বড়দিনের ছুটির পর চাঙ্গা এশিয়ার শেয়ারবাজার

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক,ঢাকা: বিনিয়োগকারীদের মনোভাব চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। এর সুবাদে বড়দিনের ছুটির পর গতকাল এশিয়ার শেয়ারগুলো ১৮ মাসের সর্বোচ্চে পৌঁছে। এর আগে বৃহস্পতিবার ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচকগুলোকেও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাতে দেখা গেছে। খবর রয়টার্স।

বড়দিন ও বক্সিং ডের ছুটির পর লেনদেনে ফিরে এসেছে বিনিয়োগকারীরা। এর মধ্যেই একটি প্রাথমিক বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বেইজিংয়ের যোগাযোগের খবর বিনিয়োগকারীদের মনোবল চাঙ্গা করে তুলতে সহায়তা করেছে। ফলে গতকাল জাপান বাদে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসগারীয় অঞ্চলের বিস্তৃত এমএসসিআই সূচক দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়ে ৫৫৫ দশমিক ২৫ পয়েন্টে দাঁড়ায়, যা ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বোচ্চ। চলতি বছর এখন পর্যন্ত সূচকটি প্রায় ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

গতকাল জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক নিস্তেজ থাকলেও সূচকটি চলতি বছর প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধির কাছাকাছি রয়েছে, যা ২০১৩ সালের পর সবচেয়ে বড় বার্ষিক উল্লম্ফন হতে যাচ্ছে।

নভেম্বরে জাপানের শিল্প উৎপাদনে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো পতন ঘটে, যা বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ অর্থনীতিটি শীতল হওয়ার আরো একটি লক্ষণ। প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আগামী অর্থবছরের জন্য রেকর্ড বাজেট পাস করেছে দেশটি।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধান সূচক দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া অর্থনীতি শক্তিশালী করতে বেইজিং অবকাঠামো বিনিয়োগসহ আরো পদক্ষেপ ঘোষণা করায় চীনা শেয়ার লেনদেনও শক্তিশালী হতে দেখা যায়। গতকাল দশমিক ৫৬ শতাংশ যোগ হয়েছে চীনের ব্লু-চিপ সূচকে।

গত বছরের তুলনায় একেবারেই বিপরীত চিত্র দিয়ে ২০১৯ শেষ করতে চলেছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজার। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্যযুদ্ধের আতঙ্ক নিয়ে ২০১৮ শেষ করেছিল বৈশ্বিক শেয়ারবাজার। চলতি বছরের অধিকাংশ সময়ই শীর্ষ দুই অর্থনীতির বাণিজ্য বিরোধ নিয়ে শঙ্কায় কাটলেও শক্তিশালী কর্মসংস্থান ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে উন্নতির আভাস আগামী বছর পরিস্থিতি আরো ভালো হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের শিথিল মুদ্রানীতি, প্রত্যাশার তুলনায় শক্তিশালী অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান ও করপোরেট মুনাফা চলতি বছর বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট আশাবাদের পাশাপাশি শেয়ারবাজার চাঙ্গায় সহায়তা করেছে।

এ মুহূর্তে বাজারসংশ্লিষ্টরা আগামী মাসে প্রকাশিতব্য চতুর্থ প্রান্তিকের আয় প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে। চতুর্থ প্রান্তিকের পরিসংখ্যান থেকেই করপোরেট মনোভাবের প্রকৃত উন্নতি ঘটেছে কিনা তার আভাস পাওয়া যাবে।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে এমএসসিআইয়ের বিশ্ব সূচক এবং ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান তিনটি সূচক ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল, এসঅ্যান্ডপি-৫০০ ও প্রযুক্তি সূচক নাসডাক রেকর্ড উচ্চতা দিয়ে লেনদেন শেষ করে।

বৈশ্বিক এমএসসিআই সূচক দশমিক ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে সূচকটি ২০০৯ সালের পর সবচেয়ে সেরা পারফরম্যান্সের পথে রয়েছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত সূচকটির অর্জন ২৪ শতাংশ।

এদিকে বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো ৯ হাজার পয়েন্ট হারায় নাসডাক। একই সময়ে নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে এসঅ্যান্ডপি-৫০০। মূলত যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদ ও ছুটির মৌসুমে অ্যামাজনডটকমের শক্তিশালী বিক্রয় প্রবৃদ্ধি ওয়াল স্ট্রিটকে চাঙ্গা করেছে।

মাস্টারকার্ডের ছুটির কেনাকাটা মৌসুমে মার্কিন ভোক্তারা অনলাইনে বেশি ব্যয় করার প্রতিবেদন প্রকাশের পর খুচরা বিক্রেতাটির শেয়ারদর ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

পিপলস ইউনাইটেড অ্যাডভাইজরসের এক পরিচালক জন কনলন বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অনলাইন বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে। প্রচলিত দোকানে বিক্রি কম হলেও অনলাইন বিক্রি, বিশেষত অ্যামাজনে বিক্রি শেষ পর্যন্ত বাঁচিয়ে দিয়েছে।

(এসআর / ২৮ডিসেম্বর ২০১৯)


Comment As:

Comment (0)