‘ঋণ ব্যবস্থা সহজলভ্য করতে জামানত হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে অস্থাবর সম্পদ’

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা:  প্রচলিত ঋণ ব্যবস্থায় স্থানান্তরযোগ্য ও অস্থাবর সম্পদকে জামানত হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে অধিক মানুষের নিকট ঋণ সহজলভ্য করার জন্য ‘‘সিকিউরড ট্রানজ্যাকশন (অস্থাবর সম্পত্তি) আইন ’’ নামে প্রস্তাবিত আইনের খসড়ার ওপর স্টেকহোল্ডারদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল ২০১৯) ঢাকাস্থ হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ-এ মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

এরআগে অস্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত বাংলাদেশে প্রচলিত বিভিন্ন আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আইএফসি (বিশ্বব্যাংক গ্রুপ) কর্তৃক প্রস্তাবিত আইনের খসড়াটি প্রস্তুত করা হয়। প্রস্তুতকৃত খসড়াটি ইতিপূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হলে তাতে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার প্রতিষ্ঠান মতামত প্রদান করে।

মতবিনিময় কর্মশালায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিবৃন্দ, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ, আইএফসি এর কর্মকর্তাবৃন্দসহ বাংলাদেশে কর্মরত সকল ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ), বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ), এফবিসিসিআই, ডিসিসিআই, এমসিসিআই, বিজিএমইএ, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল আর্বিট্রেশন সেন্টার (বিআইএসি), বিএলএফসিএ, এবিবিএল, বিএবি-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক প্রতিনিধিবৃন্দ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মোঃ আবুল বশর এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মোঃ আসাদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর জনাব এস, এম, মনিরুজ্জামান।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি) এর কান্ট্রি ম্যানেজার মিস উয়েন্ডি ওয়ার্নার। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি) এর সিকিউরড ট্রানজ্যাকশন বিশেষজ্ঞ ফ্রান্সেসকা লো রে এবং মুরাত সুলতানভ কর্তৃক বিশেষ প্রেজেন্টেশন, আইএফসি এর আইন পরামর্শক ব্যারিস্টার জুনায়েদ চৌধুরী কর্তৃক প্রস্তাবিত আইনের খসড়ার উপর স্টেকহোল্ডার প্রদত্ত মতামত বিশ্লেষণ এবং প্রশ্নোত্তর পর্ব পরিচালনা করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই। বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে দারিদ্র্য দূরীকরণ, চাকুরীর সুযোগ সৃষ্টি এবং জীবনমানের উন্নয়ন ঘটে। তিনি আরো বলেন, মাইক্রো, ক্ষুদ্র এবং মাঝারি উদ্যোক্তাগণ (এমএসএমই) এখনো পর্যাপ্ত জামানতের অভাবে তাদের প্রয়োজনীয় পরিমাণে ঋণ গ্রহণ করতে পারেন না। প্রস্তাবিত আইনটি অনুমোদিত হলে সহায়ক জামানত হিসেবে স্থানান্তরযোগ্য সম্পদের এক বিরাট বাজার সৃষ্টি হবে, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর বলেন, প্রস্তাবিত খসড়াটি বাংলাদেশে প্রচলিত বিভিন্ন আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনের সাথে সামঞ্জস্যতা বজায় রেখে আইএফসি এর আইন পরামর্শক কর্তৃক প্রস্তুত করা হয়েছে। আর্থিক লেনদেন এবং ঋণ প্রাপ্তি সহজীকরণের জন্য আইনের খসড়াটি প্রণীত হচ্ছে বিধায় এটি আইনে পরিণত হলে তা বিশ্বব্যাংক প্রণীত সহজে ব্যবসা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নতি ঘটবে। এজন্য তিনি সকলকে প্রণীত খসড়া প্রসঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি মোঃ আবুল বশর তাঁর বক্তব্যে প্রধান অতিথি এবং বিশেষ অতিথিকে সভায় উপস্থিতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বিভিন্ন দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখার জন্য আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এছাড়া উপস্থিত সকলকে প্রস্তাবিত আইনটি সম্পর্কে তাদের অধিকতর কোন পরামর্শ থাকলে তা ই-মেইলে প্রেরণ করার জন্য আহবান করেন এবং ভবিষ্যতে এ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রত্যাশা রেখে সকলকে ধন্যবাদ জানান।

(এসএএম/ ২৫ এপ্রিল ২০১৯)


Comment As:

Comment (0)