ফেসবুকের শেয়ারদরে বড় পতন

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা : দুই নির্বাহী কর্মকর্তার আকস্মিক পদত্যাগের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান ফেসবুকের শেয়ারের মূল্য গত শুক্রবার ৫ শতাংশের মতো পতন হয়েছে । এ দরপতনে গত তিন মাসের মধ্যে ফেসবুকের শেয়ারের দাম সর্বনিম্নে দাঁড়ায়।

ঘটনাটি এমন এক সময় হল যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির গ্রাহকদের গোপনীয়তা রক্ষা, চরমপন্থী ও রাজনৈতিক বিষয়ক কনটেন্ট প্রচারের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। খবর রয়টার্স।

খবরে বলা হয়েছে, ফেসবুকের পণ্যবিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ক্রিস কক্স ও হোয়াটসঅ্যাপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল এর পদত্যাগের পরেই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দরপতন হয়েছে। কারণ ওয়াল স্ট্রিটের পরিচিত মুখ কক্স দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের সঙ্গে কাজ করছিলেন।

একই সঙ্গে তিনি সামাজিক নেটওয়ার্কের ব্যবসার উন্নয়নে কাজ করা দলেরও নেতৃত্বে ছিলেন। শুধু তা-ই নয়, বার্তা আদান-প্রদানের জন্য সামাজিক মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপকে ব্যবসায়িক মডেলে দাঁড় করাতেও তিনি যথেষ্ট সাহায্য করেছেন।

বৈশ্বিক গবেষণাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান জেপি মরগান তাদের বিশ্লেষণে জানিয়েছে, আমরা মনে করি, ফেসবুকের লক্ষ্য, মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় কক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ওয়াল স্ট্রিটসহ কোম্পানির ভেতরে ও বাইরে অত্যন্ত সুপরিচিত ছিলেন। অন্যদিকে হোয়াটসঅ্যাপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিস ড্যানিয়েলের পদত্যাগেও শেয়ারের দরপতনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এদিকে নিউজিল্যান্ডে শুক্রবারের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ফেসবুকে প্রায় ১৭ মিনিট লাইভ দেখানো এবং তার ভিডিও ফুটেজ ব্যাপক আকারে অনলাইনে ছড়িয়ে যাওয়ার পর ফেসবুক, টুইটার ও গুগলের প্লাটফর্মে চরমপন্থী কনটেন্ট নিয়ে ফের সমালোচনা শুরু হয়েছে।

বৈশ্বিক আর্থিক বাজার বিশ্লেষক ক্লিমেন্ট থিবাল্ট বলেন, নিউজিল্যান্ডে গুলিবর্ষণের লাইভ স্ট্রিমিংয়ের ঘটনায় ফেসবুকের ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার বিষয়ে অনেক প্রশ্ন সামনে আসে। একই সঙ্গে এ ভয়াবহ আক্রমণের জন্য এ প্লাটফর্ম সাহায্য করেছে। এটা ছড়িয়ে দেয়ার জন্য নিঃসন্দেহে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে।

নিউজিল্যান্ডে এ ঘটনার পর ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভেদ এক টুইটে বলেন, সামাজিক মাধ্যমগুলোকে অবশ্যই তাদের চ্যানেলে চরমপন্থা বন্ধের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। ইউটিউব, গুগল, ফেসবুক ও টুইটারকে তাদের প্লাটফর্মে চরমপন্থী সহিংসতা বন্ধ করতে হবে।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে আরো অর্ধশত। এ সময় পুরো ঘটনাটি হামলাকারী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে প্রদর্শন করেছেন।

এদিকে নিজের প্লাটফর্ম থেকে ভুয়া কনটেন্ট সরাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছে ফেসবুক। একই সঙ্গে কয়েক হাজার কর্মীকে কনটেন্ট পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলতে নিয়োগ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

(এস আর/ ১৭ মার্চ ২০১৯)


Comment As:

Comment (0)