আইসক্রিমও চলবে এই ডায়েটে, অন্যদিকে ওজন কমবে হুড়মুড়িয়ে

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা : জানতে চান, কী আছে এই ডায়েটে ও কীভাবে সে ওজন কমায়? আর এ ওজন কমাতে চাইলে ভরসা রাখুন নিয়ম মেনে ডায়েট পালনে। ডায়েট মেনে চললে সহজেই আপনার ওজন কমবে।
যেখানে ২৫০০–৩০০০ ক্যালোরি খাচ্ছেন, সপ্তাহের প্রথম বা শেষ তিন দিন তা নেমে আসে ১৪০০, ১২০০ ও ১১০০–তে৷ পরের চার দিনও ১৫০০ ক্যালোরির বেশি খাওয়া যায় না৷ ফলে ওজন কমে৷ আবার এই ডায়েটে প্রোটিন, ফাইবার ও ক্যালশিয়াম বেশ ভাল মাত্রায় থাকে৷ শরীরের মেটাবলিক রেট বাড়িয়ে ফ্যাটকে জ্বালিয়ে দিতে এদের ভূমিকাও কম নয়৷

ওজন কমাতে উপোসেরও ভূমিকা আছে৷ এই ডায়েটে সপ্তাহে এক দিন খেতে হয় ১১০০ ক্যালোরি৷ হিসাব অনুযায়ী, দিনে ১০০০ বা তার কম ক্যালোরি খেলে তাকে উপোশ ধরা হয়৷ কাজেই যেদিন ১০০০ ক্যালোরি খাচ্ছেন, সে দিন কার্যত আপনি উপোস করছেন৷ অথচ যেটুকু খাচ্ছেন, তা পুষ্টিতে ঠাসা৷ দুই মিলে সপ্তাহে চার কেজির মতো ওজন কমে৷

কেমন ডায়েট?

প্রথম দিন ১৪০০ ক্যালোরি বরাদ্দ৷ ব্রেকফাস্টে দুধ–চিনি ছাড়া চা/কফির সঙ্গে এক পিস হোলগ্রেন ব্রেডের টোস্ট, দু’চামচ পি–নাট বাটার/অ্যামন্ড বাটার ও অর্ধেক বাতাবি লেবু খান৷ দুপুরে টোস্টের সঙ্গে খান আধ কাপ টুনা, চিনি ছাড়া চা/কফি৷ রাতে তিন আউন্স বা ৮৫ গ্রাম লিন চিকেন/বিফ/পর্ক/মটন, এক কাপ মটরশুঁটি, অর্ধেক কলা, এক কাপ ভ্যানিলা আইসক্রিম।

দ্বিতীয় দিন ১২০০ ক্যালোরি খেতে পারবেন৷ সকালে এক কাপ চা/কফির সঙ্গে অর্ধেক কলা ও একটা ডিম সেদ্ধ৷ দুপুরে ডিম সেদ্ধর সঙ্গে এক কাপ কটেজ চিজ, পাঁচটা ক্রিমক্র্যাকার বিস্কুট, চা/কফি৷ রাতে দুটো হটডগ (বান ছাড়া), অর্ধেক কলা, অর্ধেক কাপ সেদ্ধ গাজর, অর্ধেক কাপ সেদ্ধ বা সতে করা ব্রকোলি, অর্ধেক কাপ ভ্যানিলা আইসক্রিম৷

তৃতীয় দিন খেতে হবে ১১০০ ক্যালোরি৷ সকালে চা/কফির সঙ্গে এক টুকরো শেডার চিজ, পাঁচটা ক্রিমক্র্যাকার বিস্কুট, একটা ছোট আপেল৷ দুপুরে এক পিস হোলগ্রেন ব্রেডের টোস্ট, একটা ডিম, চা/কফি৷ রাত্রে এক কাপ টুনা, অর্ধেক কলা, এক কাপ ভ্যানিলা আইসক্রিম৷
চতুর্থ থেকে সপ্তম দিন ১৫০০ ক্যালোরি আপনার বরাদ্দ৷ ইচ্ছা মতো খেতে পারেন৷ ভাবছেন, ১৫০০ ক্যালোরিতে আর কী হবে! অনেক কিছু হবে৷ অঢেল ফাইবারসমৃদ্ধ শাক–সব্জির সঙ্গে মাপ মতো কম মিষ্টি ফল, লিন মিট, কম তৈলাক্ত মাছ, ডিমের সাদা খেতে পারবেন৷ ডবল টোন্‌ড দুধ ও এই দুধে বানানো খাবার, ডাল, অল্প করে ব্রাউন রাইস–হোল হুইট ব্রেড বা পাস্তা খাওয়া যাবে৷ তবে রান্নায় কিন্তু ৩–৪ চা–চামচের বেশি তেল ব্যবহার করা যাবে না৷ বাদ দিতে হবে যাবতীয় ফাস্ট ফুড, জাঙ্ক ফুড, মিষ্টি ও মদ্যপান৷
সাবধানতা

যে কোনও বয়সে, যে কোনও পরিস্থিতিতে বা শরীরের হাল–হকিকত না বুঝে ডায়েট শুরু করা যাবে না৷ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ধীরে ধীরে খাবারের পরিমাণ কমিয়ে ও পুষ্টি বাড়িয়ে শরীরকে তার সঙ্গে অভ্যস্ত করার পর কাজে নামুন৷ নাহলে দিন–রাত খিদে যেমন পাবে, অসুস্থও হয়ে পড়তে পারেন৷ নতুন ধরনের খাবার শরীর কতটা মেনে নেবে, সেটাও প্রশ্ন৷ সব দিক বজায় রাখতে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে নেওয়া ভাল৷

(এস আর/ ১৭ মার্চ ২০১৯)


Comment As:

Comment (0)