ডিএসইর ‘আইপিও রিভিউ টিম’ যেন আইওয়াশ না হয়
দেশের পুঁজিবাজারে `স্বচ্ছ ও ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানি’ আনার লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) গঠন করা ‘আইপিও রিভিউ টিম’ বিনেয়াগকারীদের মাঝে নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আইপিওতে আসা কোম্পানিসমূহের গুনগত মান নিয়ে নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এনড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নির্দেশে এই কমিটি গঠন করেছে ডিএসই। ডিএসইর দাবি, এই টিম গঠনের ফলে আইপিওতে স্বচ্ছ ও ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি আসবে।
৬ সদস্যের এই কমিটিতে ডিএসইর স্বতন্ত্র পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমানকে প্রধান এবং লিস্টিং বিভাগের প্রধানকে সদস্য সচিব করে গঠন করা আইপিও রিভিউ টিমে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে- ডিএসইর স্বতন্ত্র পরিচালক বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান, শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন এবং প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মতিন পাটোয়ারীকে।
ডিএসই জানিয়েছে, প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন করা কোম্পানির প্রসপেক্টাস পর্যালোচনার জন্য এ কমিটি কাজ করবে। এ জন্য বিভিন্ন চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক বিশ্লেষক এমন ১০-১৫ জন বাছাই করে এক্সপার্ট প্যানেল করবে কমিটি। একটি কোম্পানির প্রসপেক্টাস পর্যালোচনা করতে এক্সপার্ট প্যানেলে থাকা বিভিন্ন চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক বিশ্লেষকদের মধ্য থেকে কমপক্ষে দুইজন এবং সর্বোচ্চ তিনজন কাজ করবেন।
এদিকে ডিএসইর এই আইপিও রিভিউ কমিটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। কেউ কেউ মনে করছেন, গঠিত এই কমিটিতে পর্যাপ্ত এক্সপার্ট নেই। আইপিও কোম্পানিগুলোর প্রসপেক্টাসে প্রদত্ত তথ্য-উপাত্ত ও আর্থিক বিবরণী যাচাই-বাছাইয়ের সক্ষমতা নেই এ কমিটির। আবার এ কমিটিকে ‘ধান্দার নতুন পথ’ হিসেবেও মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করে সংগঠনটি। এই টিম গঠন করে ডিএসইর পরিচালকদের একটি অংশ প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) বাণিজ্যে মেতে উঠবে, সেই সঙ্গে অবৈধ প্লেসমেন্ট সুবিধা নেবে বলেও সন্দেহ করেছে সংগঠনটি।
বিশ্লেষকদের মতে, পুঁজিবাজারে ভালো আইপিও আনার জন্য এবং বিনিয়োগকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে বিএসইসির নির্দেশনায় ডিএসই কর্তৃক নেওয়া এ পদক্ষেপ অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। সময়ের বিবেচনায় এ ধরনের পদক্ষেপ নি:সন্দেহে প্রসংশার দাবি রাখে। তবে এতে আরও অভিজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞানসম্পন্ন জনবল অন্তর্ভূক্ত করা দরকার। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট দূর করতে এ পদক্ষেপ যেনো আইওয়াসে পরিণত না হয়, প্রকৃত শিল্প উদ্যোক্তাদের কোম্পানিগুলোর যেন পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের সুযোগ সৃষ্টি হয়, সে দিকটিকে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।
(বিনিয়োগবার্তা/ এসএএম/ ৩০ অক্টোবর ২০১৯)



