পুঁজিবাজারের টেকসই স্থিতিশীলতায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জরুরী

বিগত জানুয়ারি মাসে কিছুটা উত্থান প্রবণতায় থাকলেও ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই নাজুক অবস্থায় রয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। যদিও বাজার পরিস্থিতি নাজুক হওয়ার মতো বর্তমানে কোন কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। কিন্তু তারপরও কী অজানা কারণে যেন  বাজারে আস্থা খুঁজে পাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা।

এ অবস্থায় পুঁজিবাজারকে বিনিয়োগকারীদের আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে হলে সরকারকেই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতায় আর্থিক খাতের সব নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জরুরী। কারন, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নানামুখী সিদ্ধান্ত বিভিন্ন সময়ই পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রবণতার সৃষ্টি করে বলে বিভিন্ন সময় দেখা গেছে। তাই সংস্থাগুলোর মধ্যে অন্তত মাসে বা তিন মাসে একবার করে হলেও সমন্বয় সভা করা উচিত।

বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনও সম্প্রতি এক বক্তৃতায় এ বিষয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এর আগেও এ বিষয়ে ডিএসই ও সিএসইর এমডিসহ বেশ কয়েকজন দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন। কিন্তু কোনো ফল হচ্ছে না। এ বিষয়টিতে সরকারের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

বিশেষ করে সরকারি ব্যাংকসহ আরও যে প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে, সেগুলোকে বাজারে অন্তর্ভুক্ত করা। এছাড়া বেসরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো আনার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করতে হবে। যদি এগুলো অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তাহলে বাজার সম্প্রসারিত হবে এবং নতুন নতুন বিনিয়োগকারী আসবে। আবার বাজার কীভাবে উন্নয়ন করা যায়, এজন্য পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিকে আরও বেশি সক্রিয় হতে হবে। এর জন্য সরকারের উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা মনে করেন, রাষ্টায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) বিরুদ্ধে অনেক দিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে। আইসিবির কাজ হচ্ছে যখন বাজার টানা ঊর্ধ্বগতি বা নিম্নগতি থাকবে তখন সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করা। আর এ জন্যই আইসিবিকে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কিন্তু আইসিবি কখনোই সেভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারছে না। এ বিসয়টি বিবেচনায় আনতে হবে। প্রয়োজনে আইসিবির মতো আরও দু/একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আবার পুঁজিবাজারে যে ইনসাইডার ট্রেডিং বিরাজমান রয়েছে সেটিও বন্ধ করতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে কোম্পানিগুলোর মালিকরাও জড়িত থাকেন। কাজেই এটি বন্ধ করা গেলে বিনিয়োগকারীর আস্থা ফিরবে বলেও মনে করছেন তারা।

(বিনিয়োগবার্তা/ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)


Comment As:

Comment (0)