বেসরকারি খাতকে চাঙ্গা করতে চীনের নতুন পদক্ষেপ

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধসহ আরো বেশকিছু কারণে চীনের অর্থনীতির অবস্থা মোটেই ভালো নেই। ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এরই মধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বেইজিং। এবার বেসরকারি খাতের জন্য বড় ধরনের নতুন প্রণোদনা নিয়ে হাজির হয়েছেন চীনা নীতিনির্ধারকরা। বেসরকারি কোম্পানির জন্য তেল ও গ্যাস থেকে শুরু করে টেলিযোগাযোগ ও রেলওয়ে পর্যন্ত বিভিন্ন খাতকে আরো উন্মুক্ত, বাজার নীতি শিথিল ও বিনিয়োগ ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। খবর ব্লুমবার্গ ও এপি।

অন্যদিকে ১ জানুয়ারি থেকে ফার্মাসিউটিক্যাল, হিমায়িত শূকরের মাংস, কাগজজাত পণ্য ও উচ্চ প্রযুক্তির কম্পোনেন্টসহ ৮৫৯ পণ্যে আমদানি শুল্ক হ্রাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ায় প্রকাশিত চীনা সরকারের বিবৃতি অনুযায়ী, বেসরকারি কোম্পানির জন্য আরো বেশি করছাড় ও বিস্তৃত প্রণোদনা প্রকল্প গ্রহণ করবে তারা। তবে কোনো খাতের কোন ধরনের কোম্পানি এসব সুবিধা পাবে তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।

চীনা সরকার আরো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আরো বেশি খাতে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানির সমান মর্যাদা দেয়া হবে। তবে এ নিয়মের আওতায় বিদেশী কোম্পানিগুলো পড়বে কিনা, তা জানানো হয়নি।

সর্বশেষ প্রান্তিকে চীনের জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬ শতাংশ, যা তিন দশকের নিম্ন। প্রবৃদ্ধির চাকা শ্লথ হয়ে পড়ায় চিন্তিত নীতিনির্ধারকরা বাজার আরো উন্মুক্ত ও শুল্ক কমানোর মধ্য দিয়ে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে চাইছেন। বেইজিংয়ের প্রযুক্তি-সংক্রান্ত উচ্চাশা ও বাণিজ্য উদ্বৃতি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ চলছে।

বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জ্বালানি, টেলিকম, রেলওয়ে, তেল ও গ্যাসসহ শীর্ষ শিল্প খাতগুলোয় ‘বাজার প্রতিযোগিতার’ সূচনা করা হবে। এ সিদ্ধান্তের ফলে টেলিকম সেবা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণে বিনিয়োগ করতে পারবে বেসরকারি কোম্পানি।

তবে বিবৃতিতে বেসরকারি কোম্পানিতে মালিকানার সীমা কিংবা অন্যান্য সম্ভাব্য বিধিনিষেধ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। কবে নাগাদ এ সুবিধা পাওয়া যাবে, তা পরে জানানো হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনে সম্পূর্ণ বিদেশী মালিকানার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তাও তুলে নিয়েছে বেইজিং এবং জানিয়েছে, ২০২১ সাল পর্যন্ত পুরো অটো খাতে এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। ব্যাংকিং, বীমা ও অন্যান্য আর্থিক ব্যবসায় সম্পূর্ণ বিদেশী মালিকানার অনুমোদন দেয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ৮৫৯ পণ্যে আমদানি শুল্ক কমানো নিয়ে দেয়া বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শূকরের হিমায়িত মাংসের পাশাপাশি হিমায়িত অ্যাভাকাডো, কমলার রস, অ্যাজমা ও ডায়াবেটিসের নতুন ওষুধ, সার্কিট তৈরির প্রধান উপাদান ও যন্ত্র এবং বেশকিছু কাঠ ও কাগজজাত পণ্যের আমদানি শুল্কও হ্রাস করা হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সোয়াইন ফ্লু মহামারীর কারণে চীনে মাংসের ব্যাপক ঘাটতি তৈরি হয়েছে। হিমায়িত মাংস আমদানির ফলে এ সংকট নিরসনের আশা করছে দেশটি।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুসারে, চীনের সঙ্গে পুনরালোচিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় নিউজিল্যান্ড, পেরু, কোস্টারিকা, সুইজারল্যান্ড, আইসল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জর্জিয়া, চিলি ও পাকিস্তান থেকে আমদানীকৃত পণ্যের শুল্ক আরো হ্রাস করা হবে।

অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে ও নিজস্ব বাজার আরো উদার করার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে চীন সামগ্রিক শুল্কহার কমিয়ে আনার নীতি গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবেই এসব পণ্য আমদানির শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং।

এদিকে বাণিজ্যযুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি-সংক্রান্ত আলোচনা চলছে, তার সঙ্গে এ পদক্ষেপ সরাসরি জড়িত নয় বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

(এসআর / ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯)


Comment As:

Comment (0)