‘পুঁজিবাজারে সুশাসন বৃদ্ধি করতে বিনিয়োগ শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে’
নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা: বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে ও স্টেকহোল্ডারদের মাঝেও জবাবদিহিতা তৈরী হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন।
তিনি বলেন, কমপ্লায়েন্স পরিপালন না করলে শাস্তির আওতায় পড়ার বিষয়টি বাজার সংশ্লিষ্টরা বুঝতে পারছে। কাজেই সুশাসন বৃদ্ধি করতে বিনিয়োগ শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যাতে আমরা পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি।
রোববার (০৬ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসির নিজস্ব কার্যালয়ে ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০১৯’ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. এম খায়রুল হোসেন বলেন, ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন্স অব সিকিউরিটিজ কমিশন্স (আইওএসকো) বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ চালুর আগে থেকেই আমরা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কার্যক্রম চালু করেছি। তবে সেটা আনুষ্ঠানিক রূপ পায় ২০১৭ সালের ৮ জানুয়ারি মানীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক দেশব্যাপি বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে। সেই থেকে বিএসইসি ও এর অংশীজনরা বছরের বিভিন্ন সময়েই এ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, শেয়ারবাজারকে সমৃদ্ধির পথে নিতে হলে শুধু ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ শিক্ষা দিলে হবে না, বরং সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিনিয়োগ শিক্ষা দিতে হবে। বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম শুধুমাত্র অ আ ক খ বিষয়েই ধারনা দেয় না। বরং এটি শেয়ারবাজারের গুরুত্ব, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নে শেয়ারবাজার কেনো গুরুত্বপূর্ণ, ব্যাংক ঋণ কেনো বন্ধ করতে হবে ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞানের সীমা বাড়াচ্ছে। বিনিয়োগ শিক্ষার মাধ্যমে জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা দূর হয়ে পরিধি যখন বাড়বে, তখন অর্থনীতির আকার আরও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, আমেরিকার শিল্পায়নে শেয়ারবাজারের ভূমিকা ৫৫ শতাংশ। যেখানে আমাদের শেয়ারবাজারের অবদান মাত্র ১০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। জাতীয় অর্থনীতিতে শেয়ারবাজারের অবদান বাড়াতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
এবারের বিনিয়োগকারী সপ্তাহ অত্যন্ত ফলপ্রসু ছিল জানিয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, পুরো সপ্তাহের সব অনুষ্ঠানেই আমার দৃষ্টি ছিল। এবার আমার ভালো সাড়া পেয়েছি। অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আগ্রহ দেখেছি। ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যেও আগ্রহ ছিল। এছাড়া স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল, বিএমবিএ, বিআইসিএম থেকে শুরু করে অনেকেই বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। যা সমাজ জীবনে ব্যাপক নাড়া দিয়ে গেছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন নিজামী, স্বপন কুমার বালা, খোন্দকার কামালউজ্জামান এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা।
(এসএএম/ ০৬ অক্টোবর ২০১৯)



