চীনে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৬২
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: চীনে করোনা ভাইরাসে আরও ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে এই ভাইরাসের সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৬২ জনে। প্রতিনিয়ত এই ভাইরাসে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
রবিবার (১৬ ডিসেম্বর) দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, নতুন করে চীনে যে ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ১৩৯ জনেই ছিলেন করোনা ভাইরাসের উৎসস্থল হুবেই প্রদেশের বাসিন্দা। তার মধ্যে শতাধিক আবার উহানের।
পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি থেকে মৃতের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। আর ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতিদিনই মৃত্যু হচ্ছে শতাধিক মানুষের। এরই মধ্যে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও রোগের বিস্তার রোধে নানা কর্মসূচি নিয়েছে চীন। আর চিকিৎসা সহায়তা দিতে হুবেই প্রদেশে বাড়তি মিলিটারি মেডিকেল টিম পাঠানোর কথা জানানো হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কাউকে আক্রান্ত হিসেবে পাওয়া যায়নি। তবে গত ৯ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে মোট পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসী করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন।
চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহরের একটি বন্যপ্রাণীর বাজার থেকে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। একপর্যায়ে এই ভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি (হেলথ ইমার্জেন্সি) ঘোষণা করে ডব্লিউএইচও। এখন পর্যন্ত অন্তত ২৮টি দেশে শনাক্ত হয়েছে এই ভাইরাস।
চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে হংকং, ফিলিপাইন ও জাপানে একজন করে মোট তিনজন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। শনিবার এশিয়ার বাইরে ইউরোপের দেশ ফ্রান্সে চীনা এক নারী পর্যটক করোনায় মারা যাওয়ায় সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ জনে। এদিকে দেশটির রাজধানী বেইজিংয়ের বাসিন্দাদের মধ্যে যারা ছুটি শেষে নগরে ফিরছেন, তাদের বাধ্যতামূলকভাবে ১৪ দিনের পর্যবেক্ষণে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘অতিপ্রতিক্রিয়া’ দেখানোর অভিযোগ এনেছে চীন। দেশটির পরারাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আছে। সংক্রমণ হঠাৎ হয়েছে এবং চীনসহ পুরো বিশ্বই চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে। ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের সর্বাত্নক ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। আমার মতে, আর কারও পক্ষে এতটা সম্ভব হত না, কিন্তু চীন পেরেছে। এ সময় ভাইরাস প্রতিরোধের উছিলায় বাণিজ্য, ভ্রমণ এবং পর্যটন ক্ষতিগ্রস্ত করবে এমন পদক্ষেপ না নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
(এসআর /১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০)



