‘সাসটেইন্যাবল রিপোর্ট তৈরিতে জিআরআই গুরুত্বপূর্ণ’

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা: গ্লোবাল রিপোর্টিং ইনিশিয়েটিভ (জিআরআই) এর গাইডলাইনগুলো বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য, প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত, বিশ্বস্ত এবং ব্যবহারবান্ধব৷ সাসটেইন্যাবল রিপোর্ট তৈরিতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ কারণ একুশ শতাব্দিতে প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা হলো সততা ও বিশ্বাস সৃষ্টি করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম৷ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কোম্পানির ব্র্যান্ডিং, খ্যাতি এবং পণ্যের পার্থক্য কাঙ্খিত পর্যায়ে বৃদ্ধি করে৷

জিআরআই প্রতিষ্ঠার পর থেকে মুনাফার দিক থেকে বিশ্বের ৯৩ শতাংশ বৃহত্তর কোম্পানির তিন-চতুর্থাংশ সাসটেইন্যাবল রিপোর্ট তৈরিতে জিআরআই’র কাঠামো ব্যবহার করে আসছে৷

বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯)  নেদারল্যান্ডভিত্তিক গ্লোবাল রিপোর্টিং ইনিশিয়েটিভ (জিআরআই) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে ঢাকার স্থানীয় একটি হোটেলে “টেকনিক্যাল সিরিজেস প্রিপেয়ারিং এ সাসটেনেবল রিপোর্ট” শীর্ষক এক ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়।

ওয়ার্কশপে ডিএসই’র পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব কথা বলেন৷

এসময় উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ইনচার্জ) আবদুল মতিন পাটওয়ারী, এফসিএমএ, জেনারেল ম্যানেজার এবং কোম্পানি সচিব মোহাম্মাদ আসাদুর রহমান, এফসিএস, জিআরআই সাউথ এশিয়ার সাসটেনেবিলিটি এক্সপার্ট মিস পল্লবী আত্রী, জিআরআই সাউথ এশিয়ার ডিএফএটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মিস রুবিনা সেন৷

মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, জিআরআই মান অনুযায়ী ডিএসইর তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে রিপোর্ট তৈরিতে সহায়তা প্রদান ও পরিবেশ রক্ষা এবং কর্পোরেট গভর্ন্যান্স পরিপালন ও স্টেকহোল্ডারদের সম্পর্কের উন্নয়নের মাধ্যমে সমাজের উন্নতি, খ্যাতি বৃদ্ধি ও বিশ্বাস স্থাপনের জন্য ডিএসই  ইতোমধ্যে সাসটেইন্যাবল রিপোর্টিং এর উপর নির্দেশিকা চালু করেছে এবং সমস্ত তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে এটি অনুসরণ করার জন্য আহবান জানিয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকার ব্যাপকভাবে সুরক্ষা, নিরাপত্তা এবং পরিবেশের দৃঢ়তার উপর জোর দিয়েছে৷ ডিএসই রেগুলেটরি সংস্থা ও জিআরআই-এর সহযোগিতায় সাসটেইন্যাবল রিপোর্টিং নির্দেশিকার উপর এই সমর্থন অব্যাহত রাখবে এবং এই কর্মশালা থেকে সকল তালিকাভুক্ত কোম্পানি লাভবান হবে৷

ডিএসইর পরিচালক আরও জানান, ১০ মাস সময়ের মধ্যে ৩টি ওয়ার্কশপ হবে আর এটি দ্বিতীয় কর্মশালা।

ইমন বলেন, ১৯৫৪ সালের স্টক এক্সচেঞ্জ আজকে ৪০ বিলিয়ন ডলারের মার্কেট৷ যদি জিডিপি, ফরেন কারেন্সি রিজার্ভ এবং গ্রোথের সাথে তুলনা করা হয় তবে এটা খুবই দুঃখজনক যে দেশের ক্যাপিটাল মার্কেটের সে গ্রোথটা নেই। একটা হচ্ছে ইকোনমির সাথে গ্রোথ হবে আর আরেকটা হচ্ছে রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড কে বৃদ্ধি করে বিশ্বের কাছে উপস্থাপন করে অন্যদের আকর্ষণ সৃষ্টি করা৷  সকল মহলের প্রধান চাহিদা কোম্পানিগুলোর আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একটি রিপোর্ট৷ বিশ্বব্যাপী যেটা গ্রহণযোগ্য৷ বাংলাদেশে কিছু মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী রিপোর্ট করে। কিন্ত আরও অনেক ভাল কোম্পানি এটি করতে পারে৷ এই প্রক্রিয়ায় আমাদের পুঁজিবাজার, জিডিপি এবং অর্থনীতি সবই আরো উচ্চ স্তরে যেতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ডিএসই ও জিআরআই এর যৌথভাবে আয়োজিত এই কর্মশালা সমাপ্তির পর আগামী দিনগুলোতে আরও বাংলাদেশি কোম্পানি এই ধরনের রিপোর্ট তৈরি ও প্রকাশ করবে। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, ডিএসই তাদের জাতিসংঘের এসএসই উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই ধরনের কর্মশালার আয়োজন অব্যাহত রাখবে।

তার আগে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মতিন পাটওয়ারী এফসিএমএ স্বাগত বক্তব্যে বলেন, সটেনেবিলিটি রিপোর্ট এখন মূলধারার ব্যবসায়িক অনুশীলন। জিআরআই এর সাসটেনেবিলিটি স্ট্যান্ডার্ডগুলো হলো বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি মান যা প্রতিষ্ঠানের অর্থনীতি, পরিবেশ এবং সমাজের উপর তাদের প্রভাব সম্পর্কে যোগাযোগ করার জন্য একটি সার্বজনীন ভাষা এবং বিশ্বাসযোগ্য একগুচ্ছ প্রকাশনা৷ এছাড়াও জিআরআই নেতিবাচক পরিবেশগত, সামাজিক এবং প্রশাসনিক প্রভাব হ্রাস করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে। যা প্রতিষ্ঠানের খ্যাতি এবং ব্র্যান্ড ভ্যালু ও লয়ালিটি বৃদ্ধি করে। আর এরফলে এক্সটারনাল স্টেকহোল্ডারগন প্রতিষ্ঠানের সঠিত মূল্য এবং স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ সম্পর্কে অবগত হন।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিঃ ও জিআরআই যৌথভাবে তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিবেশগত, সামাজিক এবং সুশাসন এর বিষয়ে প্রতিশ্রুতি ও সচেতনতা গড়ে তুলতে নির্দেশনা প্রদানের জন্য কাজ করছে। ডিএসই অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সাসটেনেবিলিটি রিপোর্টিং এবং কর্পোরেট স্বচ্ছতার বিষয়ে গভীর আগ্রহ লক্ষ্য করছে এবং ডিএসই’র তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে একটি বৃহৎ সংখ্যার কোম্পানি সাসটেনেবিলিটির বিষয় রিপোর্ট করছে৷ “টেকনিক্যাল সিরিজেস প্রিপেয়ারিং এ সাসটেনেবল রিপোর্ট”’ বিষয়ে জিআরআই ডিএসই’র কর্মশালার সফল সমাপ্তির পরে আরও বাংলাদেশি কোম্পানি আগামী বছরগুলোতে এ ধরনের প্রতিবেদন প্রস্তুত ও প্রকাশ করবে।

সাউথ এশিয়া গ্লোবাল রিপোটিং ইনিশিয়েটিভের পরিচালক ড. অদিতি হালদার বলেন, সাসটেইনেবল রিপোর্ট তৈরী এবং এটি প্রচারে দক্ষতা ও পারদর্শিতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী ১১০ টি দেশ জিআরআই স্ট্যান্ডার্ডগুলো নিয়ে কাজ করছে এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের মত নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো একসাথে কাজ করলে এ কাজগুলো আরও সহজ হয়ে যায়। আজকের এই ওয়ার্কশপটি ডিএসই’র সহযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে পরবর্তী সিরিজটি ২০২০ সালের প্রথমে অনুষ্ঠিত হবে।

প্রসঙ্গত, জিআরআই হল একটি আন্তর্জাতিক স্বাধীন সংস্থা যা ১৯৯৭ সাল থেকে কর্পোরেট সাসটেইন্যাবিলিটি রিপোর্টিং এর ক্ষেত্রে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করে আসছে। জিআরআই ব্যবসা, সরকার এবং অন্যান্য সংগঠনকে জটিল সাসটেইন্যাবিলিটি ইস্যু, যেমন: জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার, দুর্নীতি এবং অন্যান্য বিষয়ের উপর ব্যবসায়ে প্রভাবকে বোঝায় এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহায়তা করে। ৯০টির বেশি দেশে এর কয়েক হাজার প্রতিনিধি রয়েছে। জিআরআই টেকসই রিপোর্টিং-এর উপর বিশ্বের সবচেয়ে বিশ্বস্ত এবং ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত স্টান্ডার্ডগুলো প্রদান করে, সক্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলো এবং তাদের স্টেকহোল্ডারগণ এই বিষয়গুলোর তথ্যের উপর ভিত্তি করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়।

(এসএএম/ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯)


Comment As:

Comment (0)