এবারও চমক নরসিংদীর আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজের
নরসিংদী প্রতিনিধি, বিনিয়োগবার্তা: নরসিংদীর আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ এবারও চমকপ্রদ ফলাফল করেছে।
বুধবার (১৭ জুলাই) প্রকাশিত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষনার পর থেকে আনন্দ উৎসবে মেতে উঠে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
এবছর কলেজ থেকে ৯৩৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে সবাই পাস করেছেন। এদের মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৫৭০ জন শিক্ষার্থী।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, বিশিষ্ট শিল্পপতি থার্মেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাদির মোল্লা ২০০৬ সালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পার্শে নিজ নামে প্রতিষ্ঠা করেন এ কলেজটি। এর পর থেকেই কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে কলেজটি পরিচালিত হয়ে আসছেন । কলেজটি প্রতিষ্ঠাতার পর থেকে ২০০৮ সালে প্রথম ফলাফলই ছিল ৯৯%। ২০০৯ সালে শতভাগ পাসসহ ঢাকা বোর্ড কর্তৃক পঞ্চম এবং সমগ্র বাংলাদেশে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করে, ২০১০ শতভাগে চতুর্থ স্থান ও ঢাকা বোর্ড কর্তৃক জেলার শ্রেষ্ঠ কলেজ নির্বাচিত হয়, ২০১১ সালে ঢাকা বোর্ডে টপ টুয়েন্টিতে সপ্তম স্থান এবং শতভাগে চতুর্থ স্থান অর্জন করেন। ২০১২ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত টানা তিন বছর ঢাকা বোর্ডে তথা সমগ্র বাংলাদেশে শতভাগ পাসসহ টপটুয়েন্টিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক টপটুয়েন্টি বাতিল করায় গত ২০১৫ সাল থেকে ২০১৯ সালের ফলাফলে নিজেদের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রেখেছে।
বুধবার দুপুরে ফলাফলের খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা কলেজ প্রাঙ্গণে ছুটে আসে। পরে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল কাদির মোল্লার উপস্থিতিতে ভালো ফলাফল করায় আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্টি আদায় করে দোয়া করোনো হয়।
এ বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কলেজটিতে মোট ৯৩৯ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে তার মধ্যে ৫৭০ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৫০৪ জন অংশ নিয়ে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪২৮ জন, ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে ২৩৬ জন অংশ নিয়ে ৮১ জন ও মানবিক শাখা থেকে ১৯৯ জন অংশ নিয়ে ৬১ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে।
বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পাওয়া নওরিন সুলতানা জানায়, শিক্ষকদের সঠিক দিক-নির্দেশনা, নিয়মিত ক্লাস, বিশেষ ক্লাস, হোম ভিজিট, টিউটেরিয়াল ও মাসিক পরীক্ষা কারণেই এই ভালো ফলাফল হয়েছে।
মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিল মিয়া জানায়, আমরা হোস্টেলে থাকি নাই। কলেজের শিক্ষকরা নিয়মিত আমাদের বাসায় এসে খোঁজ-খবর নিতেন। এ কারণে আমাদেরকে প্রতিনিয়ত লেখাপড়ায় ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। যার কারণে আজ আমাদের এ সাফল্য।
কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও থার্মেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাদির মোল্লা বলেন, এই কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে এই সফলতা অর্জন করে আসছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আর তা সম্ভব হয়েছে আমাদের এক ঝাঁক তরুণ শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এবং শিক্ষার্থীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায়। এর ধারাবাহিকতা রক্ষায় আমার নিরন্তর চেষ্টা আছে, আগেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। আর এই ফলাফলের কৃতিত্ব পুরো নরসিংদীবাসীর।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. মাহমুদুল হাসান রুমি বলেন, আমাদের কলেজের এ সাফল্য শিক্ষকদের মেধা ও শিক্ষার্থীদের মেধার সেতুবন্ধনের ফসল। এই কলেজের এক ঝাঁক তরুণ মেধাবী শিক্ষক সকাল থেকে শুরু করে মধ্য রাত অবধি তাদের নিরন্তর চেষ্টায় আজকের ধারাবাহিক এই সাফল্য। প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন দিক-নির্দেশক শিক্ষক রয়েছে। ওই শিক্ষক শুধু লেখাপড়া নয়, তাদের খেলাধুলা, স্বাস্থ্য, বিনোদন থেকে শুরু করে সকল ধরনের চাহিদা পূরণে সবসময় শ্রম দিয়ে আসছেন।
(এসএইচআর/ এসএএম/ ১৭ জুলাই ২০১৯)



