করোনা: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লি লকডাউন

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লি রাজ্য লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেল ৫টা থেকে আগামী ২৭ মার্চ বিকেল ৫টা পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে চলবে এই লকডাউন। আর দিল্লিতে সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৩১ মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত লকডাউন বলবৎ থাকবে।

রোববার (২২ মার্চ) উভয় রাজ্যের রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লকডাউনের সময়ে আপদকালীন পরিসেবা বাদ দিয়ে বাকি সবকিছু বন্ধ হচ্ছে কলকাতাসহ শহরগুলোতে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে কলকাতাসহ দেশের ৭৫ জেলা লকডাউনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। ওই প্রস্তাবে বলা হয়, রাজ্য সরকার চাইলে লকডাউনের এলাকা বাড়াতে পারে। তারপরই নবান্নের (পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দফতর) তরফ থেকে কলকাতাসহ রাজ্যের সব শহরকে লকডাউন করার বিজ্ঞপ্তি জারি হয়।

ভারতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তাতে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি কয়েকটি রাজ্যের চেয়ে অপেক্ষাকৃত ভালো। ভারতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩২ হলেও মমতা বন্দোপাধ্যায়ের রাজ্যে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৩। এমনকি গোটা ভারতে চারজনের মৃত্যু হলেও বাংলাকে এখনো এমন কোনো দুঃসংবাদ শুনতে হয়নি।

তবে ওই তিনজন করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হওয়ার আগে নিয়ম ভেঙে প্রকাশ্যে ঘুরেছেন বলে গোষ্ঠী সংক্রমণের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেজন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রাজ্যের সব শহরকে লকডাউন করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলো রাজ্য সরকার।

লকডাউনের সময় পুরোপুরি ঘরে থাকার জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় এবং অত্যাবশ্যক যেসব সামগ্রী দরকার, তা সংগ্রহ করে নিতে সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সময় পাবে রাজ্যবাসী। তবে লকডাউনের সময়ে জনতা যেন বিপদে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল, চিকিৎসা পরিকাঠামো, ওষুধের দোকানসহ নানা আপদকালীন সেবা চালু থাকবে।

এদিকে করোনা ঠেকাতে দেশজুড়ে সব ধরনের যাত্রীবাহী ট্রেন পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত মেইল, এক্সপ্রেস, প্যাসেঞ্জার, লোকালসহ সব ধরনের ট্রেন সেবা বন্ধ থাকবে।

অন্যদিকে করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে সকাল ৭টা থেকে ভারতজুড়ে ‘জনতা কারফিউ’শুরু হয়েছে। রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে এই কারফিউ। জনতা কারফিউয়ের কারণে রোববার সকাল থেকেই ফাঁকা বেশিরভাগ শহরের রাস্তাঘাট, বন্ধ দোকানপাট। জরুরি প্রয়োজনে অল্প কিছু লোক ঘর থেকে বের হচ্ছেন। রাস্তায় সরকারি বাস থাকলেও তাতে যাত্রী নেই বললেই চলে।

দিল্লিও লকডাউন

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে পশ্চিমবঙ্গের পর এবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে লকডাউন ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৩১ মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত দিল্লিতে লকডাউন বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আম আদমি পার্টির নেতা ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল বলেন, আমরা আগামীকাল (সোমবার) সকাল ৬টা থেকে ৩১ মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত দিল্লিতে লকডাউন আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

রোববার দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের স্বাস্থ্য, দিল্লি এবং পুরো জাতির জন্য আমরা দেশের রাজধানীতে লকডাউন আরোপের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।

দেশজুড়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় রোববার সকালের দিকে দিল্লি পুলিশ মানুষের চলাচল সীমিত করতে রাজধানীতে ১৪৪ ধারা আরোপ করে।

৩১ মার্চ পর্যন্ত আরোপিত লকডাউনের সময় দিল্লিতে কোনও ধরনের বিক্ষোভ-প্রতিবাদ কিংবা জনসমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দিল্লি পুলিশ বলছে, রাজধানীতে সব ধরনের সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ, পদযাত্রা এখন থেকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, শিক্ষা, ক্রীড়া, সেমিনারসহ সব ধরনের জনসমাবেশ এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে।

অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, ওষুধের দোকান, সাপ্তাহিক বাজার, শাক-সবজি, ফলমূল এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকান-পাট খোলা থাকবে। এছাড়া অন্যান্য সব দোকান, মার্কেট বন্ধ হয়ে যাবে।

এছাড়া আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্দ দেশটির সব মেট্রো স্টেশন বন্ধ থাকবে। দিল্লির পাশাপাশি ইতোমধ্যে মহারাষ্ট্রের মুম্বাই এবং অন্যান্য বেশ কয়েকটি শহরে ১৪৪ ধারা জারি ও সরকারি, বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

রোববার সকালের দিকে নাগাল্যান্ড, উত্তরাখণ্ড, রাজস্থান, পাঞ্জাব ও পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন সরকার পুরোপুরি শাটডাউন ঘোষণা করেছে। দেশটির সরকারি এক কর্মকর্তা বলেছেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকায় কেন্দ্রীয় সরকার ইতোমধ্যে দেশের অন্তত ৭৫টি জেলা পুরোপুরিা লকডাউন করে দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে কেজরিওয়াল বলেছেন, আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দিল্লিগামী সব ধরনের বিমানের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বন্ধ থাকবে। তিনি বলেন, লকডাউনের সময় গণপরিবহন সেবা বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি মেডিক্যাল সেবায় নিয়োজিত অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য সেবা চালু থাকবে।

কেজরিওয়াল বলেন, আমরা জানি মানুষ সমস্যার মুখোমুখি হবেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকানোর জন্য লকডাউন দরকার। এই লকডাউন চলাকালীন দিল্লির সীমান্ত সিলগালা থাকবে, তবে মানুষ জরুরি সব সেবা পাবেন।

(এসএএম/২২ মার্চ ২০২০)


Comment As:

Comment (0)