চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে ভুক্তভোগী যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেক রাজ্য

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যের রফতানি বড় আকারে ধাক্কা খেয়েছে। চীনের বাজারে রফতানি কমে যাওয়ায় আক্রান্ত হয়েছে গম, হুইস্কি থেকে শুরু করে জিনসেং ও গ্যাস। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ উপাত্তে দেখা গেছে, চীনে যুক্তরাষ্ট্রের মার্চেন্ডাইজ রফতানি ১১ শতাংশ কমে ১০ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এতে বড় আকারে ধাক্কা খেয়েছে টেক্সাস, ফ্লোরিডা ও আলাবামার মতো বৃহৎ রফতানিকারক প্রদেশগুলো। চীনে এ রাজ্যগুলোর রফতানি ২৫ শতাংশের বেশি কমেছে। খবর ব্লুমবার্গ।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত উপাত্তে অবশ্য জানুয়ারিতে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের স্বাক্ষরিত প্রাথমিক ধাপের বাণিজ্য চুক্তি ও করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রতিফলন ঘটেনি। গত বছর বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যেও কয়েকটি প্রদেশের জন্য ইতিবাচক খবর ছিল। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সুইং স্টেট হিসেবে পরিচিত নর্থ ক্যারোলাইনার চীনে রফতানি ৪০ শতাংশ বেড়ে ৩২৫ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এতে বড় আকারের প্রভাব রেখেছে প্রদেশটির ওষুধ রফতানি। নর্থ ক্যারোলাইনার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপের ভাইস প্রেসিডেন্ট জন লয়াক জানান, নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে চীনের তামাক আমদানি কমতে কমতে গত বছর একেবারে শূন্যের কাছাকাছি নেমে এসেছে। কিন্তু ১৩০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানির মাধ্যমে শূন্যস্থান পূরণের চেষ্টা করেছে ওষুধ কোম্পানিগুলো। ডেনমার্কভিত্তিক নভো নরডিস্ক ফার্মাসিটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে শুরু করে নিউজার্সিভিত্তিক মেয়ার্ক অ্যান্ড কোম্পানির মতো বৃহৎ করপোরেশনের প্রধান কারখানা চালু রয়েছে এ প্রদেশে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি শীর্ষ ওষুধ শিল্প রফতানিকারক প্রদেশে পরিণত হয়েছে নর্থ ক্যারোলাইনা।

কিছু ওষুধ আমদানিতে চীনের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্তে দেশটিতে ওষুধ রফতানি চাঙ্গা হয়েছে। লয়াকের সরল স্বীকারোক্তি, সত্য কথা বলতে কি গত বছর আমরা খুব ভয়ে ভয়ে ছিলাম, কিন্তু আমাদের জন্য একটি অসাধারণ বছর হিসেবে আবির্ভূত হলো।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার প্রাথমিক ধাপের বাণিজ্য চুক্তি গত শুক্রবার থেকে কার্যকর হয়েছে। চুক্তির প্রথম বছরে ২০১৭ সালের তুলনায় অতিরিক্ত ৭ হাজার ৬৭০ কোটি ডলারের মার্কিন পণ্য আমদানিতে সম্মত হয়েছে চীন। দ্বিতীয় বছরে অতিরিক্ত ১২ হাজার ৩৩০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করবে বেইজিং। ব্লুমবার্গের অন্য এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশটির অর্থনীতিতে এরই মধ্যে বৃহদাকারের প্রভাব পড়ায় চুক্তিতে নমনীয়তা প্রত্যাশা করছে চীন। তদুপরি চুক্তিটি গত বছরের টেক্সাসের মতো বৃহদাকার লোকসানি রাজ্যগুলোর জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা দিতে পারে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর চীনে টেক্সাসের রফতানি কমেছে ৩৪ শতাংশ। তবে এরপরও যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম রফতানিকারক রাজ্য এটি। ২০১৯ সালে আগের বছরের তুলনায় টেক্সাসের বৈশ্বিক রফতানি বেড়েছে ৫ শতাংশ। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব ডালাসের অর্থনীতিবিদ জেসাস ক্যানাস বলেন, আমরা চীনের ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল নই। টেক্সাসের মোট রফতানির মাত্র ৩ থেকে ৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে চীন।

ওয়াশিংটন প্রদেশ থেকে চীনে রফতানি ৪৪ শতাংশ কমেছে। এতে বড় আকারের ভূমিকা রেখেছে বোয়িংয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় উড়োজাহাজের মডেল ৭৩৭ ম্যাক্সের গ্রাউন্ডিং।

প্রাথমিক ধাপের চুক্তি সত্ত্বেও চলতি বছরে চীনে যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি কতটুকু চাঙ্গা হবে, সে বিষয়ে এখনই মন্তব্য করা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন ক্যানাস। এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ অনিশ্চয়তায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

(এস আর /১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০)


Comment As:

Comment (0)