কর্মী ছাঁটাইয়ে বাধ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ আইকনিক ডিপার্টমেন্ট স্টোর

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: চলমান নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ বিখ্যাত ও আইকনিক ডিপার্টমেন্ট স্টোরের ব্যবসায় ব্যাপক মন্দাবস্থা দেখা দিয়েছে। আর এ কারণে এসব আইকনিক প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন দোকান বন্ধ রাখার পাশাপাশি কর্মী ছাঁটাইয়ে বাধ্য হয়েছে। ফলে আরো খারাপ হচ্ছে আগে থেকেই অনিশ্চিত আর্থিক পরিস্থিতি। খবর এএফপি।

জানা গেছে, নিউইয়র্কের এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের অদূরে পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য দ্য ম্যাসি’জ ডিপার্টমেন্ট স্টোর। কিন্তু চলমান নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবসানের পর দর্শনার্থীরা হয়তো বিখ্যাত ব্র্যান্ডটির এ বিপণিবিতান আর দেখতে পাবেন না। শুধু ম্যাসি’জই নয়, বৈশ্বিক এ মহামারীর আঘাতে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নর্ডস্ট্রম ও জেসিপেনির মতো শীর্ষ ও আইকনিক ডিপার্টমেন্ট স্টোর চেইনগুলো। এরই মধ্যে কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন দোকান বন্ধ রাখার পাশাপাশি কর্মী ছাঁটাইয়ে বাধ্য হয়েছে। ফলে আরো খারাপ হচ্ছে আগে থেকেই অনিশ্চিত আর্থিক পরিস্থিতি।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধে লকডাউন ঘোষণার পর মার্চে দেশটিতে পোশাক ও আনুষঙ্গিক পণ্য বিক্রি কমে গেছে অর্ধেকেরও বেশি। এপ্রিলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট স্টোরগুলো আদৌ টিকে থাকতে পারবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। এ বিষয়ে খুচরা বিক্রি ও ফ্যাশন কনসালট্যান্সি রবার্ট ব্রুক অ্যাসোসিয়েটসের রবার্ট ব্রুক বলেন, ‘আমার ধারণা আমরা দেউলিয়া হতে যাচ্ছি। এরপর পরিস্থিতি আর কখনই আগের মতো থাকবে না।’

ব্যাংকিং সূত্র জানিয়েছে, বছরের এই সময়ে ম্যাসি’জের গ্রীষ্মকালীন পোশাক নিয়ে প্রস্তুতি নেয়ার কথা। কিন্তু তা না করে কোম্পানিটি উল্টো টিকে থাকার জন্য তহবিল সংগ্রহ করছে। বিখ্যাত এ চেইন গত মার্চে তাদের বিক্রয়কেন্দ্রগুলো বন্ধ করতে বাধ্য হয়। এরপর ছুটিতে পাঠানো হয় কোম্পানিটির ১ লাখ ৩০ হাজার কর্মীর অধিকাংশকে। তারা এখন নতুন করে কোনো কর্মী নিয়োগ করছে না। একই সঙ্গে বাতিল করে দিচ্ছে বেশির ভাগ অর্ডার। ব্লুমিংডেলস ও ব্লুমার্কিউরি ব্র্যান্ডেরও মালিক এ কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিক্রয়কেন্দ্র বন্ধ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বিক্রি কমেছে সিংহভাগ। এমনকি চলতি মাসের বিক্রিতেও উন্নতির তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে রেটিং এজেন্সি এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল।

এদিকে ম্যাসি’জের মতো একই সংকটের মধ্যে আছে জেসিপেনি ও নর্ডস্ট্রম। বিনিয়োগ ব্যাংক কাউয়েনের বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে কোম্পানি দুটি আর বড়জোর আট মাস টিকে থাকতে পারবে। একইভাবে কোহল’স টিকে থাকতে পারবে পাঁচ মাসের মতো। অন্যদিকে পরিস্থিতি বিবেচনায় পুনর্গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে লর্ড ও টেইলরের মতো কোম্পানি। তবে এ খাতে সম্ভবত সবার আগে দেউলিয়া হতে যাচ্ছে বিলাসবহুল ডিপার্টমেন্ট স্টোর নেইম্যান মারকাস।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিক্রয়কেন্দ্র বন্ধ থাকা ছাড়াও আরো কিছু বিষয় ডিপার্টমেন্ট স্টোর কোম্পানির জন্য দুর্ভাগ্য বয়ে আনতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, অনলাইনভিত্তিক কেনাকাটায় উল্লম্ফন ও ক্রেতাদের রুচির পরিবর্তন। এক্ষেত্রে অনলাইন বিক্রয়মাধ্যম অ্যামাজন এবং এইচঅ্যান্ডএম ও জারার মতো ‘ফাস্ট ফ্যাশন’ ব্র্যান্ডের সফলতা ডিপার্টমেন্ট স্টোরগুলোকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। এ অবস্থায় টিকে থাকতে হলে কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদেরকে নতুন করে ভাবতে হবে। এরই মধ্যে অনেক চেইন ডিপার্টমেন্ট স্টোর কোম্পানি নিজস্ব ই-কমার্স সাইটের পাশাপাশি ইয়োগা ক্লাস চালুরও উদ্যোগ নেয়। কিন্তু তাদের মূল বিক্রয় কার্যক্রম স্টোরভিত্তিক হওয়ায় এসব উদ্যোগ বরং উল্টো ক্ষতির কারণ হয়েছে।

তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে অতীতেও এ ধরনের কোম্পানির নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার নজির রয়েছে। যেমন বিখ্যাত ডিপার্টমেন্ট স্টোর কোম্পানি সিয়ার্স মালিকানা হারিয়েছে একটি হেজ ফান্ডের কাছে। অন্যদিকে আমেরিকার পুরুষদের ফ্যাশনে নিউইয়র্কভিত্তিক ঐতিহাসিক কোম্পানি বার্নিজ দেউলিয়া হয় গত বছর। বর্তমানে ম্যাসি’জ, নর্ডস্ট্রম ও জেসিপেনির মতো মারাত্মক অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের মালিক কোম্পানি এল ব্র্যান্ডসও।

এ অবস্থায় ব্রুক জানান, কোনো না কোনোভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ডিপার্টমেন্ট স্টোরগুলোর সংকোচন হচ্ছেই। যারা টিকে থাকবে, তাদেরকে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানোর জন্য নতুন পথ খুঁজে বের করতে হবে।

(এসএএম/০২ এপ্রিল ২০২০)


Comment As:

Comment (0)