পদ্মা-মেঘনায় ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালী ইলিশ
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় ৩১ অক্টোবর থেকে পদ্মা, মেঘনায় মাছ ধরতে নেমেছেন চাঁদপুরের জেলেরা। তাদের জালে ধরা পড়ছে এখন ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালি ইলিশ। আর সেই ইলিশ নিয়ে মোকামে ফিরছেন তারা। কাঙ্খিত ইলিশ পেয়ে জেলে-ফিশিং ট্রলার মালিক ও মৎস্য আড়তদারদের মুখে দেখা দিয়েছে হাসির ঝিলিক।
৯ থেকে ৩০ অক্টোবর প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় দেশের অন্যান্য স্থানের মতো চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনাতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল প্রশাসন। ২২ দিনের অবরোধ শেষ হওয়ার পর মাছ ধরতে নামেন জেলেরা। গত ৩/৪ দিনই দেখা গেছে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালি ইলিশ ধরা পড়ছে জেলেদের জালে। আর মাছ পেয়ে খুব সন্তুষ্ট তারা।
চাঁদপুর জেলার প্রধান পাইকারি ইলিশের বাজার বড়স্টেশন মাছঘাটই শুধু নয়, জেলার দক্ষিণের হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী, কাটাখালী, বাবুরবাজার, হরিণা, ইশানবালা, মাঝেরচর, নীল কমল, চান্দ্রা চৌরাস্তা, আনন্দ বাজার এমন কি ষাটনল পর্যন্ত ছোটবড় মোকাম গুলো এখন ইলিশে ভরপুর।
চাঁদপুর মাছঘাটে যেসব ইলিশ এখন উঠছে, তার অধিকাংশই চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে ধরা পড়েছে। আবার জেলার বাইরে বরিশাল, ভোলা, হাতিয়া, রামতগি ও লক্ষীপুরের ইলিশ ও আসছে এ মোকামে।
তরতাজা ইলিশ মাছ কিনতে অনেক সাধারণ ক্রেতাও ভিড় করছেন এ পাইকারি বাজারে। পাইকাররা মাছ কিনে বরফ দিয়ে সাজিয়ে বাতাস নিরোধক কার্টুনে ভর্তি করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাচ্ছেন বা নিয়ে যাচ্ছেন। আড়তদার, জেলে ও ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে মুখরিত এখন প্রতিটি মোকাম।
চাঁদপুরের জেলেরা জানান, ২২ দিনের অভিযানের পর স্থানীয় নদীতেই ধরা পড়েছে প্রচুর ইলিশ। ছোট ছোট ইলিশের সঙ্গে বড় আকারের ডিমওয়ালা ইলিশও ধরা পড়ছে। তারা বলছেন এখনো অনেক ইলিশেই ডিম রয়ে গেছে।
চাঁদপুর রনঘোয়াল এলাকার জেলে হরিনাত দাস জানান, ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় সরকার আমাদের কে এসময় ২০ কেজি চাল দিয়েছেন। অবশেষে নিষেধাজ্ঞা শেষে জালে মাছ পড়তে শুরু করছে। এটা আমাদের জন্য অনেক আনন্দের। মাছের প্রচুর সরবরাহ থাকায় আমাদের মতো খুশি মাছ ব্যবসায়ী ও আড়ৎদারা।
জেলে হাবিব, মিরন, সবুজ দাসসহ বেশ কয়েকজন জেলে জানান, গতবছরের তুলনায় এবার ইলিশ উৎপাদন আশা করি বেশি হবে কারণ গত কয়েকদিন আমরা ভালো ইলিশ পাচ্ছি। আগামী দিনগুলোতে ও এমনি করে ইলিশ পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
চাঁদপুর মাছ ঘাটের ইলিশ বিক্রেতা রাজু হোসেন জানান, বাজারে এখন দর চলছে বড় ইলিশ যে গুলো দেড় কেজি থেকে ২ কেজির উপরে সেগুলো ১৬০০/১৮০০ টাকা কেজি, ১১০০ গ্রাম থেকে ১৪শ গ্রাম গুলো ১১০০/১২০০ টাকা, এক কেজির গুলো ৮৫০ থেকে ১০০০ টাকা আবার নামার ইলিশ হলে দাম কিছুটা কম ও আছে। আর ৭০০ থেকে ৯৯০গ্রামের গুলো ৭৫০/৮৫০ এর মধ্যে। ৫০০-৬০০ গ্রামের গুলো ৪৫০/৬০০ এর মধ্যে আর এর থেকে ছোটগুলো ৩০০/৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী জানান, সরকারি নির্দেশনার আওতায় আমরা ২২ দিন নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় কাজ করেছি, আমাদের মৎস্য বৈজ্ঞানিকরা তাদের গবেষণা চালিয়েছেন মা ইলিশ নিয়ে, এবছর ও পর্যাপ্ত পরিমাণে ডিম ছাড়তে পেরেছে মা ইলিশ তাই উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা অর্জিত হবে আশা করি। মার্চ-এপ্রিল আমাদের যে জাটকা অভিযান চলবে, এটাকে যদি আমরা সঠিকভাবে বজায় রাখতে পারি তাহলে আমাদের ইলিশের উৎপাদন অব্যাহত থাকবে বলে ও আশাবাদ ব্যক্ত করেন এ কর্মকর্তা।
(এমআইআর/ ০৩ নভেম্বর ২০১৯)



