‘বড় কিছু গ্রাহকের কাছে ব্যাংকাররা জিম্মি’
প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: বড় কিছু গ্রাহকের কাছে ব্যাংকাররা জিম্মি বলে জানিয়েছেন সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ।
মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনিস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) অডিটোরিয়ামে ব্যাংকের ঋণ কার্যক্রম বিষয়ক এক কর্মশালায় প্যানেল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গর্ভনর আবু হেনা মোহাম্মাদ রাজী হাসান।
ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, মুষ্ঠিমেয় কিছু লোক ও মুষ্ঠিমেয় কিছু শাখার কাছে আমরা জিম্মি রয়েছি। যখনই আমরা তাদের বিরুদ্ধে মামলা করি, তখনই তারা হাইকোর্টে রিট করে। বার বার রিটের জাল থেকে আমরা বের হতে পারছি না।
খেলাপি ঋণের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদেরকে ঢালাওভাবে খেলাপি না বলে একটু বিভাজন করে তথ্যপূর্ণভাবে বলা উচিত। তাহলে আমাদের দেশের চিত্র এতটা খারাপ মনে হবে না। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, যে দেশের জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধি ৭ এর উপরে, সে দেশের ব্যাংক খাত দুর্বল হতে পারে না।
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এই জিডিপি আসছে কিসের মাধ্যমে? এখানে সবার অংশগ্রহণ রয়েছে। আমাদের সোনালী ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার ৪০ শতাংশ। এটা শুনতে খুব খারাপ লাগছে। তবে আমাদের প্রকৃত খেলাপি ঋণ মাত্র ১০ শতাংশ।
কর্মশালায় ঋণের সংস্কৃতি ঠিক করতে বিশেষভাবে মনোযোগ দেয়ার আহ্বান জানান মেঘনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মাদ নুরুল আমীন ।
প্যানেল আলোচনায় বিআইবিএমের প্রফেসর ইয়াসিন আলী বলেন, বিদেশি ব্যাংকগুলোতে যদি খেলাপি ঋণের হার ১ শতাংশের কম হয়; তবে আমাদের দেশি ব্যাংকে বেশি হবে কেন?
বিআইবিএমের প্রফেসর হেলাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংকারদের মধ্যে সমন্বয় দরকার। সমন্বয় না থাকার কারণে একই ব্যক্তিকে বার বার ঋণ দেওয়া হচ্ছে।
রেগুলেটরদের মধ্যেও সমন্বয় দরকার বলে মনে করেন তিনি।
এসময় ডেপুটি গর্ভনর বলেন, ২০১৬ সালে খেলাপি ঋণের হার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ২০১৫ সালে যেখানে খেলাপি ঋণের হার ছিল ৮ দশমিক ৮ শতাংশ। সেখানে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত এই হার ১০ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে।
ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণের এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী। এছাড়া কর্মশালায় পেপার প্রেজেন্টেশন করেন বিআইবিএমের প্রফেসর ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জি।
(এসএএম/ ১১ এপ্রিল ২০১৭)



