টানা সংকোচনে ভারতের প্রধান অবকাঠামো খাতগুলো
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: ভারতের প্রধান আটটি অবকাঠামো খাত চলতি বছরের নভেম্বর নিয়ে টানা চতুর্থ মাসে সংকোচনে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে দেশটির শিল্প বিভাগের পরিসংখ্যানে। এ মাসে খাতগুলো সংকুচিত হয়েছে ১ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে তা অক্টোবরের চেয়ে কম সংকুচিত হয়েছে। মাসটিতে তা সংকুচিত হয়েছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। খবর লাইভমিন্ট।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ নিয়ে দেড় বছরের নিম্নে নেমে আসে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে দেশটির পণ্য ও সেবার চাহিদা কমায় এমন হয়েছে। তবে নভেম্বরে আগের মাসের তুলনায় প্রধান আট খাতের স্বল্প সংকোচন দেশটির শ্লথ অর্থনীতি খানিকটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত বলে মনে করেন কোনো কোনো অর্থনীতিবিদ।
এদিকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশটির বাজেট ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। এ লক্ষ্যমাত্রা চলতি বছরের এপ্রিল-নভেম্বরেই অতিক্রান্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে শুক্রবার প্রকাশিত দেশটির হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের (সিজিএ) প্রতিবেদনে।
বিশ্বের অন্যতম দ্রুত সম্প্রসারণশীল অর্থনীতিটির প্রধান আট অবকাঠামো খাতের পাঁচটির উৎপাদন নভেম্বরে কমেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে শিল্প বিভাগের পরিসংখ্যানে। এ সময় সিমেন্ট খাতের উৎপাদন বেড়েছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। গত বর্ষা মৌসুমে খাতটির উৎপাদন হ্রাস পেয়েছিল। একই সময়ে পরিশোধন পণ্যের উৎপাদন বেড়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ।
তবে আগের মাসের তুলনায় নভেম্বরে দেশটির কয়লা ও বিদ্যুৎ খাতের উৎপাদন সংকুচিত হয়েছে যথাক্রমে ২ দশমিক ৫ শতাংশ ও ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। এছাড়া অপারিশোধিত জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও ইস্পাতের উৎপাদনও একই সময়ে অক্টোবরের তুলনায় কমেছে।
এদিকে নভেম্বরে দেশটির প্রধান আট খাতের কয়েকটির উৎপাদন আগের মাসের তুলনায় খানিকটা বাড়লেও তা অতটা আশানুরূপ নয় বলে জানিয়েছেন কেয়ার রেটিংসের প্রধান অর্থনীতিবিদ মদন সবনবিশ। তবে সিমেন্ট ও সার খাতের উৎপাদন অন্য খাতগুলোর তুলনায় বেশি বাড়ায় কিছুটা ভরসা করার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সবনবিশ বলেন,
জ্বালানিবহির্ভূত খাতগুলো বাদ দিয়ে আটটি খাতের যে পরিসংখ্যান শিল্প বিভাগ প্রকাশ করেছে, তাতে একটা মিশ্র দৃশ্য পাওয়া যায়। কারণ নভেম্বরে জ্বালানিবহির্ভূত খাতগুলোর উৎপাদন এসব খাতের চেয়ে বেড়েছে।
প্রধান খাত, গাড়ি ও জ্বালানিবহির্ভূত খাতসহ প্রধান খাতগুলো আগের মাসের তুলনায় নভেম্বরে মাঝারি গোছের প্রবৃদ্ধির দেখা পাওয়ায় দেশটির অর্থনীতি ক্রমে ঘুরে দাঁড়াবে বলে মনে করেন আইসিআরএ লিমিটেডের প্রধান অর্থনীতিবিদ অদিতি নায়ার। প্রসঙ্গত, শিল্প উৎপাদনের সূচকে দেশটির প্রধান আট খাতের অবদান ৪০ শতাংশ।
এদিকে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় নভেম্বরে দেশটির যাত্রীবাহী গাড়ির খুচরা বিক্রি বেড়েছে ১ শতাংশ। এ মাসে মোট ২ লাখ ৫৭ হাজার ২৭১টি যাত্রীবাহী গাড়ি বিক্রি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে সোসাইটি অব ইন্ডিয়া অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারারসের প্রতিবেদনে।
অন্যদিকে গত মাসে প্রকাশিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী নভেম্বরে দেশটির জ্বালানি তেলবহির্ভূত পণ্যাদির রফতানি ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। বৈদ্যুতিক, প্রকৌশল ও ওষুধজাতীয় পণ্যের রফতানি বাড়ায় তা সম্ভব হয়েছে। তবে মাসটিতে দেশটির সার্বিক রফতানি দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মাসের শুরুর দিকে রিজার্ভ ব্যাংক ইন্ডিয়া (আরবিআই) ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস অক্টোবরের ঘোষণার তুলনায় কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করে। অক্টোবরে তা ছিল ৬ দশমিক ১ শতাংশ। ব্যবসার সার্বিক অবস্থা ও ভোক্তা চাহিদা দুর্বল থাকায় আরবিআই তা কমিয়েছে। নিজেদের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস কমানো সম্পর্কিত একই বিবৃতিতে আরবিআই জানায়, সম্প্রতি মুদ্রার প্রবাহ বাড়ায় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আমাদের নতুন পূর্বাভাস আবারো পরিবর্তিত হতে পারে। তবে নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাহিদার দীর্ঘমেয়াদি শ্লথতা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এখনো প্রধান ঝুঁকি বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিটিতে।
(এসআর / ০২ জানুয়ারি, ২০২০)



