আলহাজ্ব টেক্সটাইলকে আরও ১০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা দেবে অগ্রণী ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা: আদালতের আদেশ অনুযায়ী, অগ্রণী ব্যাংক থেকে আরো ১০ কোটি ৮৩ লাখ ৯১ হাজার ৪৫৭ টাকা পাবে পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি আলহাজ্ব টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড।

ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, আলহাজ্ব টেক্সটাইলকে আরও ১০ কোটি ৮৩ লাখ ৯১ হাজার ৪৫৭ টাকা ২ সপ্তাহের মধ্যে পরিশোধ করার জন্য অগ্রণী ব্যাংককে গত ৭ মে নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্ট। এমনকি টাকা পরিশোধের পর আগামী ২২ মে এর মধ্যে বিষয়টি আদালতে জানাতে হবে বলেও নির্দেশ প্রদান করেন। তারই প্রেক্ষিতে ব্যাংকটি কোম্পানিকে এ টাকা পরিশোধ করে।

জানা যায়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশ অনুযায়ী আলহাজ্ব টেক্সটাইলকে ৫৫ কোটি ৮৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫৭৮ টাকা দিতে হবে অগ্রণী ব্যাংককে। নির্দেশ অনুযায়ী, প্রথম দফায় কোম্পানিটিকে ২৫ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে ব্যাংকটি। দ্বিতীয় দফায় ১০ কোটি ৮৩ লাখ ৯১ হাজার ৪৫৭ টাকা পরিশোধ করে ব্যাংকটি। অর্থাৎ অগ্রণী ব্যাংক থেকে আল হাজ্ব মোট ৩৫ কোটি ৮৩ লাখ ৯১ হাজার ৪৫৭ টাকা পেয়েছে।

জানা যায়, ১৯৮৯ সালে এফডিআর করা অর্থ যথাসময়ে ফেরত না দেওয়ায় ব্যাংকটির বিরুদ্ধে মামলা করে আলহাজ্ব টেক্সটাইল। অগ্রণী ব্যাংকের ঈশ্বরদী ব্রাঞ্চের কাছে এ কোম্পানির মোট ৫২ কোটি ৫৬ লাখ ৯ হাজার ৩৭৫ টাকা দাবি ছিল। পাওনা টাকা আদায়ে আলহাজ্ব টেক্সটাইল আদালতের দ্বারস্থ হয়। আদালত কোম্পানির পক্ষে রায় প্রদান করেন এবং ব্যাংকটিকে বাকি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন। কিন্তু অগ্রণী ব্যাংক আদালতের নির্দেশ সম্পূর্ণ না মেনে আট কোটি ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা কোম্পানিকে প্রদান করে। পরে বাকি টাকা পাওয়ার জন্য কোম্পানিটি পুনরায় আদালতের শরণাপন্ন হয়।

এর আগে ৩১ জানুয়ারি মহামান্য  হাইকোর্ট থেকে এফডিআর মামলার রায়ের লিখিত আদেশ দেওয়া হয়। রায়ে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আলহাজ্জ টেক্সটাইল কর্তৃপক্ষকে ৫৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে। অর্থ পরিশোধ করে ৭ দিনের মধ্যে বিষয়টি আদালতকে অবহিত করার জন্য অগ্রণী ব্যাংকের এমডিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে আলহাজ্ব পাওনা অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি অগ্রণী ব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন বলে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীকালে এর বিরুদ্ধে আপিল করে অগ্রণী ব্যাংক।

কোর্টের লিখিত আদেশ বলা হয়, অগ্রণী ব্যাংকের ইশ্বরদী শাখায় ১৯৮৯ সালের ২২ জানুয়ারি সময়ে সুদসহ আলহ্বাজ টেক্সটাইলের এফডিআর তহবিলের পরিমাণ ছিল ৪৩ কোটি ১১ লাখ ৬২ হাজার ৫৫৬ টাকা। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি অগ্রণী ব্যাংক কোম্পানিকে পরিশোধ করে ৮ কোটি ১১ লাখ ২৫ হাজার ২ টাকা। এতে তহবিলের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৫ কোটি ৩৭ হাজার ৫৫৪ টাকা। এরপর ওই বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে তহবিলে সুদ যুক্ত হয় ২০ কোটি ৮৩ লাখ ৯ হাজার ২৫ টাকা। পরে সুদসহ মোট তহবিলের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৫ কোটি ৮৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫৭৮ টাকা।

এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি আদালত আলহাজ্ব টেক্সটাইলের পক্ষে রায় দিয়ে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ৫৫ কোটি ৮৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫৭৮ টাকা পরিশোধের জন্য অগ্রণী ব্যাংকে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি এই টাকা পরিশোধ করে ৭ দিনের মধ্যে আদালতকে অবহিত করার জন্য অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

(এসএএম/ ১৯ মে ২০১৯)


Comment As:

Comment (0)