নরসিংদীতে চেয়ারম্যান পদে আ’লীগের একক প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা॥ বঞ্চিতদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ
নরসিংদী প্রতিনিধি, বিনিয়োগবার্তা: আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নরসিংদী জেলার প্রত্যেক উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থীর নাম দলের কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডে পাঠানোর চেষ্টা করছে জেলা আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যে পলাশ, মনোহরদী, বেলাব ও রায়পুরায় দলটির একক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি দুটি উপজেলায়ও একক প্রার্থী নির্ধারণের জন্য দলের প্রভাবশালী নেতারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের পদক্ষেপের কারণে মনোনয়ন বঞ্চিতদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার কথাও ভাবছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো: জুলহাস মিয়া জানান, ইতোমধ্যে জেলার ৬ টি উপজেলায় চেয়ারম্যান ও মহিলাসহ দুই ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্তসহ আবেদনপত্র গ্রহণ শেষ হয়েছে। ৬ টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদের জন্য আবেদন করেছেন মোট ৪২ জন। উপজেলা পর্যায়ে প্রত্যেকের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে এবং তাদের মতামতও জানতে চাওয়া হয়েছে। তাদের মতামতের ভিত্তিতে পলাশ, মনোহরদী, বেলাব ও রায়পুরা ৪টি উপজেলা থেকে একজন করে এবং নরসিংদী সদরে ৩ জন ও শিবপুর উপজেলায় ২ জনের নাম প্রস্তাব করে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সমঝোতা করায় পলাশে পূনরায় বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দ জাবেদকে, মনোহরদীতে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের ছোট ভাই নজরুল মজিদ মাহমুদ স্বপন, বেলাবতে মোহাম্মদ আলী রিপন ও রায়পুরায় স্থানী সংসদ সদস্য রাজি উদ্দিন আহম্মেদ রাজুর পুত্র রাজিব আহম্মেদ পার্থকে একক প্রার্থী হিসেবে জেলা আ’লীগের পক্ষ থেকে সিদান্ত নেওয়া হয়েছে।
দলীয় প্রার্থী করার সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় কমিটির মনোনয়ন বোর্ডের কাছে পাঠানো হয়েছে। গত ২৫ জানুয়ারী সদর উপজেলার মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে সমঝোতার জন্য বসেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। বৈঠকে তৃণমূলে সমর্থন না চেয়ে জেলা নেতৃবৃন্দ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সফর আলী ভূঁইয়াকে একক প্রাথী হিসেবে ঘোষণা দিলে তাতে বাদ সাধেন অপর দুই মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: আনোয়ার হোসেন ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়া। তারা নিয়মানুযায়ী তিনজনের নাম প্রস্তাব করে কেন্দ্রে পাঠানোর দাবী করে। পরে তাদের দাবীর মুখে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সফর আলী ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়া ও জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: আনোয়ার হোসেনকে নিয়ে তিনজনের প্যানেল গঠন করা হয়েছে। শিবপুরে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের এখনও পর্যন্ত সমঝোতায় আনতে পারেনি। গত ৩ ফেব্রুয়ারী উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় তৃণমূলের সমর্থন পায় উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম রাখিল। কিন্তু স্থানীয় উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আ’লীগের সভাপতি হারুণ অর রশিদ ভূঁইয়াকে। তাই দু’জনের নামই প্রস্তাবনা পাঠানো হয়।
এর আগে একক প্রার্থী হিসেবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের ওপর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে নরসিংদী সদর ও শিবপুর উপজেলার দলীয় উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে। একাধিক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এ অভিযোগ করেছেন, তাদের কাছ থেকে লিখিত সমর্থনপত্র নেওয়ার চেষ্টা করছেন দলীয় পদে থাকা নেতারা।
এদিকে একক প্রার্থীর নির্ধারণে তোড়জোড়ের কারণে মনোনয়ন বঞ্চিত অনেক নেতাই দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করার কথাও ভাবছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মনোনয়ন বঞ্চিত কয়েকজন নেতা প্রতিবেদককে এ কথা জানিয়েছেন।
সার্বিক বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন ভূঁইয়া জানান, উপজেলার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী চুড়ান্ত করবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড। তার আগে তৃণমূল থেকে তিনজন করে প্রার্থীর একটি তালিকা চাওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের স্বাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন স্থানীয় এমপিসহ উপজেলা নেতৃবৃন্দ। প্রার্থীতার বিষয়ে তাদের কাছ থেকে আমরা যে তালিকা পেয়েছি তা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
(এসএইচআর/এসএএম/ ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)



