আঞ্চলিক অর্থনীতির পুনর্গঠনে এক ট্রিলিয়ন ইউরোর তহবিল গঠন করবে ইইউ
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: বৈশ্বিক মহামারী নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে টালমাটাল আঞ্চলিক অর্থনীতির পুনর্গঠনে ১ ট্রিলিয়ন ইউরোর তহবিল গঠন বিষয়ে একমত হয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা।
এক বিবৃতিতে তারা জানান, বর্তমানে ইউরোপ যে অভূতপূর্ব সংকটের সম্মুখীন হয়েছে, তা সামাল দিতে এ তহবিল পর্যাপ্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তহবিলের অর্থ ব্যয় করা হবে অঞ্চলটির সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খাত ও ভৌগোলিক এলাকার পুনর্গঠনে। খবর সিএনএন বিজনেস।
খবরে বলা হয়, কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এক ভিডিও কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেন ইইউর ২৭ দেশের সরকারপ্রধানরা। এরপর তারা অঞ্চলটির ২০২১-২৭ সালের বাজেটের সঙ্গে পুনরুদ্ধার তহবিলের সমন্বয় প্রক্রিয়া নিয়ে ইউরোপীয় কমিশনকে জরুরি ভিত্তিতে বিস্তারিত প্রস্তাব পেশ করার জন্য বলেন।
তহবিল গঠনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, আমাদের পুরো বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করতে হবে। তবে আমরা বিলিয়ন নিয়ে কথা বলছি না, আমরা ট্রিলিয়ন ইউরোর কথা ভাবছি।
এদিকে ইইউ নেতারা এরই মধ্যে অন্তত ৫০ হাজার কোটি ইউরোর একটি জরুরি পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা প্যাকেজে স্বাক্ষর করেছেন। এ প্যাকেজের আওতায় শ্রমিক ছাঁটাই রোধে মজুরি ভর্তুকি দেয়া হবে ১০ হাজার কোটি ইউরো। এছাড়া ঋণ দেয়া হবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ইইউ সরকারগুলোকেও।
নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণজনিত চলমান সংকট মোকাবেলায় ইইউ সরকারগুলো জাতীয় পর্যায়ে এরই মধ্যে হাজার হাজার কোটি ইউরোর প্রণোদনা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এর মধ্য দিয়ে চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে অঞ্চলটি ১৯৩০ সালের মতো অর্থনৈতিক মন্দায় না পড়ে। মূলত ১৯৩০ সালের পর বৈশ্বিক অর্থনীতি এত বড় মন্দায় আর কখনই পড়েনি। আর এ অবস্থা থেকে উত্তরণের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলছে, চলতি বছর ইইউর জিডিপির পতন হতে পারে ৭ শতাংশ। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক উপাত্ত অনুযায়ী, মার্চ-এপ্রিলে অঞ্চলটির অর্থনৈতিক কার্যক্রম হ্রাস পেতে পারে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে শক্তিশালী ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে। তবে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন তহবিল ব্যবহারের বিষয়ে এখনো কিছু মতপার্থক্য থেকে গেছে। বিশেষ করে ইতালি ও স্পেনের মতো অধিক ক্ষতির শিকার দেশগুলোয় ঋণ কিংবা অনুদান দেয়া হবে কিনা, তা নিয়ে আরো আলোচনার প্রয়োজন। সরাসরি অনুদান কিংবা অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে সব দেশকেই ঋণের বোঝা ভাগ করে নিতে হবে। কিন্তু নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়া ও জার্মানির মতো দেশ বেশ আগে থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে। তার পরও ইইউ নেতারা সামগ্রিক ঐক্যের বিষয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
মাখোঁ বলেন, বর্তমানের অভিন্ন বাজার ইউরোপের বিশেষ কিছু দেশ বা অঞ্চলকে সুবিধা প্রদান করছে। দেখা গেছে এসব দেশ বা অঞ্চল উৎপাদনে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে। ফলে তারা তাদের উৎপাদিত পণ্য অন্য অঞ্চলে বিক্রি করতে পারছে। তবে আমরা যদি এসব অঞ্চলকে সহায়তা থেকে বঞ্চিত করি বা বাদ দিই, তাহলে পুরো ইউরোপই ক্ষতির মুখে পড়বে।
এক সপ্তাহ আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ইইউ এক কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীন। এ মুহূর্তে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সংহতি নিশ্চিত না হলে পুরো অঞ্চলের ওপর ঝুঁকি সৃষ্টি হবে।
এদিকে এর আগে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জোসেপ্পে কন্তে মহামারীর প্রেক্ষাপটে ইইউর প্রতিক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু ভিডিও কনফারেন্সের পর ট্রিলিয়ন ইউরোর তহবিল গঠনের সিদ্ধান্তে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এটি খুবই জরুরি ছিল। কারণ চলমান সংকট মোকাবেলায় এ তহবিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইতালি এ বিষয়ে আগে থেকেই দাবি তুলে আসছিল।
(এসএএম/২৬ এপ্রিল ২০২০)



