মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে এক দশকের সর্বোচ্চ শ্লথগতি
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক,ঢাকা: ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ অব্যাহত থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের কারখানা কার্যক্রম ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে এক দশকের সর্বোচ্চ শ্লথগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে বহুল প্রত্যাশিত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হলে শ্লথগতি কিছুটা প্রশমিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। খবর রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের দি ইনস্টিটিউট ফর সাপ্লাই ম্যানেজমেন্ট (আইএসএম) বলছে, গত মাসে তাদের কারখানা কার্যক্রম সূচক ৪৭ দশমিক ২০ পয়েন্টে নেমে এসেছে, যেখানে নভেম্বরে ওই সূচক ছিল ৪৮ দশমিক ১০ পয়েন্ট। ২০০৯ সালের জুনের পর ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পারফরম্যান্স সর্বনিম্ন ছিল।
কারখানা কার্যক্রম সূচক ৫০ পয়েন্টের নিচে থাকা অর্থনৈতিক সংকোচনকে নির্দেশ করে। ডিসেম্বরে টানা পঞ্চম মাসের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে সংকোচন হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের ওপর পরিচালিত রয়টার্সের এক জরিপে চলতি মাসে ৪৯ পয়েন্টের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
২০১৯ সালের দ্বিতীয়ার্ধ জুড়েই যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে সংকোচন পরিলক্ষিত হয়েছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের ফলে বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির মধ্যে পণ্য বাণিজ্য কমেছে। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও শ্লথগতি দেখা গেছে।
গত মাসে উভয় পক্ষ জানায়, তারা প্রথম ধাপের একটি বাণিজ্য চুক্তির ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইটে জানান, ১৫ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে উভয় পক্ষের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে। তারপর উভয় পক্ষ দ্বিতীয় ধাপের চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেবে।
আইএসএমের ম্যানুফ্যাকচারিং বিজনেস সার্ভে কমিটির চেয়ারম্যান টিমোথি ফিওর এক বিবৃতিতে জানান, বৈশ্বিক বাণিজ্য আন্তঃশিল্পের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে। তবে প্রথম ধাপের বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হলে বিভিন্ন শিল্প খাতের যে অগ্রগতি হবে, তার অনেক চিহ্ন দেখা যাচ্ছে।
বাণিজ্যবিরোধের অব্যাহত প্রভাব, পাশাপাশি বোয়িংয়ের ৭৩৭ ম্যাক্সের কার্যক্রমে ব্যর্থতাও এ খাতে শ্লথগতির পেছনে বড় ভূমিকা পালন করেছে। ফিওর মনে করেন, ছয়টি বৃহৎ শিল্প খাতের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল ছিল পরিবহন উপকরণ খাত। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক কর্তৃক উড্ডয়নের অনুমতি পাওয়ার আগ পর্যন্ত চলতি মাস থেকে ৭৩৭ ম্যাক্স নির্মাণ বন্ধ করেছে বোয়িং।
ডিসেম্বরে আইএসএমের সার্বিক কার্যক্রম দশকের সর্বনিম্ন থাকলেও ফিওর বলছেন, সংকোচন তুলনামূলক কম ছিল।
সাধারণত কারখানা কার্যক্রম সূচক ৪৩ পয়েন্টের নিচে নেমে এলে মন্দা নির্দেশ করে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) তিনবার সুদহার কর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের এ শ্লথগতি। নিকট ভবিষ্যতে সুদহার কর্তন হচ্ছে না—এ রকম ইঙ্গিত দিয়ে ফেডের গভর্নর জেরোম পাওয়েল বলেন, অর্থনীতি খুব ভালো অবস্থানে রয়েছে।
নিম্ন বেকারত্ব হার ও স্থিতিশীল ভোক্তা ব্যয়ের ওপর ভর করে বেশ মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই ২০১৯ শেষ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ৭০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করছে ভোক্তা ব্যয়। দীর্ঘদিনের শ্লথগতি শেষে আবাসন খাতে চাঙ্গা ভাব লক্ষ করা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ পৃথক এক প্রতিবেদনে জানায়, নভেম্বরে নির্মাণ খাতে প্রত্যাশার চেয়ে ব্যয় বেড়েছে। নভেম্বরে নির্মাণ খাতে ব্যয় বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ, যেখানে বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশের।
এদিকে পিকআপ-ট্রাকের ওপর ভর করে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান গাড়ি নির্মাতা কোম্পানিগুলোর বিক্রি মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল বলে শুক্রবার জানিয়েছে তারা। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস, সদ্য গত হওয়া বছরে ২০১৮ সালের তুলনায় গাড়ি বিক্রি ১ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে। তবে গাড়ি বিক্রি টানা পাঁচ বছর ১ কোটি ৭০ লাখ ছাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
(এসআর / ০৫ জানুয়ারি, ২০২০)



