বেনাপোল কাস্টমস হাউসের লকার ভেঙ্গে সোনা-অলংকারসহ মুল্যবান সামগ্রী চুরি

বেনাপোল প্রতিনিধি, বিনিয়োগবার্তা: যশোরের বেনাপোল কাস্টমস হাউসের নিরাপদ গোপনীয় লকার ভেঙ্গে সোনা, অলংঙ্কার, ডলারসহ মুল্যবান সামগ্রী চুরি হয়েছে। এ লকারে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমান সোনা, ডলারসহ মুল্যবান পন্যসামগ্রী থাকে।

এ ঘটনায় সোমবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, লকারে ৩০ কেজি সোনা ছিল; তার মধ্যে ১৯ কেজি ৩৮০গ্রাম চুরি হয়েছে। এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজন সহকারী রাজস্ব অফিসারসহ ৫জনকে হেফাজতে নিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার থেকে রবিবারের মধ্যে যেকোন সময় এ চুরি সংঘঠিত হয়েছে বলে জানানো হয়।

ঘটনাটি নিয়ে বেনাপোল কাস্টমস হাউসপাড়া  ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ চুরি নিয়ে সকলের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একাধিক তালা ভেঙ্গে, প্রহরীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিভাবে চুরি হলো-তা প্রশ্নবিদ্ধ। অনেকে ঘটনাটি রহশ্যজনক বলেও মনে করছে।

দুঃসাহসিক এ চুরি উদঘাটনে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশসহ র‌্যাব, গোয়েন্দা পুলিশ, সিআইডি(ক্রাইম সিন) ও পিবিআই তদন্ত কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে ভোল্ট ইনচার্জসহ ৫ জনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, বেনাপোল কাস্টমস হাউস সপ্তাহে ৭ দিনই খোলা থাকে। গত ৯ নভেম্বর অফিস করার পর ১০ নভেম্বর রোববার ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে কাস্টমস হাউস বন্ধ ছিল। এই সময় সরকারী ছুটি থাকায় কেউ অফিসে ছিলেন না। সোমবার সকালে অফিস খুললে চুরির বিষয়টি ধরা পড়ে। কাস্টমস হাউসের পুরাতন বিল্ডিং এর দ্বিতীয় তলার পূর্ব পাশে উপ কমিশনার শামীমুর রহমান এর অফিস সংলগ্ন গোপনীয় নিরাপদ কক্ষে একাধিক ছিলগালা দিয়ে ঝুলানো তালা ভেঙ্গে এ চুরি সংঘঠিত হয়েছে। চুরির ঘটনায় এ কক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রাজস্ব অফিসার শাহিবুল সরদার, সিপাহী পারভেজ, এনজিও আজিবর, মহব্বত আলী ও সুরোত আলীকে সাময়ীক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, বেনাপোল কাস্টম হাউসের বিভিন্ন সময়ে আটক মুল্যবান সামগ্রী, সোনা, অলংঙ্কার, ডলার, বিদেশী মুদ্রা রক্ষিত ছিল এ কক্ষে। কাস্টমস হাউসের আটক সোনা, ডলার, অলংঙ্কার, বিদেশী মুদ্রা সিজার লিষ্ট করে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তা জমা দেওয়া হয়নি। যে কারনে সোনা, ডলার, অলংঙ্কার ও বিদেশী মুদ্রার পরিমাণ অনেক বেশি ছিল।

আরও জানা গেছে, সোমবার সকালে কাস্টমস হাউজের অফিস খোলার পর এনজিও ও কাস্টমস এর সিপাহীরা দেখতে পায় গোপন নিরাপদ কক্ষের তালা খোলা। মুহুর্তের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হলে বেনাপোল কাস্টমস কতৃপক্ষ ঘটনাস্থলে আসেন এবং নিরাপদ বেষ্টনি দিয়ে রাখেন। ঘটনাটি তদন্তের জন্য, বেনাপোল কাস্টমস কমিশনারের পক্ষে জয়েন্ট কমিশনার শহীদুল ইসলাম, যশোর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম এর নেতৃত্বে ডিবি পুলিশ, সহকারী পুলিশ সুপার নাভারন সার্কেল জুয়েল ইমরান, যশোর র‌্যাব-৬, ডি এ ডি কামরুজ্জামান এর নেতৃত্বে ৭ সদস্য, খুলনা থেকে সিআইডির ইন্সপেক্টর হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল, বেনাপোল পোর্ট থানা অফিসার ইন চার্জ মামুন খানসহ কাস্টমস হাউজের একাধিক কর্মকর্তা নিরাপদ কক্ষে রক্ষিত পন্যের গননা করেছেন।

এসময় হাত ও পায়ের ছাপ নির্ণয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম, ইন্সপেক্টর সৈয়দ মামুন হোসেন, র‌্যাব কর্মকর্তা কামরুজ্জামান, বেনাপোল কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার শহীদুল ইসলাম, এ আর ও জি এম আশরাফ, বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মামান খান প্রমুখ।

বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইন চার্জ মামুন খান জানান, বেনাপোল কাস্টমসের গুদামের বিকল্প চাবি ব্যবহার করে চুরির ঘটনা ঘটেছে। লকারে বিপুল পরিমান সোনা ছিল বলে জেনেছি।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার শহিদুল ইসলাম বলেন, কি পরিমান অর্থ-সম্পদ খোয়া গেছে-তা এ মুহুর্তে বলা যাচ্ছে না। খতিয়ানের হিসাব মিলিয়ে আমরা বিস্তারিত জানাতে পারবো।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, কাস্টমসের নিয়োগ প্রক্রিয়া কড়াকড়ি, ভায়াগ্রা চক্রের অপতৎপরতা ও কাস্টসম কমিশনারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্য একটি চক্র এ কাজের সাথে জড়িত থাকতে পারে। তিনি বলেন, ভোল্ট ইনচার্জ সাহাবুল সরদারসহ ৫ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রেজিষ্টার মেলানো হচ্ছে। গননা শেষ না হলে বলা যাচ্ছে না কি পরিমান পন্য খোয়া গেছে। এ ঘটনায় যুগ্ম কমিশনার শহীদুল ইসলামকে প্রধান করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবী জানিয়েছেন বন্দরের একাধিক সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী।

(এমআই/এসএএম/ ১২ নভেম্বর ২০১৯)

 


Comment As:

Comment (0)