বড় ধরনের তহবিল সংকটের পথে ভারত

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ভারত। চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধ, অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা হ্রাস ও বিদেশী বিনিয়োগের অভাবসহ বিভিন্ন কারণে গত বছর দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে গেছে দেশটির অর্থনীতি। এ পরিস্থিতিতে ১ ফেব্রুয়ারি গুরুত্ববহ কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। খবর লাইভমিন্ট।

কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান অফিসের (সিএসও) হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশটির নমিনাল মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হতে পারে সাড়ে ৭ শতাংশ, যা ২০০৮-০৯ অর্থবছরের পর সর্বনিম্ন। বৈশ্বিক আর্থিক মন্দার কারণে অন্যান্য দেশের মতো ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও এ সময় কমে আসে।

সার্বিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে শ্লথ অর্থনীতি চাঙ্গা করতে আসন্ন বাজেটে বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ব্যক্তিগত আয়কর হ্রাস কিংবা বিপুল পরিমাণ সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

তবে এর আগে একই ধরনের পরিস্থিতিতে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার অনেক উদাহরণ রয়েছে। এমনকি যখন বর্তমানের মতো অর্থনৈতিক শ্লথাবস্থা ছিল না, তখনো কোনো কোনো বছর মোট সরকারি আয়ের মাত্র ২০ শতাংশের কাছাকাছি বিবেচনামূলক ব্যয় (ডিসক্রেশনারি এক্সপেন্ডিচার) তহবিলে বরাদ্দ দেয়ার নজির রয়েছে।

এদিকে দেশটির কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রতিরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা খাতের ব্যয়ের প্রতিষ্ঠানবহির্ভূত বা অনির্দিষ্ট (নন-এসটাবলিশমেন্ট) হিস্যাসহ অবকাঠামোর মতো বড় প্রকল্পগুলোর তহবিল আসে সরকারের বার্ষিক মোট আয়ের ২০ শতাংশেরও কম বরাদ্দ থেকে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য।

অন্যদিকে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও পেনশন বাবদ ব্যয়, রাজ্যগুলোর পণ্য ও সেবা খাতের কর থেকে প্রত্যাশিত আয় না হওয়ায় ভর্তুকি, ঋণের সুদ বাবদ ব্যয় এবং রাজ্যগুলোর সব ধরনের বিধিবদ্ধ ও আর্থিক বরাদ্দ—এসব খাতে কেন্দ্রীয় সরকারের রাজস্ব আয়ের ৮০ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়।

এ অবস্থায় ঋণ নিয়ে মেটাতে হয় অন্যান্য ব্যয়। এসব ঋণের অধিকাংশই মূলধনির চেয়ে চলতি ব্যয় নির্বাহে ব্যবহার করা হয়। গত বছর সরকারি ঋণের প্রায় ৭০ শতাংশ খরচ হয়েছে চলতি ব্যয় খাতে।

এদিকে সরকারের আয় প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে পড়ায় দেশটির আর্থিক পরিসর আরো বেশি সংকুচিত হয়েছে। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) বা টেলিকম খাত থেকে বড় আয়ের (উইন্ডফল রিসিট) মাধ্যমে সাময়িকভাবে এ পরিস্থিতি সামাল দেয়া যেতে পারে। তবে এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের রাজস্বের বড় পতন রোধ করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে শ্লথ প্রবৃদ্ধি চাঙ্গা করতে করপোরেট কর কর্তনের উদ্যোগও দীর্ঘমেয়াদে এতটা কার্যকর হবে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলেছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতের অর্থনীতিকে প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধিতে ফেরাতে সরকারি সম্পদ বিক্রির মতো বিনিয়োগহীন বিক্রির উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। তবে তা এক বছরের বেশি ফলপ্রসূ হবে না। এ পরিস্থিতিতে দেশটি ২০২০-২১ অর্থবছরেও বারবার হোঁচট খাবে। বাজেটের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরের সরকারি ব্যয় চলতি অর্থবছরের সমপরিমাণ রাখা হলেও দেশটির আর্থিক ঘাটতি জিডিপির ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। সারকথা হলো, ভারত সরকার বড় ধরনের তহবিল সংকটে পড়তে যাচ্ছে।

(এসআর /২৩ জানুয়ারি, ২০২০)


Comment As:

Comment (0)