযোগ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সারাবছর কোচিংয়ের নামে চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ বানিজ্য।শিক্ষার্থীদের বছরজুড়ে কোচিং করিয়ে গেলেও বিভিন্নজেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় আশানুরূপ ফলাফলবয়ে আনতে পারছে না। ২০১৮ সালের জেএসসি পরীক্ষায় ২৫৯ জন অংশ নিলেও একজন শিক্ষার্থীও জিপিএ-৫ পায়নি। যা বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করেন অভিভাবকরা।

বালুয়াকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক এর অধীনে একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি থাকলেও সেখান থেকে কোন বই পড়ার জন্য দেওয়া হয়না শিক্ষার্থীদের।অথচ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক লাইব্রেরির সদস্য হতে ২০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়।

 বিদ্যালয়ে গরীব মেধাবীদের বিনামূল্যে শিক্ষা গ্রহনের সুযোগ দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন অভিভাবকরা। এতে উল্লেখ করা হয়, প্রতিবছর নতুন শ্রেনিতে উঠার পর পূন:ভর্তি করতে শিক্ষার্থীদের কাছথেকে মোটা অংকের টাকা দাবী করেন বিদ্যালয়কর্তৃপক্ষ। যা অনেক গরিব শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদেরজন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। যার ফলে মাঝ পথেই শিক্ষাজীবন থেকে ঝড়ে পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

জানতে চাইলে বালুয়াকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক জয়নুল আবেদীন এ বিষয়ে বলেন,  গ্রামভিত্তিক সদস্যরা যাচাই বাছাই পূর্বক গরিব ও মেধাবি শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে অধ্যয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করে থাকেন। সারা বছর কোচিং করিয়ে জেএসসিতে একজন শিক্ষার্থীও জিপিএ-৫ না পাওয়ার বিষয়ে তিনিবলেন, আসলে এর ব্যর্থতা ছাত্র-শিক্ষক ও অভিভাবক সকলেরই । তবে যেহেতু আমরা শিক্ষক তাই ব্যর্থতা আমাদেরই বেশী।

(এসএইচআর/এসএএম/ ০৬ জানুয়ারি ২০১৮)


Comment As:

Comment (0)