মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে বোয়িং ক্যাপসুল ৭৩৭ ম্যাক্স নিয়ে অনিশ্চয়তা

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক,ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের যাত্রী পরিবহনে সক্ষম একটি নতুন মহাকাশ যান উেক্ষপণের পর তা মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যর্থতায় আগামী বছর মহাকাশে যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে দ্য স্টারলাইনার নামের মহাকাশ যানটি সফলভাবেই উেক্ষপণ করা হয়েছিল। কিন্তু ৩০ মিনিট পরই এতে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিলে এটি কক্ষপথ থেকে ছিটকে পড়ে এবং থেমে যায়। ফলে সেটি আর আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছাতে পারেনি। এদিকে আগামী ৪ জুন পর্যন্ত বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ব্যবহার থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস। খবর রয়টার্স, বিবিসি ও ব্লুমবার্গ।

শনিবার ২টার সময় ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নাসা) জানিয়েছে, স্টারলাইনারের উেক্ষপণকারী রকেট থেকে আলাদা হওয়ার পর নিজের ইঞ্জিন চালু করতে গিয়ে খুব বেশি জ্বালানি পুড়িয়ে ফেলেছে। ফলে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছানোর মতো জ্বালানি অবশিষ্ট নেই তার। স্টারলাইনার এখন তার মিশন অসম্পূর্ণ রেখেই পৃথিবীতে ফিরে আসবে বলে জানিয়েছেন নাসার প্রশাসক জিম ব্রিডেনস্টাইন।

তিনি আরো বলেন, মহাকাশ যানটিতে বিজ্ঞানীরা থাকলে হয়তো তারা সমস্যার সমাধান করতে পারতেন এবং মিশন সম্পূর্ণ করতে পারতেন। কিন্তু পরীক্ষামূলক এ উেক্ষপণে মহাকাশ যানটিকে খালিই পাঠানো হয়েছিল। এবং পৃথিবী থেকে সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল। সেটিকে এখন পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে।

পরীক্ষামূলক এ মহাকাশ যাত্রায় শুরুতেই যাওয়ার কথা রয়েছে বিজ্ঞানীদের। তবে পরবর্তী সময়ে স্পেস ট্রাভেলের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বোয়িং কর্তৃপক্ষ। মহাকাশে উেক্ষপণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত প্রতিষ্ঠানটির ‘সিএসটি-১০০’ স্টারলাইনার নামের মহাকাশ যানটি। আগামী বছরই ক্রুসহ মহাকাশ যানটি ফের মহাকাশে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

নাসা বাণিজ্যিক ক্রু প্রোগ্রামের ম্যানেজার ক্যাথি লডারাস বলেন, যখন কোনো পরিকল্পনায় অক্লান্ত শ্রম দেয়া হয়, এটা আর স্বপ্ন থাকে না। বাস্তবে ধরা দেয়। আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ। আর কয়েকটি ধাপ আছে, যেগুলো শেষ হলেই এ মহাকাশ যান মহাকাশের উদ্দেশে রওনা হতে পারবে।

বাণিজ্যিকভাবে মহাকাশে যান পাঠানোর পরিকল্পনা করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৬৮০ কোটি ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নাসা। যেন প্রতিষ্ঠানগুলো রকেট এবং ক্যাপসুল সিস্টেম বানাতে পারে। তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি মহাকাশ যান দিয়ে মানুষকে মহাকাশ অভিযানে নিয়ে যেতে পারবে নাসা। স্পেসএক্স এখনো মানুষ নিয়ে মহাকাশে যেতে সক্ষম হয়নি। আর ২০১১ সালেই শাটল প্রকল্প বন্ধ করে দেয় নাসা। বর্তমানে রাশিয়া এ সেবা দিলেও মহাকাশ যাত্রায় প্রতি সিটে গুনতে হবে ৮ কোটি ডলার।

এদিকে সিএনবিসির এক খবরে বলা হয়, ৭৩৭ ম্যাক্স নিয়ে অনিশ্চয়তায় তা বহরে ফেরাতে সম্ভাব্য সময় পিছিয়ে নিচ্ছে অনেক এয়ারলাইনস। গত মাসেও ইউনাইটেড এয়ারলাইনস জানিয়েছিল আগামী মার্চের শুরুতেই তারা ম্যাক্স সেবায় ফিরিয়ে আনবে। কিন্তু আগামী বসন্ত ও গ্রীষ্মের পর্যটন মৌসুমে গ্রাহকরা যাতে তাদের ফ্লাইট সম্পর্কে নিশ্চয়তা পেতে পারেন, এজন্য ওই সময় থেকে পিছিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছে এয়ারলাইনসটি।

গত সপ্তাহে আমেরিকান এয়ারলাইনস ও সাউথইস্ট এয়ারলাইনসও ৭৩৭ ম্যাক্স ফেরানোর সময়সীমা পেছানোর ঘোষণা দিয়েছে। তারা আগামী এপ্রিলের শুরুতে ম্যাক্সের ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছেন। বিশ্বজুড়ে এয়ারলাইনসগুলোর অব্যাহত ফ্লাইট বাতিলের জেরে ম্যাক্সের মোট ১ লাখ ৪৬ হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের এভিয়েশন নীতিনির্ধারক সংস্থা এফএএর শীর্ষ প্রশাসক স্টিভ ডিকসন সিএনবিসিকে জানান, ২০১৯ সালেই ৭৩৭ ম্যাক্সের অনুমোদন দিচ্ছেন না তারা। এতে চলতি বছরে বোয়িংয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় উড়োজাহাজটির সেবায় ফেরার আশাভঙ্গ হলো। সিএনবিসির সঙ্গে সাক্ষাত্কার শেষে বোয়িংয়ের সিইও ডেনিস মুইলেনবার্গের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন ডিকসন এবং তাকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, ম্যাক্সকে পুনরায় অনুমোদন দিতে কোনো সময়সীমা নির্ধারিত করেনি এফএএ। এ খবরে আগামী জানুয়ারিতে ৭৩৭ ম্যাক্স নির্মাণ বন্ধের ঘোষণা দেয় বোয়িং।

(এসআর / ২২ডিসেম্বর ২০১৯)


Comment As:

Comment (0)