রামপালে যন্ত্রপাতি সরবরাহে ভারতীয় কোম্পানিকে ১২,৮৯৭ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে যন্ত্রপাতি সরবরাহের জন্য প্রায় ১০ হাজার কোটি রুপি বা ১২ হাজার ৮৯৭ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ পেয়েছে ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যাল লিমিটেড (বিএইচইএল)।
মঙ্গলবার ভারতের দ্য ইকোনোমিক টাইমসের এক প্রতিবেদন বিএইচইএল এর বরাত দিয়েেএ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, তারা ইতিহাসের সব চেয়ে বড় রপ্তানি আদেশ পেয়েছে। সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক নিলামের মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) এর কাছে থেকে এই রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, বিআইএফপিসিএল ভারতের ন্যাশনাল থারমাল পাওয়ার কোম্পানির (এনটিপিসি) ও বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (বিপিডিবি) এর একটি যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠান।
রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট মৈত্রী সুপার বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণে ২০১২ সালের অক্টোবরে বিপিডিবি ও বিআইএফপিসিএল একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে।
সুন্দরবন থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে পশুর নদীর তীর ঘেঁষে এই প্রকল্পে ১৮৩৪ একর জমির সীমানা চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০১০ সালে জমি অধিগ্রহণ করে বালু ভরাটের মাধ্যমে নির্মানের কাজ শুরু করা হয়েছে।
জানা গেছে, যন্ত্রপাতি কিনতে যে ১০ হাজার কোটি রুপির রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে তাতে ভারতের বৈদেশিক বিনিয়োগে সহায়ক এক্সিম ব্যাংক বিএইচইএল’কে প্রকল্পের শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ অর্থ দেবে। এক্ষেত্রে শতকরা প্রায় ১ ভাগ সুদ ধরা হবে।
২০১৮ সালে কয়লা ভিত্তিক এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে দেশে এবং দেশের বাইরে সুন্দরবনের কাছেই এই বিশাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ বন্ধ রাখতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানানো হচ্ছে। হচ্ছে আন্দোলনও।
রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি বাতিলের দাবিতে হরতাল, লংমার্চ, বিক্ষোভ মিছিল করার কর্মসূচি করেছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। এখনও গণ সংযোগ করে যাচ্ছেন অনেকে।
জাতিসংঘের অঙ্গ সংগঠন ইউনেস্কো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এরকম একটি প্রকল্প বাংলাদেশে সুন্দরবনের পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করবে।
ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টার এবং ইন্টারন্যাশনাল কনজার্ভেশন ইউনিয়ন(আই ইউ সি এন) বলেছে, এমন সম্ভাবনা খুব প্রবল যে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দূষণ সুন্দরবনের অপূরণীয় ক্ষতি করবে।
ইউনেস্কো বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সুন্দরবনের ক্ষতি না হয় এমন কোনো জায়গায় সরিয়ে ফেলার পরামর্শ দিয়েছে। এই আহ্বানের জবাবে বাংলাদেশ সরকারের দিক থেকে এখনো কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রকল্প বাতিলের দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে আন্দোলন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি বলেছেন, ন্যায্যমূল্যে জনগণের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে দেশে বিভিন্ন অংশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রামপালের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ঐতিহ্যবাহী রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য কোনো ক্ষতির কারণ হবে না।
আন্দোলনকারীদের উদ্দ্যেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, ভুল, মনগড়া, মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবেন না। বর্তমান সরকার পরিবেশ সংরক্ষণে অত্যন্ত সচেতন।
১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো সুন্দরবনকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ঘোষণা করে।
(এসএএম/ ২৫ এপ্রিল ২০১৭)



