‘পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় আইনি স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জরুরি’

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা: পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় আইনি স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জরুরি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন। এ লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী আহম মোস্তফা কামাল  পুঁজিবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রেগুলেটর প্রতিষ্ঠানের সাথে বৈঠক করেছেন বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি কাজ করে যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিরোধী কোনো পদক্ষেপ বিএসইসি নিবে না বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১২ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পুরানা পল্টনের ফারস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট হোটেলে ‘দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নে শেয়ারবাজারের গুরুত্ব’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথি বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. এম খায়রুল হোসেন বলেন, বাজারের চাহিদার তুলনায় জোগান বেশি হলে পুঁজিবাজারের ভারসাম্য নষ্ট হয়। তাই সেকেন্ডারি মার্কেটের সক্ষমতা না থাকলে কোন কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দেওয়া হবে না। পুঁজিবাজারের ভারসাম্য ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বিএসইসি কাজ করে যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিরোধী কোনো পদক্ষেপ বিএসইসি নিবে না বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ভারতের পুঁজিবাজারে দৈনিক লেনদেনের ৪০ শতাংশই বিদেশি বিনিয়োগ। কিন্তু আমাদের পুঁজিবাজারের ৫ থেকে ৭ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগ। পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ জরুরি।

যোগ্য ব্রোকার ও মার্চেন্ট ব্যাংকারদের উদ্দেশ্যে বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে বিডিং প্রক্রিয়ায় বিডাররা অনেকে সুযোগ নিচ্ছে। কিন্তু ভবিষ্যতে বিডারদের তাদের বিডিং প্রাইজে শেয়ার নিতে হবে। মার্চেন্ট ব্যাংকের লাইসেন্স নিয়েও যারা আইপিও আনতে পারে নাই তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলেও পূনরায় জানান তিনি।

সেমিনারের প্রধান বক্তা সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, দেশের ব্যাংক ঋণের সুদের হার ৯.৮৫ শতাংশ। এরপরেও আমাদের উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যাংক ঋণের প্রতি আকর্ষণ বেশি। এতে একদিকে বিনিয়োগে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে বৃহৎ পুঁজি যোগান দিতে গিয়ে ব্যাংকগুলোর ঝুঁকির মুখে পড়ছে। উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে লোকসানে পড়ছে উদ্যোক্তারা। সময়মতো শোধ না করায় বিপুল পরিমাণ ঋণ খেলাপী হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নে শেয়ারবাজারের বিকল্প কোনো কিছু হতে পারে না।

তিনি আরো বলেন, আমাদের নতুন ভাল কোম্পানি আইপিওতে আনতে হবে। কিন্তু আইপিও অনুমোদনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে নতুন কোম্পানিগুলো বাজারে আসছে না। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে এ প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে হবে।

বিএসইসির সাবেক এ চেয়ারম্যান বলেন, আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে ব্যাংকগুলো কিন্তু ৩ বছরের মধ্য বাজারে আসতে হয়েছে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও একই আইনি বাধ্যবাধকতার মধ্যে আনা যেতে পারে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী, বিএমবিএর সাবেক সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমান, ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিষ্ট ফোরামের (সিএমজেএফ) সভাপতি হাসান ইমাম রুবেল।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও গাজী টিভির প্রধান প্রতিবেদক রাজু আহমেদ এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিজনেস আওয়ার টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান উপদেষ্টা ও ওমেরা ফুয়েলসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আকতার হোসেন সান্নামাত।

(এসএএম/ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)


Comment As:

Comment (0)