বিতর্ক উসকে দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাজেট প্রস্তাবনা

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা:  আসন্ন অর্থবছরের জন্য বাজেট প্রস্তাব করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ৪ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলারের এ বাজেট প্রস্তাবনায় ট্রাম্প তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন বলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। তাদের দাবি, ট্রাম্প এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষাজাল কর্মসূচি রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাজেটে তার প্রতিফলন ঘটেনি। ফলে প্রস্তাবিত এ বাজেট পাস হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। খবর রয়টার্স ও গার্ডিয়ান।

গতকালের এ বাজেট প্রস্তাবনাকে বহুলাংশে রাজনৈতিক বলে মনে করা হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, এটি ট্রাম্পের গৃহীত বিভিন্ন নীতি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে দেনদরবার শুরুর প্রচেষ্টামাত্র। কারণ বাজেটে একদিকে মেক্সিকো সীমান্তে বিতর্কিত দেয়াল তৈরির জন্য বরাদ্দ প্রস্তাব করা হলেও সুরক্ষাজাল কর্মসূচির মতো কল্যাণমূলক সংস্কার কর্মসূচি থেকে কমানো হয়েছে কয়েকশ কোটি ডলার। একই সঙ্গে ঋণ ও বাজেট ঘাটতি হ্রাসে গৃহায়ণ, পরিবেশ, যোগাযোগসহ আরো বেশকিছু কর্মসূচিতে ফের বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাব রেখেছেন ট্রাম্প। এর আগে গত বছর তার এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন কংগ্রেস সদস্যরা।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউজের ম্যানেজমেন্ট ও বাজেট কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রাস ভোট বলেন, আমরা এ ধরনের বাজেট পেশ জারি রাখব। এর মধ্য দিয়ে আশা করছি, কোনো না কোনো সময়ে কংগ্রেস সদস্যরা সরকারের আর্থিক অবস্থা নিয়ে কিছু ধারণা পাবেন। একই সঙ্গে ঋণ ও ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে আমাদের সঙ্গ দেবেন।

এদিকে ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, ট্রাম্পের এ বাজেট প্রস্তাবনা গত সপ্তাহে দেয়া তার বার্ষিক স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণের বক্তব্যের পরিপন্থী। ওই ভাষণে তিনি জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের জন্য পেনশন ও মেডিকেয়ার হেলথ প্ল্যানের মতো জনপ্রিয় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সবসময় জারি রাখার কথা বলেছিলেন। তাছাড়া গত শনিবার এক টুইট বার্তায় তিনি ২০২০-২১ অর্থবছরে সামাজিক সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে হাত দেবেন না বলেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু বাজেটে ট্রাম্প তার কথার বরখেলাপ করেছেন।

প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সময়ে মার্কিন স্বাস্থ্যসেবা কখনই নিরাপদ নয়। সিনেট বাজেট কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্য শেলডন হোয়াইটহাউজ বলেন, সবাই জানে, ট্রাম্পের এ বাজেট প্রস্তাব কংগ্রেসে পাস হবে না।

বাজেটে ট্রাম্প মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ২০০ কোটি ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব রেখেছেন। এছাড়া আগামী ১০ বছরে ৪ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজেট ঘাটতি হ্রাসের পাশাপাশি সামনের বছরগুলোয় ৩ শতাংশ বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। কংগ্রেসের বাজেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে ২ দশমিক ২ শতাংশ। ২০১৯ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২ দশমিক ৩ শতাংশ।

এবারের বাজেট প্রস্তাবনায় ২০১৮ সালের চেয়ে ৭০ হাজার কোটি ডলার কেন্দ্রীয় ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। ১০ বছরে স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি থেকে ব্যয় কমানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে ৯১ হাজার কোটি ডলার, যা একই সঙ্গে আরো বেশ কয়েকটি সমাজসেবামূলক কর্মসূচির বরাদ্দের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সমালোচকরা।

এছাড়া নিম্ন আয়ের মার্কিন নাগরিকদের জন্য পরিচালিত খাদ্য কর্মসূচিতেও ১০ বছরে ১৮ হাজার ১০০ কোটি ডলার ব্যয় কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বেসামরিক খাতে ব্যয় সংকোচনের প্রস্তাব দেয়া হলেও সামরিক খাতে তা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
ন্যান্সি পেলোসির মতে, ট্রাম্পের এ বাজেট প্রস্তাবনা ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, সাধারণ কর্মজীবী আমেরিকান নাগরিকদের সার্বিক কল্যাণের বিষয়ে দেশটির প্রেসিডন্ট কি পরিমাণ উদাসীন।

(এস আর /১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০)


Comment As:

Comment (0)