পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট দূর করতে জোড়ালো পদক্ষেপ নিন
দেশের পুঁজিবাজার পরিস্থিতি ক্রমেই নাজুক হচ্ছে। দিন যত যাচ্ছে পতনের আকারও তত ভয়াবহ হচ্ছে। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দরই গত দু-তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে। কিছু কিছু শেয়ারের দর কমেছে আশংঙ্কাজনক হারে। যা বাজারে পতনের গতি বাড়াচ্ছে। এরই ধারবাহিকতায় সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমেছে। এমন অবস্থায় ধৈর্য্যহার হয়ে পড়ছেন বিনিয়োগকারীরা, বাড়ছে হতাশা ও ক্ষোভ।
বিশ্লেষকদের মতে, পুঁজিবাজারে গত ৮-৯ বছরে অনেক সংস্কার হয়েছে। আলোচ্য সময়ে কমবেশি ৮০টির মতো আইন-কানুন ও বিধি-বিধান করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। বাজারে তারল্য বাড়ানোর লক্ষ্যে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন বাংলাদেশ (আইসিবি)। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাশাপাশি সরকারি ৫টি ব্যাংকের কাছে এ টাকা চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ব্যাংকগুলো এ টাকা দিলে তা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। পুঁজিবাজারে গতি ফেরাতে এমন পদক্ষেপ নেয়া হলেও বাজারে তার ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। কিছুতেই যেন আলোর মুখ দেখতে পাচ্ছে না পুঁজিবাজার।
একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয় যে, এখন আইন-কানুন ও রেগুলেটরির দিক থেকে শক্ত ভীতের উপর দাড়িয়েছে পুঁজিবাজার। বাজারে নতুন নতুন প্রোডাক্ট আনা হচ্ছে। নতুন নতুন ইনভেস্টমেন্ট টুলস যুক্ত করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে বাজারটি যখন ঘুরে দাড়ানোর কথা-ঠিক এমন সময়ে কেন এই পতন হচ্ছে তা বলা মুশকিল। এমন পতনের বাজারে পুরোনো বিনিয়োগকারীরা যেমন পূণ:বিনিয়োগ করতে পারছেন না, তেমনিভাবে নতুন বিনিয়োগকারীরাও টাকা নিয়ে আসতে সাহস পাচ্ছেন না। এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের আস্থার চরম ঘাটতি রয়েছে। এই আস্থার ঘাটতি দূর করার জন্য জোড়ালো পদক্ষেপ নিতে হবে। বিনিয়োগ শিক্ষার সম্প্রসারণের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করতে হবে। এছাড়া সরকারকেও এ বিষয়ে আরও আন্তরিক হতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
(বিনিয়োগবার্তা/ ১২ অক্টোবর ২০১৯)



