পুঁজিবাজারের স্টেকহোল্ডারদের দাবি-দাওয়াগুলো গুরুত্ব সহকারে আমলে নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা: আসন্ন জাতীয় বাজেটকে কেন্দ্র করে পুঁজিবাজারের সকল স্টেকহোল্ডারদের সব দাবি দাওয়া গুরুত্ব সহকারে আমলে নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। একইসঙ্গে তাদের সব দাবি-দাওয়াগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে লিখিত আকারে মন্ত্রনালয়ে জমা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড একচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।  এছাড়াও দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সমস্যা-সুবিধার কথা মনোযোগ সহকারে শুনেন তিনি এবং এসব বিষয়ে শিগগীরই কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও কমিশনের কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করেন তিনি।

সোমবার সাম্প্রতিক পুঁজিবাজার ইস্যুতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল এসব বিষয়ে আশ্বাস দেন।

বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন সভাপতিত্বে বৈঠকে অনান্যের মধ্যে অর্থ মন্ত্রনালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. মো: আসাদুল ইসলাম, বিএসইসির কমিশনারবৃন্দ- অধ্যাপক ড. হেলাল উদ্দিন নিজামী, অধ্যাপক ড. স্বপন কুমার বালা, খোন্দকার কামালুজ্জামানসহ  কমিশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষ্যে সোমবার সারাদেশে সব সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালত বন্ধ ছিল। কিন্তু এমন ছুটির দিনেও দেশের পুঁজিবাজার নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সঙ্গে বৈঠক করার বিষয়ে আগ্রহ দেখান অর্থমন্ত্রী। ফলশ্রুতিতে সোমবার বিকেলে তাদের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, আসন্ন বাজেটকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছে পুঁজিবাজারের স্টেকহোল্ডাররা। বৈঠকে স্টেকহোল্ডারদের ওইসব দাবি-দাওয়া সম্পর্কে অর্থমন্ত্রীকে অবহিত করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন। একইসঙ্গে কমিশনের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সমস্যা ও সুবিধার কথা তুলে ধরেন তিনি। অর্থমন্ত্রী এসব দাবি-দাওয়া খুবই গুরুত্ব সহকারে শুনেন এবং এসব বিষয় উল্লেখপূর্বক লিখিত চিঠি শিগগীরই মন্ত্রনালয়ে পাঠানোর জন্য কমিশনকে নির্দেশ দেন অর্থমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, স্টেকহোল্ডারদের বিভিন্ন দাবি- দাওয়ার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো ছিল- দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্মল ক্যাপিটাল প্লাটফর্ম বাস্তবায়ন, ব্রোকারেজ হাউজের শাখা ও বুথ স্থাপনের অনুমোদন, ডিভিডেন্ড এর উপর দ্বৈতকর পরিহার ও স্ক্রিপ্ট নিটিং চালু, সংকটকালিন সময়ে বাজারকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য বিশেষ ফান্ড গঠন প্রভৃতি।

বৈঠকে দেশের পুঁজিবাজারকে আরও সম্প্রসারিত করা, বাজারে গতিশীলতা ফেরানো এবং এ বাজারের উন্নয়নে আসন্ন জাতীয় বাজেটে বেশ কিছু আর্থিক প্রণোদনা থাকবে বলে কমিশনকে অবহিত করেন অর্থমন্ত্রী।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। এর মধ্যে কিছু বিষয়ের প্রতিফলন আগামী অর্থবছরের বাজেটেই থাকবে। বাজারকে আরও শক্তিশালী করা, এর ব্যাপ্তী বাড়ানো, আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে এই বাজারে সম্পৃক্ত করা, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সুবিধা ইত্যাদি বিবেচনা করে বাজেটে বেশ কিছু ক্ষেত্রে কর-ছাড় দেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে লভ্যাংশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আগাম আয়কর (Advance Income Tax-AIT) সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে তালিকাভুক্ত প্রত্যেক কোম্পানি শেয়ারহোল্ডার বা বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্য লভ্যাংশ বিতরণকালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশনা অনুসারে আগাম আয়কর কেটে রাখে। সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীর কর সনাক্তকরণ নাম্বার বা টিআইএন (Tax Identification Number-TIN) থাকলে ১০ শতাংশ এবংশ টিআইএন না থাকলে ১৫ শতাংশ হারে এআইটি কেটে রাখা হয়।

বিএসইসির কর্মকর্তারা জানান, ‘সাম্প্রতিক পুঁজিবাজারসহ নানা বিষয় নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ছুটির দিন হওয়ায় তিনি আমাদের সকল কথাবার্তা মনোযোগ সহকারে শুনতে পেরেছেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে লিখিত আকারে এসব বিষয়াদি মন্ত্রানালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী বাজেটে এসব বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন।’

(এএইচএন/ এসএএম/ ২৩ এপ্রিল ২০১৯)

 


Comment As:

Comment (0)