করেনায় সারাবিশ্বে আক্রান্ত প্রায় সাত লাখ; মৃত্যু ছাড়িয়েছে ৩২ হাজার
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: সারা বিশ্বে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ফলে সৃষ্ট রোগ কভিড-১৯-এ আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সাত লাখের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। গতকাল করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৩২ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু ইতালিতেই মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার পেরিয়েছে। খবর বিবিসি ও এএফপি।
জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএইচইউ) সেন্টার ফর সিস্টেমস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (সিএসএসই) তথ্যমতে, গতকাল রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সারা বিশ্বে কভিড-১৯ রোগ শনাক্ত হয়েছে ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৬২৩ জনের মধ্যে। ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে ৩২ হাজার ১১৩ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আর আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৯৬ জন।
কভিড-১৯-এ আক্রান্তের সংখ্যা বিবেচনায় শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে ১ লাখ ২৪ হাজার ৭৬৩ জন মানুষের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এরই মধ্যে কভিড-১৯-এ আক্রান্তদের মধ্যে দেশটিতে মারা গেছেন ২ হাজার ১৯৭ জন। মৃতদের মধ্যে নিউইয়র্কের ৬৭২ ও ওয়াশিংটনের ১৩৬ জন। চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৮২ হাজার ১২২ ও মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ১৮২।
শুধু ইউরোপেই মৃতের সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি। এর মধ্যে ইতালিতে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় ইতালিতে মৃতের তালিকায় যুক্ত হয়েছে ৮৮৯ জন। এর আগে দেশটিতে একদিনে সর্বোচ্চসংখ্যক ৯৭৯ জনের প্রাণহানি ঘটে। এই সময় পর্যন্ত ইতালিতে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া মানুষের সংখ্যা ৯২ হাজার ৪৭২। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১২ হাজার ৩৮৪ জন।
ইতালির পর এখন পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে স্পেনে। দেশটিতে গতকাল এ ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ৮৩৮ জনের। এ নিয়ে স্পেনে সর্বমোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬ হাজার ৫২৮। করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ৭৮ হাজার ৭৯৭ জনের মধ্যে। যুক্তরাজ্যে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ১৬ জনের। ইউরোপের দেশ জার্মানিতে করোনাভাইরাস বিধ্বংসী রূপে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটিতে এরই মধ্যে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫৮ হাজার ২৪৭-এ গিয়ে ঠেকেছে। মৃত্যু হয়েছে ৪৫৫ জনের। নিউজিল্যান্ডে করোনায় মারা গেছেন ৭০ বছর বয়সী এক নারী। দেশটিতে করোনায় প্রথম মৃত্যু এটি। নিউজিল্যান্ডে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫১৪।
করোনায় সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটে জার্মানির হেসে প্রদেশের অর্থমন্ত্রী থমাস শেফারের ছিন্নভিন্ন মরদেহ মিলেছে রেললাইনের পাশে। ধারণা করা হচ্ছে, করোনাভাইরাসের মহামারীতে বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে কী করে টেনে তুলবেন—এ দুশ্চিন্তা কেড়ে নিয়েছে তার প্রাণ। শনিবার ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মাইনজের মধ্যবর্তী হোচাইম শহরে হাইস্পিড ট্রেন লাইনের পাশ থেকে শেফারের ছিন্নভিন্ন দেহ উদ্ধার হয়। গোটা শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়ায় প্রথমে তাকে চেনা যাচ্ছিল না। মনে করা হচ্ছে, চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়েই তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ বছর হেসের অর্থমন্ত্রী ছিলেন শেফার। করোনা আক্রমণের পর কীভাবে অর্থনৈতিক মোকাবেলা করা যায়, তা নিয়ে খুবই চিন্তিত ছিলেন তিনি। দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর তিনি সবসময় এ নিয়ে কাজ করছিলেন।
বিশ্বের অধিকাংশ দেশই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন রকম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে। করোনাভাইরাস সংকট ‘ভালো হওয়ার আগে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে’ বলে সতর্ক করেছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। যুক্তরাজ্যের কেবিনেট অফিস মন্ত্রী মাইকেল গাভ সতর্ক করেছেন যে বর্তমান লকডাউন পরিস্থিতি দীর্ঘ হতে পারে। স্কটল্যান্ডের প্রধান মেডিকেল অফিসার ক্যাথরিন ক্যাল্ডারউড বলেছেন যে চলাফেরার সীমাবদ্ধতা ১৩ সপ্তাহ পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে।
গত ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রথম শনাক্ত হয়। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৯৯টি দেশ বা অঞ্চলে এ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে।
(এএইচএন/ ৩০ মার্চ, ২০২০)



