শেয়ারবাজার অস্থিতিশীল নয়, বরং অবমূল্যায়িত: এফআরসি চেয়ারম্যান
নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা: দেশের শেয়ারবাজার অস্থিতিশীল নয়; বরং অবমূল্যায়িত বলে মন্তব্য করেছে ফিনান্সিয়াল রিপোর্টি কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যান সি কিউ কে মোস্তাক আহমেদ।
তিনি বলেন, আমাদের দেশের শেয়ারবাজার অস্থিতিশীল এটা আমার কাছে মনে হয় না। বরং আমি মনে করি এ বাজারটি এখনো অনেক অবমূল্যায়িত। এখানে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে অনেক দেরী করা হয়। আরেকটি কারণ হলো অস্বচ্ছ ও ফুলানো-ফাঁপানো আর্থিক প্রতিবেদন। আর এ থেকে মুক্তির অন্যতম উপায় হচ্ছে সব বিনিয়োগকারীকে কমবেশি আর্থিক প্রতিবেদন সক্ষমতা অর্জন করা। আর এই জায়গা থেকে উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন সাংবাদিকরা।
মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর পল্টনে ফারস হোটেলে পুঁজিবাজার বীটের সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
‘ওয়ার্কশপ অন দা ফিনান্সিয়াল রিপোর্টি এ্যাক্ট-২০১৫’ কর্মশালাটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ)।
এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এফআরসির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ।
এফআরসি চেয়ারম্যান সি কিউ কে মুস্তাক আহমেদ বলেন, সবার সচেতনতার মাধ্যমে পুঁজিবাজারে কারচুপি লাঘব হবে। তবে দুঃখজনক হলো, এখানে সবাই আর্থিক হিসাব বুঝতে চায় না। অথচ, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য এ জাতীয় মৌলিক জ্ঞানের দরকার অনেক।
ডিএসইর চেয়ারম্যান ড. আবুল হাশেম বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যালেন্স শীট বুঝতে হবে। একটি ব্যালেন্স শীট কোম্পানির ইনডেক্স। আর যেসব নিরীক্ষকরা রুলস মানেন না, তাদেরকে এফআরসি সঠিক রাস্তায় আনতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কর্মশালায় ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, নিরীক্ষকদের উপরে বিশ্বাস করে লাখ লাখ মানুষ শেয়ারবাজারে বিভিন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করছে। অথচ, নিরীক্ষকরাই একটি কোম্পানির অতিরঞ্জিত ও ভূয়া আর্থিক হিসাব তৈরীতে সহায়তা করে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।
তিনি বলেন, একটি কোম্পানি পুঁজিরবাজারে আসার জন্য আর্থিক হিসাব ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখায়। ওই সময় বছরের ব্যবধানে কয়েকগুণ বিক্রয় ও মুনাফা বেড়ে যায়। যে কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির ২-৩ বছরেই লোকসানে ও ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে যায়। অথচ আইপিওতে আসার সময় যদি নিরীক্ষক সঠিকভাবে নিরীক্ষা করত, তাহলে এমনটি হওয়ার সুযোগ তৈরী হতো না।
উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখন আইপিওতে আসতে চাওয়া সব কোম্পানির প্রসপেক্টাসই বিএসইসির ওয়েবসাইটে আপলো
ড দেওয়া হয়। আপনারা আইপিও অনুমোদনের আগে এসব কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেনের অস্বচ্ছতা নিয়ে লেখা লেখি করুন। এগুলো আমাদেরকে বা বিএসইসিকে জানান। তাহলেই দেখবেন সব অপকর্ম বন্ধ হয়ে যাবে। আইপিও অনুমোদনের পরে এগুলো নিয়ে লেখালেখি করে কোনো লাভ নেই বলেও এসময় মন্তব্য করেন তিনি।
ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাজেদুর রহমান বলেন, পুঁজিবাজারে তথ্য সরবরাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন হয়। এফআরসির নজড়দারির মাধ্যমে সেই তথ্য সঠিক ও সুন্দরভাবে প্রকাশিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে আর্থিক হিসাব প্রকাশে একটি ভালো সংস্কৃতি তৈরী হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
সিএমজেএফ’র সভাপতি হাসান ইমাম রুবেল বলেন, বিভিন্ন কোম্পানির অতিরঞ্জিত আর্থিক হিসাব নিয়ে বিএসইসিকে অসহায়ত্ব প্রকাশ করতে দেখেছি। সব কোম্পানির আর্থিক হিসাব যাছাই করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। তবে নিরীক্ষার মান উন্নয়নে যে এফআরসি হয়েছে, তার মাধ্যমে ওই সমস্যা কেটে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
(এসএএম/ ৩০ এপ্রিল ২০১৯)



