মিউচ্যুয়াল ফান্ডে রি-ইনভেস্টমেন্ট বাতিল পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা: মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো ডিভিডেন্ড হিসেবে আর রি-ইনভেস্টমেন্ট ইউনিট দিতে পারবে না বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সম্প্রতি কমিশনের সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে ফান্ডগুলোকে এখন থেকে ক্যাশ ডিভিডেন্ড বা নগদ লভ্যাংশ দিতে হবে।

বিএসইসির এ সিদ্ধান্তের ফলে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। এছাড়া কল মানি রেট আগের চেয়ে কমিয়ে আনার কারনেও বাজার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

বিএসইসির সাম্প্রতিক কমিশন সভাগুলোতে পুঁজিবাজার সংক্রান্ত বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্লেসমেন্ট শেয়ার ইস্যুর পরে আইপিও অনুমোদনে চার বছরের বেশি সময় লাগা কোম্পানির ক্ষেত্রে এক বছর লক-ইন করা হয়েছে। উদ্যোক্তা পরিচালক ও ১০ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ারধারণকারীদের জন্য তিন বছর লক-ইন প্রযোজ্য হবে। অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের ক্ষেত্রে একবছর ও বাকি অন্যসব শেয়ারে দুই বছর লক-ইন রাখা হবে। আর ফিক্সড প্রাইজ পদ্ধতিতে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কোটা ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩০ শতাংশে আনা হয়েছে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা ৪০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে এবং মিউচুয়াল ফান্ডগুলো লভ্যাংশ হিসেবে আর রি-ইনভেস্টমেন্ট ইউনিট দিতে পারবে না। এখন থেকে ফান্ডগুলোকে নগদ লভ্যাংশ বা ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিতে হবে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের মিউচুয়াল ফান্ডের প্রতি আগ্রহ বাড়বে। এছাড়া কল মানি রেট আগের চেয়ে কমিয়ে আনা হয়েছে। এর ফলেও বাজার ইতিবাচক হবে বলে মনে হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যেকোনো সংস্কারের সুফল পেতে কিছুটা হলেও সময় লাগে। আর সবার আগে বিনিয়োগকারীদের সচেতন হবে হবে। অযথা রেগুলেটরদের দোষ দিলে লাভ হবে না। রেগুলেটর ইচ্ছা করলে বাজার বাড়াতে পারবে না, আবার ইচ্ছা করলে কমাতেও পারবে না। এরা আইন-কানুন ও নীতি সহায়তা দেবে মাত্র। তবে এসব ক্ষেত্রে বিএসইসিকে অবশ্যই বিনিয়োগকারী ও অংশীজনদের স্বার্থকে আগে বিবেচনায় নিতে হবে।

(বিনিয়োগবার্তা/এসএএম/ ১৮ জুলাই ২০১৯)

 


Comment As:

Comment (0)