ভারতে সুতা ও বস্তা রফতানিতে আয় কমেছে ২৭ শতাংশ

প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: বাংলাদেশের পাটজাত পণ্য রফতানিতে সম্প্রতি অ্যান্টিং-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ভারত সরকারের জারিকৃত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী দেশটিতে পাটজাত পণ্য প্রবেশে আগামী পাঁচ বছর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক দিতে হবে। এরই মধ্যে ভারত সরকারের এ সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ভারতে বাংলাদেশে তৈরি পাটজাত সুতা ও বস্তা রফতানি বাবদ আয় প্রায় ২৭ শতাংশ কমেছে।

রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

ইপিবির তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) ভারত থেকে পাটজাত সুতা ও বস্তা রফতানি বাবদ বাংলাদেশের আয় হয়েছে ৭ কোটি ৯৫ লাখ ৭ হাজার ৩০ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ আয়ের পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৯৬ হাজার ৪০৫ ডলার। এ হিসাবে আয় কমেছে প্রায় ২৭ শতাংশ।

জানা গেছে, ভারতে উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে কম দামে দেশটিতে পাটপণ্য রফতানি করে আসছিলেন বাংলাদেশের রফতানিকারকরা। এ পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেয় দেশটির পাটপণ্য উত্পাদনকারীরা। আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পর এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করে ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব অ্যান্টি-ডাম্পিং অ্যান্ড অ্যালাইড ডিউটিজ (ডিজিএডি)। প্রায় এক বছর তদন্তের পর ২০১৫ সালের অক্টোবরে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করে সংস্থাটি। এতে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ জানুয়ারি ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন রাজস্ব বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ডিজিএডির সুপারিশের আলোকে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে রফতানি হওয়া জুট ইয়ার্ন/টোয়াইন, হেসিয়ান ফ্যাব্রিক ও জুট স্যাকস— এ ডাম্পিং হচ্ছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ শিল্পের চেয়ে কম মূল্যে এসব পণ্য আমদানি করা হচ্ছে। এতে অভ্যন্তরীণ শিল্পের মুনাফা ও বিনিয়োগে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এজন্য এসব দেশ থেকে পাটপণ্য রফতানিতে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপের সুপারিশ করছে রাজস্ব বিভাগ। গেজেট প্রকাশের দিন থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর এটি কার্যকর থাকবে। আর এ শুল্ক দিতে হবে ভারতীয় মুদ্রায়।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) সাবেক চেয়ারম্যান আহমেদ হোসেন বলেন, ভারত বাংলাদেশ থেকে পাটপণ্য আমদানির বিপরীতে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। পাট সুতার ওপর মিলভেদে প্রতি টন ১৯-১৬২ ডলার করে ডাম্পিং শুল্ক আরোপের ফলে বাংলাদেশের পাট শিল্পের পরিস্থিতি দুর্বল হয়ে পড়বে। এরই মধ্যে এর আভাস দেখা যাচ্ছে।

বিজেএসএর মতে, ভারতে বাংলাদেশের পাটপণ্যের একটি বৃহত্তম বাজার সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু ভারতের নেয়া সাম্প্রতিক এ সিদ্ধান্তের প্রভাবে এখন বাজারটি সংকুচিত হতে শুরু করেছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ভারতে ১ লাখ ৪ হাজার ৮৩২ দশমিক ৯১ টন পাটসুতা রফতানি হয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী রফতানির ১৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

ভারতীয় রাজস্ব বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাংলাদেশের পাটপণ্য (সুতা ও বস্তা) রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রতি টন পাটপণ্যে সর্বনিম্ন ২০ দশমিক ৩৫ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ৩৫১ দশমিক ৭২ ডলার অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে— প্রাইড জুট মিলস, আশা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, সোনালি আঁশ ইন্ডাস্ট্রিজ, আলিজান জুট মিলস, শরীফ জুট মিলস, আনোয়ার জুট স্পিনিং মিলস, জনতা জুট মিলস, সিডল টেক্সটাইলস, সাগর জুট স্পিনিং, রহমান জুট মিলস, শমসের জুট মিলস, গোল্ডেন জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, পূরবী ট্রেডিং, সোনালি আঁশ ট্রেডিং, রাজবাড়ী জুট মিলস, নওয়াপাড়া প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ, উষা জুট স্পিনার্স, বিএস জুট স্পিনার্স লিমিটেড, মদিনা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, নর্দান জুট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি, জুট স্পিনার্স ও নওয়াব আবদুল মালেক জুট মিলস লিমিটেড।

(এসএএম/ ১১ এপ্রিল ২০১৭)


Comment As:

Comment (0)