চীনে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে নিহত অন্তত ১৪ জন

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুইঝু প্রদেশের একটি কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১৪ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের পর এখনো খনির ভেতরে দুজন শ্রমিক আটকা রয়েছেন। দেশটিতে নিয়মিত বিরতিতে যে খনি দুর্ঘটনা ঘটছে তার সর্বশেষ উদাহরণ এটি, আর এর জন্য খনিগুলোর দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই দায়ী করা হচ্ছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চীনে খনিতে বিস্ফোরণ কিংবা ধস ছাড়াও অন্যান্য ঘটনা বেশ নিয়মিত। সচারচর এসব দুর্ঘটনায় অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। সর্বশেষ গত অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত পাঁচটি পৃথক খনি দুর্ঘটনায় দেশটিতে অন্তত ৩৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বিবিসি।

মঙ্গলবার সকালের দিকে গুইঝু প্রদেশের গুয়ানদং নামের ওই কয়লাখনিতে বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। তাতে ঘটনাস্থলে ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটলেও আরও ৭ শ্রমিককে নিরাপদে উদ্ধার করে আনা সম্ভব হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের বেশিরভাগ খনিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট দুর্বল ও নিরাপদ না হওয়ায় এ দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে।

গত শনিবার চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমের আরেক প্রদেশ সিচুয়ানের একটি কয়লাখনিতে বন্যার পানি ঢুকে পাঁচজন নিহত এবং মাটির নিচে আটকা পরে আরও ১৩ শ্রমিক। যখন শানমুসু নামের ওই খনিতে দুর্ঘটনাটি ঘটে তখন সেখানে প্রায় ৩৪৭ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন।

এর আগে গত ২৫ নভেম্বর গুইঝু প্রদেশের অপর একটি খনিতে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে আরও এক ব্যক্তি নিহত হন। তারও আগে ১৮ নভেম্বর উত্তর চীনের শানঝি প্রদেশের একটি খনিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় ১৫ জন শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটে। আজকের দুর্ঘটনাটি আইন ও নীতি লঙ্ঘনের কারণে হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

অক্টোবরে চীনের উত্তরাঞ্চলীয় আরেক প্রদেশ শানডংয়ে একটি খনিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় দুজন নিহত হন। চীনের খনিগুলোতে দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অতি মাত্রায় দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে দেশটির সরকার গত নভেম্বরে নিরাপত্তা জোরদার করতে জোরালো অভিযান শুরু করে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

কিন্তু ভয়াবহ দুর্ঘটনারও পরও নিরাপত্তা ব্যবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। তবে গত বছর চীনে খনি দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ছিল ৩৩৩ জন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ কম। চলতি বছরের প্রথম দশ মাসে চীন ৩০০ কোটি টন কয়লা উত্তোলন করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দেয়া তথ্য অনুযায়ী গত বছরের তুলনায় তা ৪.৫ শতাংশ বেশি।

(এসআর /১৭ডিসেম্বর ২০১৯)


Comment As:

Comment (0)