পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা: শুধু কথায় নয়, কাজেও প্রমান করুন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই দেশের পুঁজিবাজারে অস্থিতরতা বিরাজ করছে। আলোচ্য সময়ে বাজারের সূচক ও লেনদেনে দারুন মন্দাবস্থা দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানি ও ফান্ডের শেয়ারদর। অথচ, গত বেশ কয়েক মাস ধরেই বলা হচ্ছিল জাতীয় নির্বাচনের পরে দেশের শেয়ারবাজার অনন্য উচ্চতায় যাবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি, বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সরকারের উর্ধ্বতন মহল থেকে এমন আভাসই দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একাদশ সংসদ নির্বাচন ও সরকারের নতুন মেয়াদের প্রায় তিনমাস অতিবাহিত হতে চললেও পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা এখনো পর্যন্ত সেই আভাসের সুফল পাননি।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ি, দেশের শেয়ারবাজারে প্রায় ত্রিশ লক্ষ বিনিয়োগকারী রয়েছেন। নতুন সরকারের অর্থমন্ত্রী, বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টাসহ ২১জন এমপি-মন্ত্রী প্রত্যক্ষভাবে শেয়ারবাজারের সাথে জড়িত। এছাড়া পরোক্ষভাবে শেয়ারবাজারের সঙ্গে রয়েছেন আরও প্রায় কয়েক ডজন সাংসদ। এছাড়াও শত শত সরকারি আমলা, প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি, উকিল, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে দেশের শেয়ারবাজারের সঙ্গে।

দেশের শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এখন আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘আইওএসকো’র ‘এ’ ক্যাটাগরির সদস্য হিসেবে আভির্ভূত হয়েছে। গত কয়েক বছরে শেয়ারবাজার সংক্রান্ত বিভিন্ন আইন-কানুন ও বিধি-বিধান প্রণয়নের মাধ্যমে বিএসইসি বাজারের নিয়ন্ত্রনে এক যুগান্তকারী সংস্থা হিসেবে আভির্ভূত হয়েছে। স্টক একসচেঞ্জগুলোও স্টাটেজিক পার্টনার নিয়ে আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারের অঙ্গনে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ডিএসই চীনা কনসোর্টিয়ামকে স্টাটেজিক পার্টনার হিসেবে নিয়েছে। তারা এখন যৌথভাবে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে কাজ করছে। আর সিএসই স্ট্যাটেজিক পার্টনার নেওয়ার কাজ চলমান রেখেছে। খুব শিগগীরই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতকিছুর পরও বাজারে এখন টেকসই স্থিতিশীলতা আনয়ণে সমস্যাটি আসলে কোথায় তা বোধগম্য নয়।

এদিকে শেয়ারবাজারে দেশিয় বৃহৎ কোম্পানি, রাষ্টায়ত্ত কোম্পানিসমূহ ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে তালিকাভূক্তির কথা অনেক দিন ধরেই বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না। কেন তা করা হচ্ছে না-তাও বিশ্লেষকদের বোধগম্য নয়।

সম্প্রতি নতুন সরকারের অর্থমন্ত্রী আহম মোস্তফা কামাল বিএসইসির এক অনুষ্ঠানে বাজারের উন্নয়নে তার ওপর আস্থা রাখতে বলেছেন। সাধারণ বিনিয়োগকারীসহ বাজার সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষই বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। কিন্তু আর কতদিন? সম্প্রতি প্রায় প্রতিদিনই বিনিয়োগকারীদের পুঁজি খাঁটো হয়ে আসছে। নতুন টাকা বিনিয়োগ করলেই তা কমে আসছে। এ অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে বাজারের ওপর মানুষের আস্থাতো নয়ই বরং যতটুকু এগিয়েছিল তার থেকেও কয়েকগুন পিছিয়ে পড়বে পুঁজিবাজার। তাই এখনই বাজারকে সামনের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য শক্তভাবে হাল ধরতে হবে। এ বিষয়ে শুধু কথা না বলে কাজ করে প্রমাণ দেখিয়ে দিতে হবে।

(বিনিয়োগবার্তা/এসএএম/ ০৬ এপ্রিল ২০১৯)

 


Comment As:

Comment (0)